| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কলেজ পড়ুয়া আরহাম…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

কলেজ পড়ুয়া আরহাম তার শিক্ষক ও বন্ধুদের কাছে প্রিয়। সে প্রতিদিন সময়মতো ক্লাসে আসে। বিগত ভয়াবহ বন্যার সময় সে ও তার বন্ধুরা বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
"যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তি আইন”- উক্তিটি এরিস্টটলের।
সমাজতান্ত্রিক সরকার বলতে সেই ধরনের সরকারব্যবস্থাকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না।
সমাজতন্ত্র হচ্ছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের তথা পুঁজিবাদের বিপরীতধর্মী ব্যবস্থা। সমাজতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলোর ওপর ব্যক্তিমালিকানার পরিবর্তে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজতন্ত্র উৎপাদনের যৌথ মালিকানা এবং উৎপাদিত সামগ্রীর প্রয়োজনভিত্তিক বণ্টনের নীতিতে বিশ্বাসী। সার্বিকভাবে বলা যায়, সমাজতন্ত্র হলো এমন একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের সকল উপকরণ বণ্টন ও বিনিয়োগ রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সকল প্রকার ব্যক্তিগত মালিকানা বিলোপ করে রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষের কর্মকাণ্ডে নৈতিক মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে।
যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালিত করে তাকে মূল্যবোধ বলা হয়। মূল্যবোধের অন্যতম ধরন হলো নৈতিক মূল্যবোধ। এরূপ মূল্যবোধ মানুষের ন্যায়-নীতিবোধ থেকে উৎসারিত। নৈতিক মূল্যবোধের কারণে মানুষ ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, ভালো-মন্দ বিষয়ে পার্থক্য করতে পারে। সত্য কথা বলা, মিথ্যা কথা না বলা, অন্যায়কে ঘৃণা করা, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অপরের মঙ্গল কামনা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায় দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এ লক্ষ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটিতে ত্রাণ তহবিলে টাকা দেওয়ার জন্য লাইন পড়ে যায়। তারা বন্যার্তদের কাছে খাবার, পানি, ঔষধ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের এরূপ কর্মকাণ্ডে নৈতিক মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে। কেননা, অসহায় আর বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত মানুষের কর্মকান্ডে নৈতিক মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে।
সমাজে মানবতাবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লেখিত মূল্যবোধ অর্থাৎ নৈতিক মূল্যবোধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও ভালো-মন্দের বোধ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম হয়। পরিবার ও সমাজ থেকে পাওয়া শিক্ষা মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধের কারণে মানুষ বিভিন্ন কল্যাণের বিষয়ে সচেতন থাকে। ফলে সমাজে মানবতাবোধ জাগ্রত হয়। নৈতিক মূল্যবোধের তাগিদেই ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির এবং সমাজের প্রতি ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ জাগ্রত হয়। সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সৃষ্টি হয়। এ ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ব্যক্তি ও সমাজকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। দৃষ্টান্ত হিসেবে আরহামের কথা বলা যায়। বিগত ভয়াবহ বন্যার সময় সে ও তার বন্ধুরা বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে।। বলিষ্ঠ নৈতিক মূল্যবোধের কারণেই তাঁর মধ্যে এমন মানবতাবোধ জাগ্রত হয়েছিল।
নৈতিক মূল্যবোধ এভাবে মানুষকে একে অপরের দুঃখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অনুপ্রাণিত করে। মূল্যবোধ সমাজব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে সমাজে স্থিতিশীলতা আনে। মানুষ তার মূল্যবোধের তাগিদেই দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন ত্যাগ স্বীকার করে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই ব্যক্তির মধ্যে মানবতাবোধ জাগ্রত হয়, যা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, সমাজে মানবতাবোধ জাগ্রত করার জন্য নৈতিক মূল্যবোধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।