| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘চুরির দায়ে চাকরি…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

চুরির দায়ে চাকরি হারানোর পর দুবছর পেরিয়েছে। তবুও কাজের অভাব হয়নি সাকিবের। মিথ্যে সাক্ষ্যের কারণে দুবছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার রায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভাবের সংসার হলেও রাত-দিন পরিশ্রম করে সাকিব ও তার স্ত্রী উভয়ে মিলে এ অসাধ্যকে সাধন করেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
'নেকলেস' গল্পের বাংলা অনুবাদক পূর্ণেন্দু দস্তিদার।
মাদাম লোইসেল তার বান্ধবীর কাছ থেকে ধার করে আনা হীরার হারটি হারিয়ে অনুরূপ আরেকটি হার ফেরত দিতে গিয়ে দরিদ্র জীবনের ভয়াবহতা বুঝতে পারে।
জনশিক্ষা মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মাদাম লোইসেল তার বান্ধবী মাদার ফোরসটিয়ারের কাছ থেকে একটি হীরার হার ধার করে 'আনে। অনুষ্ঠানে গিয়ে সে হারটি হারিয়ে ফেলে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সে হারটি না পেয়ে প্যালেস রয়েল থেকে ছত্রিশ হাজার ফ্রাঁতে অনুরূপ একটি হীরার হার কেনে। গহনা কিনতে তার স্বামীকে তার পিতার কাছ থেকে পাওয়া টাকা খরচ করতে হয়। এ ছাড়াও অনেক টাকা ধার করতে হয়। দেনা শোধ করতে গিয়ে মাদাম লোইসেল দাসী বিদায় করে দেয়। নিজ হাতে সংসারের সব কাজ করে, কম দামি ঘরে থাকে। বাড়তি আয়ের জন্য তার স্বামী সন্ধ্যায় অন্যের হিসাব দেখার কাজ করে। আর এসব করতে গিয়ে মাদাম লোইসেল দরিদ্র জীবনের ভয়াবহতা বুঝতে পারে।
উদ্দীপকের সাকিবের সঙ্গে 'নেকলেস' গল্পে মি. লোইসেল সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র।
'নেকলেস' গল্পে স্ত্রীর চাহিদা পূরণ করতে অপূরণীয় মাশুল গুনতে হয় স্বামী মি. লোইসেলের। স্ত্রীকে খুশি রাখতে জীবনে বর্ণনাতীত কষ্ট করতে হয় তাকে।
উদ্দীপকে মিথ্যা অভিযোগের কারণে সাকিবের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হয়। দরিদ্র সাকিব রাত-দিন পরিশ্রম করে সেই টাকা পরিশোধ করে, যা 'নেকলেস' গল্পের মি. লোইসেলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মি. লোইসেল ও তার স্ত্রী মাদাম লোইসেল একটি হীরার হার ধার এনে সেটি হারিয়ে ফেলে। হারটি আসল হীরা ছিল না। নকল হীরাকে আসল ভেবে স্ত্রীর বান্ধবীর কাছে থেকে আনা হারটি ফেরত দেওয়ার জন্য দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে লাইসেল। হারটির দাম শোধ করতে তার দশ বছর সময় লেগে যায়। সর্বোপরি বলা যায়, উদ্দীপকের সাকিব এবং 'নেকলেস' গল্পের মি. লোইসেল উভয়কেই মিথ্যা ভুলের মাশুল দিতে হয়।
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের পাত্র-পাত্রী যেন মাদাম ও তার স্বামী লোইসেলের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'নেকলেস' গল্পে ভুলের কারণে প্রায়শ্চিত্ত করার করুণ কাহিনির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মাদাম লোইসেল ও তার স্বামী একটি ভুলের কারণে জীবনের মূল্যবান দশটি বছর কষ্টে অতিবাহিত করে।
'নেকলেস' গল্পের সুন্দরী মাদাম লোইসেল দারিদ্র্যের জন্য সব সময় মন খারাপ করে রাখত। একদিন মন্ত্রীর বাড়িতে দাওয়াত পেলে সে তার বান্ধবীর কাছ থেকে একটি নকল হীরার হার ধার করে অনুষ্ঠানে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তারা হারটি হারিয়ে ফেলে। নকল হারটিকে আসল ভেবে তারা অনুরূপ একটি হীরার হার বান্ধবীকে ফেরত দেয়, যেটির মূল্য শোধ করতে তারা দশ বছর পরিশ্রম করে। উদ্দীপকের পাত্র-পাত্রীও মিথ্যে অভিযোগের ফলে হওয়া জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিশোধ করে।
উদ্দীপকের পাত্র-পাত্রী মিথ্যে হলেও তাদের ওপর ধার্যকৃত পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করে। অনুরূপ 'নেকলেস' গল্পের মাদাম ও তার স্বামী লোইসেল দীর্ঘ দশ বছর পরিশ্রম করে তাদের ধার শোধ করে। অর্থাৎ উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্পের স্বামী-স্ত্রী উভয়ই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।