| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
বিভিন্ন লোকাসে অবস্থিত নন-অ্যালিলিক জিনের একটি গ্রুপ সম্মিলিতভাবে কোনো জীবের একটি পরিমানগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করলে তখন সেই জিন-গ্রুপকে পলিজিন বলে।
যেকোনো দুটি বা ততোধিক প্রজাতির মধ্যে বাঁচার জন্য যে প্রতিযোগিতা ঘটে তাকেই আন্তঃপ্রজাতিক বা বিষম প্রজাতির সঙ্গে সংগ্রাম বলে। যেমন- ব্যাঙ একদিকে কীটপতঙ্গ ভক্ষণ করে, অন্যদিকে ব্যাঙ সাপ কর্তৃক ভক্ষিত হয়। আবার ময়ূর কর্তৃক ব্যাঙ ও সাপ উভয়েই ভক্ষিত হয়। এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কযুক্ত এক নিখুঁত বাস্তব জীবন সংগ্রাম গড়ে উঠে।
উদ্দীপকের জনুর ফলাফল নিচে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে দেখানো হলো-
ধরি, নিগ্রো ব্যক্তির জিনোটাইপ এবং শ্বেতাঙ্গ স্ত্রীলোকের জিনোটাইপ
উদ্দীপক অনুসারে জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে বৈচিত্র্যতা দেখা যায় তা হলো জিনগত বৈচিত্র্যতা। উদ্দীপক অনুসারে নিগ্রো মানুষের সাথে শেতাঙ্গ মানুষের সংকরায়নে মিউল্যাটো মানুষের সৃষ্টি হয় যা জিনগত বৈচিত্র্যতাকে নির্দেশ করে। নিচে জিনগত বৈচিত্র্যতার গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
জিনগত বৈচিত্র্য বলতে নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত উপাদানে বৈষম্যের মাত্রাকে বোঝায়। একটি জীব-প্রজাতির প্রত্যেক সদস্য জিনগতভাবে অন্য সদস্য থেকে পৃথক। জিনগত সাধারণ গঠন বা কোড-এর কারণে একটি প্রজাতির প্রত্যেক সদস্যের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকে। জীবদেহে অবস্থিত জিনগুলোর মধ্যে সীমাহীন সম্মিলনের ফলে জিনগত বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। এ কারণে সকল মানুষ Homo sapiens নামক প্রজাতির সদস্য হলেও একজন আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ ও অস্ট্রেলিয়ান শ্বেতাঙ্গ মানুষ দেহের আকৃতি, গায়ের ও চুলের রং ইত্যাদিতে পরস্পর থেকে সুস্পষ্ট পৃথক।
কোনো প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বেশি হলে পরিবর্তনশীল পরিবেশে তার অভিযোজন ক্ষমতাও বেশি থাকে। প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে অন্তঃজননের ফলে একই ধরনের কম জিনগত বৈচিত্র্যসম্পন্ন জনসংখ্যার সৃষ্টি হবে। জিনগুলো যদি মারাত্মক রোগব্যাধির প্রতি সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাহলে বংশপরম্পরায় এসব জিনের সঞ্চারণে নির্দিষ্ট প্রজাতির জনসংখ্যা রোগে ভুগে সামগ্রিকভাবে প্রজাতির অস্তিত্ব সংকট বাড়িয়ে তুলবে। এ কারণেই বলা হয়ে থাকে, কোনো প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বেশি হলে পরিবর্তনশীল পরিবেশে তার অভিযোজন। ক্ষমতা বেশি থাকে, বিলুপ্তির আশঙ্কা কমে যায়।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জিনগত বৈচিত্র্যতা প্রাণিবৈচিত্র্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।