| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – পৃথিবীর গঠন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
ভূত্বকের শিলাস্তর সর্বত্র সমান কঠিন বা গভীর নয়। এতে কোনো কোনো সময় ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে ভূগর্ভ হতে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত একটি বিরাট নলাকৃতি ছিদ্রপথের সৃষ্টি হয়। এ পথ দিয়ে ভূগর্ভস্থ বাষ্প, গলিত ধাতব পদার্থ, উত্তপ্ত প্রস্তর খন্ড, কদম, ধূম, ভস্ম ইত্যাদি যখন প্রবল বেগে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয় তখন তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
মালভূমি প্রধানত ভূআন্দোলন ও পাত সঞ্চালন, ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়সাধন এবং ভূপৃষ্ঠে লাভা প্রবাহ দ্বারা গঠিত হতে পারে। ভূত্বক কয়েকটি পাতে বিভক্ত। পাতগুলো ভূত্বকের নিম্নস্থিত তরল শিলার উপর ভাসমান। ভূগর্ভ হতে উঠে আসা তাপপ্রবাহে এ পাতগুলো মাঝে মাঝে গতিশীল হয়ে পড়ে। সঞ্চারণশীল সামুদ্রিক পাতের ধাক্কায় মহাদেশীয় পাতগুলো উত্থিত হয়ে মালভূমি গঠন করে। এছাড়া প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতগুলো ক্ষয়সাধন হয়ে মালভূমি গঠন করে। আবার ভূঅভ্যন্তরের লাভা ভূপৃষ্ঠের কোনো ফাটল বা ছিদ্রপথে উপরে এসে ছিদ্রপথের চারদিকে জমা হয়ে মালভূমিতে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অঞ্চলটি বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ নির্দেশ করছে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এ পাহাড়সমূহ বিশাল পাললিক সমভূমি সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে বৈচিত্র্যময় ও অপরূপ করে তুলেছে। ভাঁজগ্রস্ত এ পাহাড়গুলো উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে অবস্থিত। পাহাড়ের মাঝে মাঝে বহু সংকীর্ণ উপত্যকা বিদ্যমান। এ উপত্যকা দিয়ে পার্বত্য নদীগুলো পাহাড়সমূহ বরাবর প্রবাহিত হয়েছে এবং পরে মোড় ফিরিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এ নদীগুলো হলো কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা, কাসালং, নাফ প্রভৃতি।
পাহাড়ি এলাকার নদীগুলো বেশ খরস্রোতা, তাই পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী। ফলে কর্ণফুলী নদীর উজানে কাপ্তাইয়ে বাঁধ দিয়ে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন সহজ হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পাহাড়ের গায়ে কতিপয় উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার। কিন্তু পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে পাহাড়গুলোর উচ্চতা ক্রমশ বেশি।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো বরেন্দ্রভূমি, যা রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এটি প্লাইস্টোসিন কালের একটি সোপান। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি কিছুটা আঠালো ও লালচে হলেও বর্তমানে আধুনিক সেচ পদ্ধতির কল্যাণে এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম ও সরিষা উৎপাদিত হচ্ছে। এটি দেশের খাদ্য চাহিদার ও বড় একটি অংশ পূরণ করে। এই অঞ্চলটি আম, লিচু ও কাঠালের বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্য বিখ্যাত। এখানে থেকে উৎপাদিত ফল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে। এই এলাকাটি প্লাবন সমভূমি থেকে উঁচু হওয়ায় এখানে বন্যার ঝুঁকি অনেক কম। ফলে স্থায়ী ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কলকারখানা গড়ে তোলার জন্য এটি খুবই নিরাপদ ও উপযোগী।
বরেন্দ্র অঞ্চল জড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী শালবন। এই বন থেকে মূল্যবান কাঠ, জ্বালানি এবং ঔষধি গাছ পাওয়া যায়।
পরিশেষে বলা যায়, বরেন্দ্রভূমি তার বিশেষ গৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।