যখন দুই ধরনের জননকোষ আলাদা আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন তাকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে।
পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো পর-পরাগায়ন। একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। পেঁপে গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে বলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। মূলত এভাবেই পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের P হলো পুংগ্যামেট বা পুংগ্যামেটোফাইট। নিচে পুংগ্যামেটোফাইট সৃষ্টির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
পরাগরেণু পুংগ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। পরাগরেণু দ্বি-স্তরবিশিষ্ট। বাইরের স্তরটি অমসৃণ এবং ভিতরের স্তরটি মসৃণ। বাইরের স্তরে জার্মপোর বা পরাগরন্দ্র থাকে। পরাগরেণু পরাগধানীতে থাকা অবস্থায়ই নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুইটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। ছোটটিকে জনন নিউক্লিয়াস এবং বড়টিকে নালিকা নিউক্লিয়াস বলে। পরাগরেণু উপযুক্ত গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়ার পর রস শোষণ করে স্ফীত হয়। ভিতরের স্তরটি পরাগরন্ধ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং পরাগনালিকা গঠন করে। নালিকা নিউক্লিয়াসটি পরাগ নালিকার সামনে থাকে। জনন নিউক্লিয়াসটি পিছনে থাকে। ডিম্বকরন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছালে জনন নিউক্লিয়াস মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুইটি পুংগ্যামেট তৈরি করে।
উদ্দীপকের চিত্রে P ও Q হলো যথাক্রমে পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু এবং স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
নিচে নিষেকের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো-
নিষেকের ফলে পরবর্তীতে ফুলের গর্ভাশয় ফলে এবং ডিম্বকসমূহ বীজে পরিণত হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে বীজও পরিপক্ব হয়। এ পরিপক্ব বীজ হতে পরবর্তীতে অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। উদ্ভিদের এই ফল ও বীজ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। অপরদিকে নিষেককালীন সময়ে গৌণ নিউক্লিয়াস সস্য টিস্যু উৎপন্ন করে। এ সস্যগুলো ট্রিপ্লয়েড। এগুলোও খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়। অর্থাৎ সংক্ষেপে বলতে গেলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে ডিম্বক ও গর্ভাশয় সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে পরবর্তী বংশধরের সূচনা করে।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পূর্ণ প্রাণিজগতকে টিকিয়ে রাখে এবং বিরামহীনভাবে খাদ্যের যোগান দিতে থাকে।
তাই উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে P বা পুংগ্যামেট এবং Q বা স্ত্রীগ্যামেট এর মিলন অর্থাৎ নিষেকের মাধ্যমেই ফল ও বীজের সৃষ্টি হয়।
