বংশগতি: পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে সন্তানসন্ততির দেহে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো "বংশগতি”।
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্ত শূন্যতায় ভোগে। এই রোগ বংশ পরম্পরায় হয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বংশবাহিত রক্তজনিত সমস্যা। লোহিত রক্তকোষ দু'ধরনের প্রোটিন দ্বারা তৈরি, ৫ গ্লোবিউলিন এবং ẞ গ্লোবিউলিন। থ্যালাসেমিয়া হয় লোহিত রক্ত কোষে এ দু'টি প্রোটিনের জিন নষ্ট বা অনুপস্থিত থাকার কারণে।
উদ্দীপকের চিত্র 'P' হলো DNA। নিম্নে DNA অনুলিপনের পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
এই প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু থেকে আর একটি নতুন DNA অণু তৈরি হয় বা সংশ্লেষিত হয়। DNA অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়। এই পদ্ধতিতে DNA সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয়। তখন কোষের ভিতর ভাসমান নিওক্লিওটাইডগুলো থেকে A-এর সাথে T,T আর সাথে A, C- এর সাথে G এবং G- এর সাথে C যুক্ত হয়ে সূত্রদুটি তার পরিপূরক নতুন সূত্র তৈরি করে। পরে একটি পুরাতন সূত্র ও একটি নতুন সূত্র সংযুক্ত হয়ে DNA অণুর সৃষ্টি হয়। একটি পুরাতন মাতৃ সূত্রক এবং একটি নতুন সৃষ্ট সূত্রকের সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধ-রক্ষণশীল 1956 সালে Watson ও Crick DNA অনুলিপন পদ্ধতি বলে। প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করেন।
উদ্দীপকের চিত্র 'Q' এর M ও F দ্বারা যথা: পুরুষ ও স্ত্রী দেহের সেক্স ক্রোমোজোম দেখানো হয়েছে। লিঙ্গ নির্ধারণে এই সেক্স ক্রোমোজোম প্রধান ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
মানবদেহে প্রতিটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ বা ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ৪৪টিকে বা ২২ জোড়াকে অটোজোম এবং এক জোড়াকে সেক্স ক্রোমোজোম বলা হয়। সেক্স ক্রোমোজোম দুটি X এবং Y নামে পরিচিত। স্ত্রী লোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ (XX)। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ (XY)। ডিম্বাণু (X) পুরুষের X বা Y বহনকারী যে কোনো একটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোট দুটি X অথবা একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি X নিয়ে অর্থাৎ XX এবং একটি নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে মেয়ে, আর যে শিশু একটি X এবং একটি Y নিয়ে অর্থাৎ XY ক্রোমোজোম নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে ছেলে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা অপরিসীম।
