বিশ্রামরত অবস্থায় আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎপিণ্ড প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট পেশিগুলোর সংকোচন প্রসারণে সংঘটিত কাজ যে শক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত হয় তাকে মৌল বিপাক শক্তি বলে।
অ্যাপেনডিসাইটিস হলো পেটের ডান দিকে অবস্থিত বৃহদন্ত্রের সিকামের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপেনডিক্সের প্রদাহ। এ রোগে প্রথমে নাভির চারদিকে ব্যথা অনুভূত হয় এবং ব্যথা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তলপেটের ডান দিকে সরে যায়। তাই এই রোগ হলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে অ্যাপেনডিক্স অপসারণের ব্যবস্থা করতে হয়। কারণ এ অঙ্গে সংক্রমণ মারাত্মক হলে এটি ফেটে যেতে পারে যা রোগীর জন্য মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত G অংশটি হলো পাকস্থলী।
পাকস্থলীতে যেভাবে খাদ্য পরিপাক হয় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-খাদ্য মুখগহ্বর থেকে অন্ননালির মধ্য দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। পাকস্থলীতে খাদ্য আসার পর অন্তঃপ্রাচীরের গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। এই রসগুলো খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। গ্যাস্ট্রিক রসে প্রধানত হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পেপসিন নামক এনজাইম থাকে। হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যে ক্ষতিকর অণুজীবকে ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে।
এই সক্রিয় পেপসিন আমিষ জাতীয় খাবারকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত যৌগ পলিপেপটাইডে রূপান্তরিত করে। পাকস্থলীতে মূলত আমিষজাতীয় খাবারই পরিপাক হয়, কিন্তু শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার পরিপাক হয় না। কারণ শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলো পাকস্থলীতে অনুপস্থিত। উপরিউক্ত এনজাইমের ক্রিয়া ছাড়াও পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসারণের কারণে খাদ্য মিশ্রমণ্ডে পরিণত হয়, যা অনেকটা স্যুপের মতো। এটি পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। মূলত এভাবে পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকের 'H' অংশ হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত যা খাদ্য পরিপাকের সাথে সাথে পরিশোষণেও অংশ নেয়। নিচে এ সম্পর্কে মতামত করা হলো-
পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করলে অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে চলে আসে। এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং এর এনজাইম দ্বারা শর্করা ও আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহ পদার্থের পরিপাক শুরু হয়। অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ শর্করা খাদ্য পরিপাকে ও গ্লুকোজ তৈরিতে সাহায্য করে। আন্ত্রিক রসে ট্রিপসিনের সাহায্যে আমিষ ভেঙে অ্যামাইনো এসিড ও সরল পেপটাইডে পরিণত হয় এবং লাইপেজ স্নেহকে ভেঙে ফ্যাটি এডিসে পরিণত করে। এভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হবার পর খাদ্যগুলো সরল শোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানে পরিবর্তিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে প্রতিটি ভিলাসের মধ্যস্থলে ল্যাকটিয়াল নামক লসিকা নালি রক্তের কৈশিক নালির জালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। এখানে পরিপাককৃত শোষণযোগ্য খাদ্যরস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ভিলাসের প্যাকটিয়ালে শোষিত হওয়ার পর লসিকা দ্বারা বাহিত হয়ে রক্ত স্রোতে মিশে। কৈশিক নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রাবাহিত হওয়ার সময় নালির প্রাচীর ভেদ করে জলীয় পদার্থ বের হয়। এই জলীয় পদার্থকে লসিকা বলে। লসিকা খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে কোষে পৌঁছে দেয় এবং দূষিত পদার্থ সংগ্রহ করে রক্তস্রোতে ফিরে আসে।
এভাবে ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাকের সাথে সাথে পরিশোষণেও অংশ নেয়।
