| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ Combined ২০১৮ – মৌলের পর্যাবৃত্তিক ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন, রসায়ন, রসায়ন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
যেসব দ্রবণে সামান্য পরিমানে এসিড বা ক্ষার যোগ করা হলে PH এর মান পরিবর্তন হয় না তাদেরকে বাফার দ্রবণ বলে।
NaOH ও HCl এর প্রশমন তাপের মান ধ্রুবক। 1 mol OH- কে প্রশমিত এসিড দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করতে, যে পরিমান তাপের উদ্ভব ঘটে সেই পরিমান তাপই হলো প্রশমন তাপ। এখানে তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষার (NaOH) দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়ে যথাক্রমে H+ ও OH- আয়ন দেয়।
HCl (aq) H+(aq) + Cl-(aq)
NaOH(aq) Na+(aq) + OH-(aq)
তাহলে NaOH ও HCl যৌগদ্বয়ের মূল বিক্রিয়া হলোঃ-
অর্থাৎ সকল তীব্র এসিড (HCl) ও তীব্র ক্ষার (NaOH) এর বিক্রিয়ার 1 mol পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। এ কারণেই NaOH ও HCl এর প্রশমন তাপের মান ধ্রুবক।
উদ্দীপকের X ও Y মৌল দুটি যথাক্রমে ফ্লোরিন (F) ও ক্লোরিন (Cl)। Cl এর ইলেকট্রন আসক্তির মান F অপেক্ষা বেশি। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলোঃ-
F ও Cl মৌল দুটির ইলেকট্রন বিন্যাসঃ-
F(9) = 1s2 2s2 2p5
Cl (17) = 1s2 2s2 2p6 3s2 3p5
পর্যায় সারণির একই গ্রুফে উপর হতে যতই নিচের দিকে যাওয়া যায় ততই ইলেকট্রন আসক্তি কমে যায়। এ হিসাবে হ্যালোজেন গ্রুফের ফ্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি ক্লোরিনের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টোটা দেখা যায়। এরূপ ব্যতিক্রমের কারণ হিসাবে F পরমানুর ক্ষুদ্রাকৃতিকেই দায়ী করা হয়। এর ইলেকট্রন বিন্যাসের সর্বশেষ শক্তিস্তর হলো দ্বিতীয় শক্তিস্তর। আর Cl এর ইলেকট্রন বিন্যাসের সর্বশেষ শক্তিস্তর হলো তৃতীয় শক্তিস্তর । তৃতীয় শক্তিস্তরের তুলনায় দ্বিতীয় শক্তিস্তরের আকার ছোট। এ ক্ষুদ্র পরিসরে সাতটি ইলেকট্রন থাকায় তাতে ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়। ফলে আগমনকারী প্রতি দ্বিতীয় শক্তিস্তরের ইলেকট্রন সমূহ পারস্পরিক বিকর্ষন বেশি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে F এর ইলেকট্রন আসক্তির মান কম হয়।
অপরপক্ষে Cl এর তৃতীয় শক্তিস্তর বড় হওয়ায় এতে যোজ্যতাস্তরের সাতটি ইলেকট্রন সহজেই গ্রহণ করে নেয়। আর ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব F এর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় ইলেকট্রন বিকর্ষন কম হয়। ফলে আগমনকারী ইলেকট্রন সহজে যোজ্যতাস্তরে প্রবেশ করতে পারে। তাই Cl এর ইলেকট্রন আসক্তির মান F এর চেয়ে বেশি হয়।
উদ্দীপকের P, Y এবং Z মৌল তিনটি যথাক্রমে Na, Cl ও Br। সুতরাং PY ও PZ যৌগদ্বয় যথাক্রমে NaCl ও NaBr। নিচে যৌগদ্বয়ের মধ্যে কোনটি অধিক আয়নিক তা বিশ্লেষন করা হলোঃ-
NaCl ও NaBr যৌগদ্বয়ের মধ্যে কোনটি অধিক আয়নিক তা ফাজানের নিয়ম অনুসারে ব্যাখ্যা করা যায়। ফাজানের নীতি হলো-
(i) ক্যাটায়নের আকার ক্ষুদ্র হলে
(ii) অ্যানায়নের আকার বড় হলে
(iii) ক্যাটায়নের d ও f অরবিটালে ইলেকট্রন থাকলে
(iv)ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের চার্জ অধিক হলে যৌগে পোলারায়নে মাত্রা অধিক হবে। যে যৌগে পোলারায়নের মাত্রা অধিক হবে। সে যৌগে পোলারায়নের মাত্রা যত অধিক হয় সে যৌগে সমযোজী বিশিষ্ট তত অধিক হয়। NaCl ও NaBr যৌগদ্বয়ের ক্যাটায়ন (Na+) একই হওয়া সত্ত্বেও অ্যানায়ন (Cl- ও Br- ) ভিন্ন। অ্যানায়ন দ্বয়ের চার্জ সত্ত্বেও অ্যানায়ন (Cl- ও Br- ) ভিন্ন। অ্যানায়ন দ্বয়ের চার্জ সমান হলেও Cl- আয়ন অপেক্ষা Br- আয়নের আকার অনেক বড়। আকার বড় হওয়ায় NaCl অপেক্ষা NaBr যৌগে অধিক পোলারায়ন ঘটে। ফলে NaBr যৌগে সমযোজী বিশিষ্ট অধিক হয়। যা ফলে NaCl অধিক আয়নিক প্রকৃতির হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, PY তথা NaCl এর আয়নিক ধর্ম PZ তথা NaBr অপেক্ষা অধিক হয়।