যৌগমূলক হচ্ছে একাধিক মৌলের একাধিক পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি পরমাণুগুচ্ছ যা একটি আয়নের ন্যায় আচরণ করে।
ধাতব মৌলের ক্ষেত্রে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের যোজনী বলে। ম্যাগনেশিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 12। Mg এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ-
ম্যাগনেশিয়াম মৌলের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ২টি ইলেকট্রন বিদ্যমান।
তাই ম্যাগনেশিয়ামের যোজনী 2।
উদ্দীপকের C ও A এর প্রোটন সংখ্যা যথাক্রমে 11 ও 1। সুতরাং মৌল দুইটি হলো- Na ও H । এ মৌল দুইটি দ্বারা গঠিত আয়নিক যৌগের (NaH) বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া ডায়াগ্রামের সাহায্যে নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-H ও Na এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ-
Na এর সর্ববহিঃস্থ স্তরের 1টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে আয়নে পরিণত হয় এবং হাইড্রোজেন Na কর্তৃক ত্যাগকৃত ইলেকট্রন গ্রহণ করে আয়নে পরিণত হয়। সুতরাং সোডিয়াম ও হাইড্রোজেনের মাঝে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়।
এরূপ অবস্থায় NaH আয়নিক যৌগের বন্ধন গঠনকে ডায়াগ্রামের মাধ্যমে নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
অতএব, NaH একটি আয়নিক যৌগ।
উদ্দীপকের A, B ও D এর প্রোটন সংখ্যা যথাক্রমে 1, 6 ও 17 । সুতরাং মৌল তিনটি হলো, হাইড্রোজেন, কার্বন ও ক্লোরিন। এ মৌল তিনটি দ্বারা গঠিত ও HCI যৌগ দুইটি একই প্রকৃতির হলেও HCI পানিতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
CI পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা (3.0) H পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতার (2.2) চেয়ে বেশি হওয়ায় HCI এর বন্ধনে শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড় CI পরমাণুর দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। ফলে CI পরমাণু আংশিক ঋণাত্মক এবং H পরমাণু আংশিক ধনাত্মক চার্জ প্রাপ্ত হয়।
এভাবে আংশিক ধনাত্মক আয়ন পানির ঋণাত্মক প্রান্ত কর্তৃক এবং আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত পানির ধনাত্মক প্রান্ত কর্তৃক আকৃষ্ট হয়।
ফলে HCI পানিতে দ্রবীভূত হয়। নিচে তা দেখানো হলো-
অপরদিকে একটি সমযোজী যৌগ। কার্বন ও হাইড্রোজেন পরস্পরের সাথে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। সমযোজী যৌগ পোলার দ্রাবকের সংস্পর্শে আসলেও ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্তে পরিণত হতে পারে না। এ কারণে পোলার দ্রাবকের বিপরীতধর্মী আধানের সাথে যুক্ত হতে পারে না।
অতএব সমযোজী যৌগ এর এরূপ কোনো বিপরিত আধান বিশিষ্ট মেরু সৃষ্টি না হওয়ায় তা পোলার দ্রাবক পানিতে দ্রবণীয় নয়।
