| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘চুনিয়া একটি গ্রাম,…’ a – সুচেতনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

|
চুনিয়া একটি গ্রাম, ছোট্ট কিন্তু ভেতরে-ভেতরে খুব শক্তিশালী……….. চুনিয়া গুলির শব্দ পছন্দ করে না। রক্তপাত, সিংহাসন প্রভৃতি বিষয়ে চুনিয়া ভীষণ অজ্ঞ: চুনিয়া তো সর্বদাই মানুষের আবিষ্কৃত মারণাস্ত্রগুলো |
ভূমধ্যসাগরে ফেলে দিতে বলে। চুনিয়া তো চায় মানুষেরা তিনভাগ জলে রক্তমাখা হাত ধুয়ে দীক্ষা নিক। চুনিয়া সর্বদা বলে পৃথিবীর কুরুক্ষেত্রগুলি সুগন্ধি ফুলের চাষে ভরে তোলা হোক। |
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
কবি জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধ গ্রন্থের নাম 'কবিতার কথা'।
➤ 'সুচেতনা' কবিতায় কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন।
➤ 'সুচেতনা' কবিতায় কবি 'সুচেতনা' বলতে শুভ চেতনাকে বুঝিয়েছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীব্যাপ্ত গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথই শুভ চেতনা। ইতিবাচক এ চেতনার আলো প্রজ্বলনের মাধ্যমেই সব বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে। কবির বিশ্বাসমতে, সুচেতনা দূরতম দ্বীপসদৃশ একটি ধারণা, যা পৃথিবীর নির্জনতায়, যুদ্ধে, রক্তে নিঃশেষিত নয়। চেতনাগত এই সত্তা বর্তমান পৃথিবীর গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখে। পৃথিবীব্যাপ্ত অন্ধকার বা অশুভের অন্তরালেই আছে সূর্যোদয়, মুক্তির দিশা। এ বিশ্বাসকেই কবি তাঁর কবিতায় শিল্পিত করেছেন।
সারকথা: সুচেতনার বিকাশেই এই আলোকোজ্জ্বল পৃথিবীর দেখা মিলবে, এটিই কবির বিশ্বাস।
➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার কবির প্রত্যাশার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ মানুষ তাঁর সুখ-শান্তির জন্য প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক মানবিক পৃথিবী প্রত্যাশা করে। তাই প্রাণপ্রাচুর্যময় সুন্দর পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ মানুষ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সমগ্র পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
➤ উদ্দীপকে 'চুনিয়া' নামের একটি গ্রামের প্রতীকের মধ্যে দিয়ে কবি মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার আহ্বান করেছেন। চুনিয়া মানুষের আবিষ্কৃত মারণাস্ত্রগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দিতে বলেছে পৃথিবীময় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। চুনিয়া চায় পৃথিবীর কুরুক্ষেত্রগুলোতে চলমান সমস্ত যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ হোক এবং সেখানে ভালোবাসার প্রতীক সুগন্ধি ফুলের চাষ হোক। মানুষ তাদের হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরের প্রতি সৌহার্দের হাত বাড়াক। এভাবে উদ্দীপকের কবিতাংশে যে শান্তির প্রত্যাশা করা হয়েছে তা 'সুচেতনা' কবিতার কবির শুভ চেতনার প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও এ কবিতায় এক মানবিক পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ হিংসা, ঘৃণা, ক্ষমতার লড়াই, স্বার্থপরতা পৃথিবীকে অস্থির করে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কবি শুভ বোধের জাগরণের মাধ্যমে এসব অশুভের অবসান চান। আর তা হলেই পৃথিবী সুন্দর ও প্রাচুর্যময় হয়ে উঠবে।
সারকথা: 'সুচেতনা' কবিতায় কবি শুভবোধের জাগরণ এবং সত্য-সুন্দরের যে প্রত্যাশা করেছেন তা উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই সুন্দর ও মানবিক পৃথিবী প্রত্যাশা করা হয়েছে।
➤ হ্যাঁ, উদ্দীপকের কবিতাংশে এবং 'সুচেতনা' কবিতায় প্রতিফলিত কবির বক্তব্য একসূত্রে গাঁথা।
➤ মানুষ তার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে পৃথিবীকে অশান্ত করে তুলেছে। মানুষের নেতিবাচক চিন্তা ও কর্মকান্ডে এ সুন্দর ও প্রাচুর্যময় পৃথিবী ক্রমশ হিংসা-বিদ্বেষে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পৃথিবীকে তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্যে একদল মানুষ এর বিপরীতে কাজ করে। তারা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন জীবনের প্রত্যাশা করে।
➤ উদ্দীপকের কবিতাংশে 'চুনিয়া' নামক গ্রামের মানবিক প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে। মানব সমাজে যে হিংসা-বিদ্বেষ বিদ্যমান তা চুনিয়াতে নেই। সভ্য সমাজের অনেকেই এ ধরনের স্নিগ্ধ সুন্দর গ্রাম তথা জীবনের প্রত্যাশা করে। যেখানে রক্তপাত নেই, মানুষের প্রতি মানুষের বিদ্বেষ নেই। যেখানে পৃথিবীর কুরুক্ষেত্রগুলোতে সুগন্ধি ফুলের চাষ হয়। উদ্দীপকের এই মানবিক প্রত্যাশা 'সুচেতনা' কবিতায় প্রতিফলিত কবির মানবিক চেতনার সঙ্গে মিলে যায়। এ কবিতায় কবি সমকালীন অশান্তি, বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরে তা থেকে পরিত্রাণের জন্য শুভ চেতনা বা সুচেতনার গুরুত্ব নির্দেশ করেছেন।
➤ 'সুচেতনা' কবিতায় কবি সুচেতনা শব্দটি শুভ চেতনা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এ কবিতায় হিংসা-দ্বেষ-ঘৃণা তথা ধ্বংসোন্মুখ পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরে তা থেকে উত্তরণের আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। কবি মনে করেন বস্তুগত শোক, স্বার্থদ্বন্দ্বকে অতিক্রম করে পৃথিবী একদিন প্রাচুর্যময় হয়ে বাহ্য গৌরবে সেজে উঠবে। মানুষের প্রতি মানুষ আরও বেশি মানবিক হবে; তাদের শুভবোধ জাগ্রত হবে। যা উদ্দীপকের মূলভাবকে নির্দেশ করে। এভাবে উদ্দীপকের চুনিয়া এবং কবিতায় কবির বক্তব্য একসূত্রে গাঁথা।
সারকথা: উদ্দীপকের কবিতাংশে হিংসা-বিদ্বেষহীন, রক্তপাতহীন সুন্দর ও প্রাচুর্যময় মানবিক পৃথিবীর প্রত্যাশা করা হয়েছে, যা 'সুচেতনা' কবিতার মূলভাবকে নির্দেশ করে। এই দিক বিচারে উদ্দীপকের চুনিয়ার' বক্তব্য এবং 'সুচেতনা' কবিতার কবির বক্তব্য একসূত্রে গাঁথা।