| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ছেচল্লিশ ঘন্টা বিরতিহীন…’ a – গন্তব্য কাবুল, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ছেচল্লিশ ঘন্টা বিরতিহীন রেলভ্রমণের পর ‘জেএন্ডকে’ টুরিস্ট বাসের আরামদায়ক সিটে বসেই চোখ দুটো বুজে এলো ক্লান্তিতে। শনিবার সকাল এগারোটায় শিয়ালদা স্টেশন থেকে জম্বু-তাওয়াই এক্সপ্রেসে যখন উঠেছিলাম, দীর্ঘ ভ্রমণের আনন্দে মনটা ছিল খুশিতে ভরপুর। কিন্তু দিনের আলো নিতে যাওয়ার আগেই যখন বাঙালি বাবুরা হিন্দি জবানে কথা কইতে শুরু করল, তখনই নিঃসঙ্গতা পুরোপুরি জেগে উঠল। ট্রেন বর্ধমান ছেড়ে বিহারের জলময় ভূখন্ডে প্রবেশ করল এবং রাত্রি এক প্রহরের আগেই দেখা দিল পাহাড়। অনভিজ্ঞতার কারণে বড় বড় স্টেশনের সামান্য বিরতিতে আলুর দম ও লুচি কিনে খাওয়ার সুযোগ ঘটল না। রাত কাটালাম অমৃতবৎ চায়ের পেয়ালায় জিহ্বা আর পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৬
পেশাওয়ার থেকে জালালাবাদের দূরত্ব একশ মাইল।
➤ বেলা করে মোটর ছাড়ায় সন্ধ্যার আগে আর কাবুলে পৌঁছানোর কোনো ভরসা নেই বলে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
➤ লেখক হাওড়া থেকে কাবুল যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে জালালাবাদে বাস বিরতি দেয়। সেখানে সবাই যার যার মতো চলে যায়। কারণ অধিকাংশ লোকেরই জালালাবাদে আত্মীয়স্বজন ছিল। তারা সবাই যখন ফিরে আসে ততক্ষণে অনেক বেলা হয়ে যায়। আর বেলা করে গাড়ি ছাড়ায় সন্ধ্যার আগে আর কাবুল পৌছানোর সম্ভাবনা থাকে না। তাই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
সারকথা: সন্ধ্যার আগে কাবুলে পৌঁছার কোনো সম্ভাবনা না দেখে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'গন্তব্য কাবুল' রচনার সাদৃশ্য দিকটি হলো ভ্রমণপথের অভিজ্ঞতা।
➤ ভ্রমণ মানুষের জ্ঞান বাড়ায়। ভ্রমণে মানুষ শুধু ভ্রমণ স্থান থেকেই নয়, ভ্রমণের পথ থেকেও নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করে, যা তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। পরবর্তী জীবনে চলার পথে এই জ্ঞান কাজে লাগানো যায়।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক হাওড়া থেকে কাবুল পর্যন্ত তাঁর ভ্রমণাভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি হাওড়া থেকে পেশাওয়ার, পেশাওয়ার থেকে জালালাবাদ এবং জালালাবাদ থেকে কাবুল যাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর চলার পথে একাকিত্বের কথা বলেন। পরে অবশ্য যাত্রাসঙ্গী পেয়ে যান। লেখকের এই যাত্রাপথের অভিজ্ঞতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য দেখা যায়। উদ্দীপকে দীর্ঘ ভ্রমণে ভ্রমণকারীর মনের খুশির কথা বলা হয়েছে। সেখানেও বিভিন্ন জাতি ও বিভিন্ন ভাষার বৈশিষ্ট্যের আভাস পাওয়া যায়। মূলত 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার বর্ণনায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন, যে দিকটি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক তার ভ্রমণে একাকিত্ব, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের কথা বলেছেন। এই বিষয়টির ইঙ্গিত উদ্দীপকেও রয়েছে।
➤ না, উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার মূল বিষয়কে নির্দেশ করে না।
➤ ভ্রমণ মানুষকে একদিকে যেমন আনন্দিত করে অন্যদিকে তেমনই মানুষের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। ভ্রমণের মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান হলো মানুষের প্রত্যক্ষ জ্ঞান। ভ্রমণ মানুষের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয় আর মানুষকে বিভিন্নভাবে অভিজ্ঞ করে তোলে।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক তাঁর হাওড়া থেকে কাবুল পর্যন্ত যাত্রার নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। হাওড়া থেকে পেশাওয়ার পৌছানোর পর সেখানকার আতিথেয়তা তাঁকে মুগ্ধ করে তোলে। তিনি তাঁর রচনায় দুই-একটি বাক্যের মধ্যে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সম্যক ধারণা দিয়েছেন। ফিরিঙ্গির একটি বাক্যে তিনি ব্রিটিশশাসিত দুইশ বছরের ইতিহাসের মাত্রা অনুভব করিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানের প্রকৃতির বর্ণনা এবং মানুষের আচরণ তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়। এভাবেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা পরিচয় আলোচ্য রচনায় পাওয়া যায়। এসবের কোনোকিছুর ইঙ্গিতই উদ্দীপকে নেই।
➤ উদ্দীপকে ভ্রমণের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সেখানে কেবল আলোচ্য রচনার লেখকের ভ্রমণপথের অভিজ্ঞতার দিকটি ইঙ্গিত করেছে। এছাড়া 'গন্তব্য কাবুল' রচনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির পরিচয়সহ আরও যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার মূল বিষয়কে নির্দেশ করে না।
সারকথা: উদ্দীপকে কেবল লেখকের ভ্রমণপথের অভিজ্ঞতার আভাস আছে। এছাড়া ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার । মূল বিষয়কে নির্দেশ করে না।