জেরোফথ্যালমিয়া: ভিটামিন এ এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া নামক রোগ হয়।
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্তকণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এছাড়াও লৌহ, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি১২ ইত্যাদির অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা যায়।
উদ্দীপকে চিত্র 'A' এর খাদ্যগুলো হলো মাছ ও মাংস যা মূলত আমিষ জাতীয় খাদ্য। নিচে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ব্যাখ্যা করা হলো:
মুখগহ্বরে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাককারী এনজাইমের অভাবে তাতে খাদ্যের কোনরূপ পরিবর্তন না হলেও এ অংশে খাদ্যবস্তুটি চূর্ণ বিচূর্ণ হয় ও তা অন্ননালির মাধ্যমে পাকস্থলীতে পৌঁছে।পাকস্থলীতে খাদ্য আসার পর অন্তঃপ্রাচীরের গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। এই রসে HCI ও পেপসিন থাকে। হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের মধ্যে কোনো অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা মেরে ফেলে, নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে এবং পাকস্থলীতে পেপসিনের সুষ্ঠ কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে। এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে। এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে। পাচকরসের এনজাইম দিয়ে আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে। আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের চিত্র B এর খাদ্যগুলো হলো কমলা ও পাকা পেঁপে। উভয় প্রকার খাদ্যই শর্করা জাতীয়। এছাড়াও এতে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ ও ভিটামিন (যেমন: ভিটামিন C, ভিটামিন A ইত্যাদি)। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপরোক্ত খাদ্যগুলোর গুরুত্ব নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
জীবদেহে কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব অপরিসীম। শর্করা জাতীয় খাদ্য শরীরের কাজ করার শক্তি জোগায়। জীবদেহের গঠন ও বিভিন্ন রকম জৈবিক কাজেও কার্বোহাইড্রেটের ভূমিকা রয়েছে। সকল জীবদেহে কার্বোহাইড্রেট শক্তির মজুদ ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। বিপাক ক্রিয়ায় সরল শর্করা জারিত হয়ে জীবের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন হয়। এক গ্রাম শর্করা জারণে 4.0kCal শক্তি উৎপন্ন হয়। উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল বীজে শর্করা বিভিন্ন রূপে জমা থাকে।
এছাড়াও, ভিটামিন দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। দেহের বৃদ্ধি ও সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক। নিয়মিত ভিটামিন বিহীন খাবার খেলে কিছু দিনের মধ্যে দেহে ভিটামিনের প্রভাবজনিত সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: ভিটামিন A এর অভাবে রাতকানা, জেরোফথ্যালমিয়াসহ নানারকম রোগ হয় এবং ভিটামিন 'C' এর অভাবে নাক ও মুখ থেকে রক্তক্ষরণ ও স্কার্ভি নামক রোগ হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহের শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
