ছোট ছেলেটার কয়দিন থেকে ভীষণ জ্বর। বিধবা ফুলবানু হাঁসের কয়েকটা ডিম বেচে ছেলের চিকিৎসা করালেও এখন আর সে সামর্থ্যও নেই। প্রতিবেশী জরিনার কাছে ধার নিবে কেমন করে- আগের ধারটাই যে শোধ হয়নি।
অপুর দিদির নাম দুর্গা।
প্রশ্নোর কথাটি অপু বলেছিল তার দিদি দূর্গাকে, কারণ তার মা বিভিন্ন সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং এর একটি হলো বাসি কাপড়ে তেলের ভাঁড় ছোঁয়া নিষেধ।
সেকালের গ্রাম্য সমাজের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের আচার-সংস্কার প্রচলিত ছিল। সকালে স্নান না করে আগের দিনের বরা কাপড়কে বাসি কাপড় বলা হতো এবং তা পরা থাকলে কোনোকিছুতে হাত দেওয়া নিষেধ ছিল। দুর্গা কতকগুলো কচি আম কাটা নিয়ে এসেছে। সেগুলো তেল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খাবে। তাই দুর্গ অপুকে তেল-লবণ নিয়ে আসতে বলে। কিন্তু অপু তখনও আগের দিনের বাসি কাপড় পরা ছিল। তাই অপু প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
উদ্দীপকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার দরিদ্র-দুর্দশার দিকটি ফুটে উঠেছে।
আমাদের সমাজে নারীরা অতি দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে সংসারকর্ম পরিচালনা করে। সংসারের দুঃখ-দারিদ্র্য তাদের নিত্যসঙ্গী। তবুও তারা স্বামী-সন্তান নিয়ে দিনের পর দিন সংসারধর্ম পালন করে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর-সর্বজয়ার সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। হরিহর অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে মাসে যে টাকা পায় তা দিয়ে, সংসার চলে না। তাই সর্বজয়াকে সেজ ঠাকরুন, রাধা বোষ্টমের বউদের কাছ থেকে ধার করে সংসার চালাতে হয়। ধার-দেনা শোধ করতে না পারলে কটু কথাও শুনতে হয়। সর্বজয়ার এই দুঃখ-দুর্দশা উদ্দীপকেও দৃশ্যমান। ফুলবানু হাঁসের ডিম বেচে ছেলের চিকিৎসা করায়। বর্তমানে তার সে সামর্থ্যও নেই। প্রতিবেশীর কাছে ধার নেওয়া হয়ে গেছে তাই তাদের কাছেও হাত পাততে পারে না। এদিকে তার ছেলেটার ভীষণ জ্বর। উদ্দীপকে এক দরিদ্র অসহায় মায়ের যে দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশ পেয়েছে তা 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পেও প্রকাশ পায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার দুঃখ-দুর্দশার দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের ফুলবানু 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার প্রতিচ্ছবি নয়।
জীবনধারণ করে বেঁচে থাকা একটা সংগ্রাম। এ সংগ্রামে মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। দুঃখ-দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হতে হয় পদে পদে।
উদ্দীপকের ফুলবানু বিধবা। স্বামী না থাকায় তার জীবনসংগ্রাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। ছেলের ভীষণ জ্বরে ফুলবানু হাঁসের ডিম বিক্রয় করে ছেলের চিকিৎসা করায়। প্রতিবেশীদের কাছে ধার নিতে পারে না। কারণ পূর্বেই ধার নেওয়া হয়ে গেছে। অন্যদিকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া সধবা। তার স্বামী হরিহর গোমস্তার কাজ করে। কিন্তু সে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত। ধার শোধের জন্য পাওনাদাররা কটু কথা শোনায় তাকে। তবুও সন্তানদের সে অভুক্ত রাখে না। সন্তানদের দিকে সব সময় খেয়াল রাখে।
দুঃখ-দারিদ্র্যের দিক দিয়ে উদ্দীপকের ফুলবানুর সাথে আলোচ্য গল্পের সর্বজয়ার মিল থাকলেও গল্পের পরিসর বৃহৎ হওয়ায় সর্বজয়া চরিত্রের অন্য দিকগুলোর প্রকাশ ঘটে, যা উদ্দীপকের ফুলবানুর মধ্যে প্রকাশ পায় না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ফুলবানু 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার প্রতিচ্ছবি নয়।
