| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
কোনো বস্তু বা বিষয়ের সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ঘটলে মায়ুতন্ত্র উদ্দীপিত হয়, ফলে দেহে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই প্রতিক্রিয়াই হলো আচরণ।
মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতি প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অভাব অনটন যেমন গরিবকে ভাগিয়ে তোলে প্রাচুর্যের আতিশয্যও তেমনি ধনীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্লাসে প্রথম হবার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা ছাত্রের চোখের ঘুম কেড়ে নেয়, আর নাওয়া খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে বিজ্ঞানী সদা ব্যস্ত থাকেন তার নিত্য নতুন আবিষ্কারের সাধনায়। এমনই করে নিরন্তর চলছে মানসিক প্রক্রিয়ার কার্যকলাপ। অর্থাৎ মানসিক প্রক্রিয়া বলতে এরূপ সকল মানসিক কার্যকলাপকে বোঝায় যেগুলো সরাসরি বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না। আবেগ এমন মানসিক কার্যকলাপ যা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, আবেগ একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
মনোবিজ্ঞানের পরিধি হিসেবে উদ্দীপকের "গ" অংশটি জৈব সামাজিক প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। নিচে জৈব সামাজিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
মানুষ বা প্রাণী জৈবিক ঘটনাবলি দ্বারা প্রভাবিত। প্রাণীর জৈবিক ঘটনাবলি যেমন- শারীরিক গঠন, জৈব-রাসায়নিক উপাদান, প্রভৃতি এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেহের অভ্যন্তরে এমন কতগুলো গ্রন্থি আছে যেগুলো দেহের গঠন, বুদ্ধির বিকাশ, দেহের সুস্থতা, কার্যক্ষমতা এবং আমাদের ব্যক্তিত্বের উপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রন্থিগুলো শরীরের বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ, ব্যক্তিত্বের বিকাশ প্রভৃতি প্রয়োজনীয় কাজ করে।
আবার অন্যদিকে মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজে বসবাস করে। একজন মানুষের আচরণ যেমন অন্য জনের আচরণকে প্রভাবিত করে তেমনি অন্যের আচরণ দ্বারাও সে প্রভাবিত হয়। কোনো সমাজের রীতিনীতি, কৃষ্টি ও অর্থ- সামাজিক অবস্থা সে সমাজের মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে। জৈবিক ঘটনাবলি মানব আচরণ নিয়ন্ত্রণে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি প্রভৃতির ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। তাই বলা যায় মনোবিজ্ঞানের পরিধিতে জৈব সামাজিক প্রক্রিয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
দৃশ্যকল্প-২ এ “ক” ও “খ” আচরণের প্রকারভেদ সামগ্রিক আচরণ ও খণ্ডিত আচরণ এবং ঐচ্ছিক আচরণ ও অনৈচ্ছিক আচরণকে নির্দেশ করে। নিচে এগুলোর তুলনামূলক আলোচনা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. সামগ্রিক আচরণ ও খণ্ডিত আচরণ: আচরণকে আমরা সামগ্রিকভাবে দেখে থাকি আবার খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্নভাবেও দেখে থাকি। সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয়। আর খণ্ডিত বা আণবিক আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে খণ্ড খণ্ড উপাদানে বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন- নেতার ভাষণ একটি সামগ্রিক আচরণ, আবার তার হাত নাড়ানো, কথা বলা, ঠোঁটের অঙ্গভঙ্গি, চোখের পলক পড়া, নড়াচড়া করা ইত্যাদি খণ্ডিত আচরণ।
২. ঐচ্ছিক আচরণ ও অনৈচ্ছিক আচরণ: যেসব আচরণ ব্যক্তি সচেতন ভাবে করে অর্থাৎ যে সকল আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করে সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন- কথা বলা, হাঁটা, খাবার খাওয়া ইত্যাদি। আবার কতগুলো আচরণ আছে যেগুলো ব্যক্তির ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন- হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রভৃতি।