| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ছলেমান মিয়া একজন…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯ – ইসলাম ও সমাজজীবন, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ছলেমান মিয়া একজন মুদি দোকানদার। তিনি বিক্রয়ের মাল পরিমাণে কম দেন। এ নিয়ে প্রায়ই তার সাথে মহল্লার লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। জনাব আরাফাত একদিন তাকে বুঝিয়ে বললেন, এ ধরনের কাজ ইসলাম বহির্ভূত। অতএব, ব্যবসায় পরিশুদ্ধতার জন্য এগুলো পরিহার করা দরকার। কেননা রাসুল (স) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ব্যবসায়ীদের হাশরে স্থান হবে শহিদদের সাথে’।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
চুরি করা কবিরা গুনাহ।
পরিমাণে কম দেওয়া প্রতারণামূলক ও গর্হিত কাজ।
প্রতারণা হলো মানুষকে ঠকানো বা ফাঁকি দেওয়া, হয়রানি করা । ওজনে কম দেওয়া এক ধরণের প্রতারণা। এটি ইসলাম বিরোধী একটি কাজ। প্রতারণার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর বিধান অমান্য করে। প্রতারক ব্যক্তি মানুষকে ঠকিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত থাকে। ওজনে কম দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস ভেঙে তাকে ঠকানো হয়। এজন্য ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত ঘৃণিত ও গর্হিত কাজ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছলেমান মিয়ার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।
ইসলাম যাবতীয় অন্যায় ও অবৈধ পন্থায় আয়-উপার্জনকে হারাম ঘোষণা করেছে। আর হারাম পন্থায় অর্জিত সম্পদকে অপবিত্র ও নাপাক আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হারাম উপার্জনের দ্বারা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা তথা সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার স্থানে শত্রুতা ও হিংসা জায়গা করে নেয়। হারাম উপার্জন সকল প্রকার পাপ কাজের দরজা খুলে দেয়। নিজের অজান্তেই মানুষ জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যায়। তাই ছলেমান মিয়ার প্রতারণামূলক কাজটি ইসলাম সমর্থন করে না।
উদ্দীপকের ছলেমান মিয়া একজন মুদি দোকানদার। তিনি বিক্রয়ের মাল পরিমাণে কম দিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করেন। তার কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। আর হারাম উপার্জনের কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা হাদিসে আছে, হারাম ভক্ষণের দ্বারা গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স) বলেন, 'যে গোশত হারাম জীবিকা দিয়ে গঠিত তা বেহেশতে করবে না' (মুসনাদে আহমাদ)। তাই ছলেমান মিয়ার উচিত পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পরিমাণে কম দেয়ার মত প্রতারণামূলক কাজ থেকে বিরত থাকা।
হ্যাঁ, ব্যবসায় সততা অবলম্বন করা বিষয়ে জনাব আরাফাতের বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
ব্যবসায়ে সততা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মুসতাদরাক হাকিম গ্রন্থের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে থাকবেন। এটি আরাফাতের বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের আরাফাত দোকানি ছলেমান মিয়ার অসততা দেখে তাকে এই অভ্যাস পরিহার করতে বলেন। তিনি সৎ ব্যবসায়ীর প্রতিদান সম্পর্কিত রাসুল (স) এর হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন, সত্যবাদী ব্যবসায়ীদের হাশরে স্থান হবে শহিদদের সাথে। একজন ব্যবসায়ী ইচ্ছা করলেই ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করতে পারে। এতে পার্থিব লাভ অনেক বেশী হয় কিন্তু প্রতারণার জন্য পরকালে কঠিন আজাবের সম্মুখীন হতে হবে। কারণ প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে ঠকানো হয় এবং প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাই ব্যবসায় অসৎ পদ্ধতি অবলম্বন করা, ওজনে কম দেওয়া কিংবা ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা ইসলাম সমর্থন করে না।
সুতরাং বলা যায়, ব্যবসায় সততা বা পরিশুদ্ধতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়ে এবং ছলেমান মিয়াকে হালাল উপার্জনের প্রতি উৎসাহিত করে আরাফাত যথার্থই করেছেন।