| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ট্রান্সক্রিপশনের সময় ইনট্রোনকে এনজাইমের সাহায্যে কেটে অপসারণ করে তাঁর পার্শ্ববর্তী এক্সোনগুলোকে পুনরায় জোড়া দিয়ে সংযুক্ত করার ঘটনাই হলো জিন স্প্লাইসিং।
কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক।
প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত হয় অর্থাৎ কোষই জীবদেহের গঠন একক। আবার কোষের ভেতরই জীবের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। এ কারণেই কোষকে জীবদেহের গঠন ও কাজের একক বলা হয়।
উদ্দীপকের P হলো ক্রোমোসোম। D হলো সেন্ট্রোমিয়ার।
সেন্ট্রোমিয়ার এর অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম চার আকৃতির হয়। যথা-
(i) মধ্যকেন্দ্রিক বা মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে অবস্থিত তাকে মধ্যকেন্দ্রিক বা মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো দেখায়। Solanum nigrum এর সবকটি ক্রোমোসোমই মধ্যকেন্দ্রিক।
(ii) উপ-মধ্যকেন্দ্রিক বা সাব-মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি মধ্যখান থেকে এক পাশে অবস্থিত তাকে উপ-মধ্যকেন্দ্রিক বা সাব-মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘L' অক্ষরের মতো দেখায়।
(iii) উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক বা অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি কোনো এক প্রান্তের কাছাকাছি অবস্থিত তাকে উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক বা অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি অনেকটা ইংরেজি 'J' অক্ষরের মতো দেখায়।
(iv) প্রান্তকেন্দ্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি একেবারে প্রান্তভাগে অবস্থিত তাকে প্রান্তকেন্দ্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি অনেকটা ইংরেজি 'I' অক্ষরের মতো বা একটি দণ্ডের মতো দেখায়। উদ্ভিদে সাধারণত প্রান্তকেন্দ্রিক ক্রোমোসোম থাকে না। মানুষের টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম নেই।
চিত্রে Q হলো DNA এবং R হলো RNA। DNA এর জেনেটিক তথ্য RNA তে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ার নাম ট্রান্সক্রিপশন।
DNA অনুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA বা mRNA অনুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন বলে। এ প্রক্রিয়াটি নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. অনুর যে টুকু জায়গা ১টি mRNA অনুকে ট্রান্সক্রিপ্ট করে তাকে ট্রান্সক্রিপশন একক বলে।
২. ট্রান্সক্রিপশনের শুরুতেই ট্রান্সক্রিপশন এককের নির্দিষ্ট স্থানে হেলিকেজ এনজাইমের প্রভাবে DNA এর সূত্রগুলোর মধ্যকার হাইড্রোজেন বন্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সূত্রগুলো পৃথক হয়ে পড়ে।
৩. পৃথক DNA সূত্রের 3’-5’ অভিমূখী সূত্রটি mRNA তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং 5’-3’ অভিমুখে RNA এর ট্রান্সক্রিপশন শুরু হয়।
৪. RNA এর যে সূত্রটি ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ট্রান্সক্রাইবিং সূত্র বলে এবং অপর DNA সূত্রটিকে কমপ্লিমেন্টারী সূত্র বলে।
৫. RNA পলিমারেজ এনজাইমের প্রভাবে ট্রান্সক্রাইবিং শুরু হয়। ছাঁচ DNA সূত্রের 3’–5’ অভিমুখে একটি করে নিউিইক্লওটাইড ধরে অগ্রসর হয় এবং পরিপূরক ক্ষারক যুক্ত করে mRNA উৎপন্ন করে। এ ক্ষেত্রে ট্রন্সক্রাইবিং সূত্রের A,T,G,C ক্ষারকের বিপরীতে যথাক্রমে UTP, ATP, GTP ও CTP সংযুক্ত হয়। একই সাথে পিছনে DNA ডাবল হেলিক্স পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬. তৈরিকৃত mRNA সূত্রটি হবে ছাঁচ DNA সূত্রের বিপরিত কিন্তু কমপ্লিমেন্টারী সূত্রের অনুরুপ। শুধুমাত্র DNA এর থায়ামিনের (T) বদলে mRNA তে ইউরাসিল (U) যুক্ত হবে।
ট্রান্সক্রিপশন শেষে RNA পলিমারেজ এনজাইম ট্রন্সট্রাইবিং সূত্র থেকে পৃথক হয়ে যায়। এভাবে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।