| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ছেলেবেলা থেকে রনির…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – শিক্ষণ ও স্মৃতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

ছেলেবেলা থেকে রনির স্বপ্ন সে প্রকৌশলী হবে। কিন্তু যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষায় সে কৃতকার্য হতে পারে না। এ অবস্থায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তার এ মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে তার বড় ভাই গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া করার কথা বলে। এতে সে অনুপ্রাণিত হয়ে তার ব্যর্থতার কারণ মূল্যায়ন করে এবং সফলতা অর্জন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
প্রেষণা যখন খুবই ক্ষীণ অথবা প্রেষণা আছে কিন্তু উপযুক্ত সন্তুষ্টির অভাব, তখন যে শিক্ষণ হয় তাকে সুপ্ত শিক্ষণ বলে।
স্মৃতি হলো তথ্য সংরক্ষণের এমন ক্ষমতা যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যায়। স্মৃতির নানা উপাদান রয়েছে যাদের নিয়ে স্মৃতি গঠিত। স্মৃতির উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হলো শিক্ষণ। অভ্যাস বা অনুশীলনের ফলে আচরণের তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনকে শিক্ষণ বলা হয়। শিক্ষণ স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উড্ডওয়ার্ড প্রমুখ মনোবিজ্ঞানী মনে করেন যে শিক্ষণ স্মৃতির প্রথম অঙ্গ বা স্তর। শিক্ষণ ছাড়া স্মৃতির প্রশ্নই উঠে না। তাই আমরা প্রথমে কোনো কিছু শিখি তারপর সেটা ভুলে গিয়েছি না স্মরণ রেখেছি তার কথা বলি তাই শিক্ষণকে স্মৃতির উপাদান বলা হয়।
সুপারভাইজারের বিস্মৃতির কারণ হলো অবদমন। নিচে বিস্মৃতির অবদমন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো-
আমরা যা কিছু শিক্ষণ করি তার সবকিছুই মনে রাখা সম্ভব হয় না। অনেক কিছুই আমরা ভুলে যাই, ভুলে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো অবদমন।
ফ্রয়েডের মতে বিস্তৃতির প্রধান কারণ হলো অবদমন। এই অবদমন ইচ্ছাকৃত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা যেমন আমরা এড়িয়ে চলতে চাই, তেমনি অতীতের বেদনাদায়ক স্মৃতিকেও আমরা এড়িয়ে যেতে চাই তাই সেগুলোকে আমরা সচেতন মনের গভীরে প্রেরণ করি ও ভুলে থাকতে চাই। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয় রয়েছে যেগুলো মনে রাখার প্রয়োজন আমরা অনুভব করি না যার কারণে অবদমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলোকে ভুলে যাই।
উদ্দীপকে দেখা যায় বাসের যেসব যাত্রী ভাড়া দেয়নি সুপারভাইজার তাদের ভুলে না গেলেও যারা ভাড়া দিয়েছে তিনি তাদের দ্রুত ভুলে গিয়েছেন। এক্ষেত্রে যারা ভাড়া দেয় নি তারা সুপারভাইজার এর কাছে গুরুত্বপূর্ণ তাই তিনি স্মৃতিতে রেখেছেন। আবার যারা ভাড়া দিয়ে. দিয়েছে তাদের স্মৃতিতে রাখা অপ্রয়োজনীয়, তাই অবদমন পদ্ধতির মাধ্যমে সুপারভাইজার তাদের দ্রুত ভুলে যায়।
উদ্দীপকে রনি চাপমূলক পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়ন কৌশল অবলম্বন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে। নিচে তা পাঠ্য বইয়ের আলোকে আলোচনা করা হলো-
মানুষ তার জীবনের বিভিন্ন স্তরে হতাশা, কর্মভার, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এসব পরিস্থিতি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং এ চাপ এতটাই গভীর হয় যে তা কখনো কখনো ব্যক্তির পুরো জীবনকে বদলে দেয়। এরূপ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি নানাভাবে মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা করে এবং নিজেকে চাপমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা চালায়। ব্যক্তি চাপ সামলানোর জন্য যে সকল কৌশল অবলম্বন করে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো চাপমূলক ঐ পরিস্থিতির পুর্নমূল্যায়ন করা। এছাড়াও ব্যক্তি চাপ মোকাবিলার পশ্চাদপ্রসারণ, সমঝোতা এবং বিভিন্ন প্রকারের আত্মরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করে থাকে।
উদ্দীপকে রনি তার মানসিক চাপ কমনোর জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করে। এখানে সে প্রকৃত সমস্যাটিকে চিহ্নিত করে চাপ সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তি সঞ্চয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে। ফলে রনি দৃঢ় মানসিক শক্তি নিয়ে পুনরায় নব উদ্যমে ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত করার জন্য আত্মনিয়োগ করে এবং সবশেষে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। আমরা চাপমূলক পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়নের দিকে খেয়াল করলে দেখতে পাই, সেখানে চাপ সৃষ্টিকারী সমস্যার জন্য সরাসরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তাই দেখা যায়, সেখানে ঐ পরিস্থিতির সঠিক পুনর্মূল্যায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, হতাশাজনক পরিস্থিতিতে আমাদের একেবারেই ভেঙে পড়া উচিত নয় বরং দৃঢ় মানসিক প্রত্যয় নিয়ে উক্ত পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। তাহলে সকল প্রকার দ্বন্দ্ব-হতাশার অবসান ঘটিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।