| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
স্বাভাবিক উপাদানের বাইরে বায়ুতে যখন নানা ধরনের ধোঁয়া, গ্যাস, ধুলা-বালি, সিসাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের অনুপ্রবেশ ঘটে তখন তাকে বায়ুদূষণ বলে।
টর্নেডো হলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী এক ধরনের সাময়িক ঝড়। এর তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. এটি দেখতে অনেকটা ফানেল বা চোঙার মতো, যা মেঘ থেকে ভূমির দিকে বিস্তৃত থাকে।
২. টর্নেডোর কেন্দ্রের বাতাসের বেগ অনেক বেশি থাকে, যা সাধারণত ৪০০- ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
৩. এটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং এর ব্যাস সাধারণত কয়েকশ মিটারের বেশি হয় না।
উদ্দীপকের মানচিত্রে নিরক্ষরেখার উভয় পাশে (মূলত ৫০ থেকে ১০০ উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
(i) নিরক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়।
(ii) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় দ্বারা এ জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত হয়।
(iii) জানুয়ারি ও জুলাই মাসের তাপমাত্রার তেমন কোনো পার্থক্য নেই।
(iv) ঋতু পরিবর্তন দেখা যায় না।
(v) সারাবছর প্রচুর বৃষ্টিপাত ও অধিক তাপমাত্রা থাকে।
(vi) বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২২° - ৩৪° সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
(vii) বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১৭৮ - ২৫০ সেমি.।
(viii) এ অঞ্চলের বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প ধারণ করে।
(ix) এ অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের বেগ কম থাকে।
(x) এ অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
(xi) এখানে সারাবছর পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
(xii) অঞ্চলটির দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ভূপ্রকৃতিগত ব্যাপক ভিন্নতা না থাকায় এবং সমুদ্রভাগের অবস্থানের কারণে সমগ্র অঞ্চলে নিরক্ষীয় জলবায়ু একই রূপ বৈশিষ্ট্যে আবির্ভূত হয়। এ সমরূপতা নিরক্ষীয় অঞ্চলের জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের সর্ব উত্তরের জলাবায়ু হলো ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু। উক্ত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো:
ভূমধ্যসাগরীয় এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে যে জলবায়ু দেখতে পাওয়া যায় তাকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। এটি মহাদেশসমূহের পশ্চিম উপকূল অঞ্চলে ৩০° হতে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দেখা যায়। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের দেশসমূহ দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, ক্যালিফোর্নিয়া, মধ্য চিলি, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু। অধিক তাপযুক্ত বৃক্ষহীন গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিবহুল শীতকাল এ জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শীতকালে এ অঞ্চলের কোনো কোনো স্থানে তুষারপাত হয়। সূর্য গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে অনেকটা লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এসময় তাপমাত্রা বেশ বৃদ্ধি পায়। শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা এ অঞ্চলে খুবই বেশি। এছাড়া এখানে গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আয়ন বায়ু এবং শীতকালে জলীয়বাষ্পপূর্ণ প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়। শীতকালে বৃষ্টিপাত হলেও আকাশ কখনো একেবারে মেঘাচ্ছন্ন হয় না। প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে কেবল শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং শুষ্ক আয়ন বায়ুর দরুন গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে।
সুতরাং ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে বলা যায় যে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও মনোরোম এবং মানুষ বসবাসের উপযোগী।