| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পৌরনীতি ও সুশাসন…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

পৌরনীতি ও সুশাসন ক্লাসে তাহমিদের বিষয় শিক্ষক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পড়াচ্ছিলেন। এ সময় তিনি একটি আন্তর্জাতিক ধারার বিষয়ে আলোচনা করেন। যার ৬নং ধারায় বলা হয়েছে সকলেই আইনের চোখে সমান মর্যাদা পাবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
শিক্ষার অধিকার একটি আইনগত সামাজিক অধিকার।
আইনের শাসন বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের সকল কার্য প্রতিষ্ঠিত আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়া এবং আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের সমানাধিকার নিশ্চিত করা। এটি সরকারকে স্বৈরাচারী হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং পূর্বনির্ধারিত ও ঘোষিত আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার সুরক্ষিত করে।''
উদ্দীপকের আলোচিত বিষয়টি হলো মানবাধিকার যার উৎস জাতিসংঘ এবং মৌলিক অধিকার হলো সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় অধিকার।
মানবাধিকার হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তির সহজাত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার যা মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্জিত হয়। অন্যদিকে, নাগরিকের সুসভ্য জীবনযাপনের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা কোনো দেশের সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অলঙ্ঘনীয়, তাকে মৌলিক অধিকার বলে।
সম্পর্কগত দিক থেকে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিবিড়ভাবে জড়িত কারণ উভয়টির মূল লক্ষ্য ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও কল্যাণ সাধন। প্রকৃতপক্ষে, মানবাধিকার হলো মৌলিক অধিকারের ভিত্তি; যখন কোনো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার একটি রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়, তখন তা ওই দেশের প্রেক্ষাপটে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা পায়। উদ্দীপকের বিষয়টি (৬নং ধারা) একটি মানবাধিকার যা বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে ২৭নং অনুচ্ছেদে স্থান পেয়েছে।
মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সুশাসন একটি অপরিহার্য উপাদান কারণ সুশাসন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তম্ভ মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
সুশাসনের প্রধান উপাদানসমূহের সাথে মানবাধিকারের মধ্যকার সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আইনের শাসন: সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমানাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যা মানবাধিকারের মূলভিত্তি।
স্বচ্ছতা ও তথ্য অধিকার: সুশাসন ব্যবস্থায় সরকারি কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকে, ফলে নাগরিকরা তথ্য অধিকারের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে।
জবাবদিহিতা: সরকার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ কমে যায়।
স্বাধীন বিচার বিভাগ: সুশাসনের অধীনে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকারের অভিভাবক হিসেবে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে।
অতএব বলা যায়, সুশাসন ব্যতীত মানবাধিকারের চর্চা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। একটি সমাজ যখন মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তখনই সেখানে টেকসই সুশাসনের ভিত্তি শক্তিশালী হয় এবং নাগরিকের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।