| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজের পুকুরধারে…’ a – ব্রায়োফাইটা ও টেরেডোফাইটা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজের পুকুরধারে একধরনের উদ্ভিদ দেখতে পেল যেগুলো মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভক্ত। শিক্ষক জানালেন এই উদ্ভিদগুলোতে ফুল ফোটে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার স্ত্রীজননাঙ্গই হলো আর্কিগোনিয়াম।
নিম্নোক্ত পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি উন্নত তা চিহ্নিত করা যায়।
১. ব্রায়োফাইটার উদ্ভিদসমূহ গ্যামিটোফাইট হলেও টেরিডোফাইটার উদ্ভিদসমূহ স্পোরোফাইট।
২. ব্রায়োফাইটার উদ্ভিদসমূহের দেহকে মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভক্ত করা যায় না। কিন্তু টেরিডোফাইটার উদ্ভিদসমূহকে মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভক্ত করা যায়।
৩. ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। কিন্তু টেরিডোফাইটা উদ্ভিদে মূল থাকে।
৪. ব্রায়োফাইটার উদ্ভিদসমূহ পরিবহন টিস্যু থাকে না। কিন্তু টেরিডোফাইটার উদ্ভিদসমূহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
৫. ব্রায়োফাইটার পুংগ্যামিট ক্ষুদ্র ও সচল। টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের পুংগ্যামিটও নিশ্চল।
স্পোরোফাইট, মূল, পরিবহন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি উন্নত উদ্ভিদের পরিচয় বহন করে। যা টেরিডোফাইটাতে দেখা যায়। কিন্তু ব্রায়োফাইটাতে অনুপস্থিত। তাই আমরা বলতে পারি, ব্রায়োফাইটা থেকে টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ উন্নত।
উদ্দীপকের উল্লেখিত উদ্ভিদটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। নিচে উদ্ভিদটির গ্যামোটোফাইটিক দশার বর্ণনা করা হলো-
ফার্নের দেহ স্পোরোফাইটিক। কিন্তু গ্যামোটোফাইট হলো ফার্নের জীবনচক্রের প্রথম ধাপ। উদ্ভিদটির গ্যামোটোফাইটিক দশার নাম ফার্ন প্রোথ্যালাস। স্পোরোফাইটিক উদ্ভিদের (Pteris) স্পোর মাতৃকোষ হতে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন করে। স্পোর বা রেণু হলো গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। হ্যাপ্লয়েড স্পোর অনুকূল পরিবেশে কোনো আর্দ্র বস্তুর সংস্পর্শে আসলে অঙ্কুরিত হয় এবং ক্রমাগত মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে - হৃৎপিণ্ডাকার সবুজ আস্তর সৃষ্টি করে। এটি ফার্নের গ্যামেটোফাইট। হৃৎপিণ্ডাকার এ গ্যামেটোফাইটকে প্রোথ্যালাস বলা হয়। প্রোথ্যালাসের নিম্নপৃষ্ঠের নিম্নাংশ হতে অনেক রাইজয়েড উৎপন্ন হয়। রাইজয়েডগুলো প্রোথ্যালাসকে মাটির সাথে সংযুক্ত করে এবং মাটি হতে প্রোথ্যালাসকে খাদ্য সরবরাহ করে। প্রোথ্যালাসের উপরের দিকে গভীর একটি খাঁজ আছে। একে অগ্রস্থ খাঁজ বলে। প্রোথ্যালাস সবুজ বর্ণের বহুকোষী স্বতন্ত্র ও স্বভোজী উদ্ভিদ। প্রোথ্যালাস উভলিঙ্গ অর্থাৎ একই দেহে পুং ও স্ত্রী জননাঙ্গ অবস্থান করে প্রোথ্যালাসের অঙ্কীয় দেশে খাঁজের কাছে স্ত্রী জননাঙ্গ এবং রাইজয়েডের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পুং জননাঙ্গ উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকের ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের জীবনচক্রে হেটারোমরফিক জনুঃক্রম পরিলক্ষিত হয়। নিচে উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা করা হলো- কোনো জীবের জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য পর্যায়ক্রমে ডিপ্লয়েড (2n) স্পোরোফাইটিক বা রেণুধর এবং হ্যাপ্লয়েড (n) লিঙ্গধর বা গ্যামিটোফাইটিক জনুর আবির্ভাবকে জনুক্রম বলে। যখন জনুক্রমে রেণুধর দশা ও লিঙ্গধর দশারূপ আকৃতিগতভাবে ভিন্ন রকমের হয় তাকে "হেটারোমরফিক" জনুক্রম বলে। Pteris এর জীবনচক্রে সুস্পষ্টভাবে জনুক্রম বিদ্যমান। Pteris-এ ডিপ্লয়েড (2n) রেণুধর উদ্ভিদ অর্থাৎ স্পোরোফাইট দিয়ে জীবনচক্র শুরু হয়। Pteris উদ্ভিদটি স্পোরোফাইটিক জনুর প্রতিনিধিত্ব করে। মিয়োসিস বিভাজন দ্বারা রেণুমাতৃকোষে উৎপন্ন হয় রেণু। অনুকূল পরিবেশে রেণু অঙ্কুরিত হয়ে গঠন করে হ্যাপ্লয়েড লিঙ্গধর উদ্ভিদ। লিঙ্গধর উদ্ভিদে সুস্পষ্ট পুংধানী ও স্ত্রীধানী থেকে যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করা মাত্র ডিপ্লয়েড (2n) রেণুধর উদ্ভিদ বা স্পোরফাইটের পুনরাবির্ভাব ঘটে। 'সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, Pteris এর জনুক্রমটি হলো হেটারোমরফিক।