| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ Combined ২০২৬ – ব্রায়োফাইটা ও টেরেডোফাইটা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
ব্রায়োফাইটা () বিভাগের হেপাটিকপসিডা () শ্রেণির উদ্ভিদগুলোর থ্যালাস চ্যাপ্টা, বিষমপৃষ্ঠ এবং বাহ্যিক গঠন অনেকটা যকৃতের বা লিভারের () মতো খণ্ডায়িত হওয়ায় এদেরকে বলা হয়। যেমন: ।
উদ্ভিদের যেকোনো বিচ্ছিন্ন টিস্যুকে (যেমন- শীর্ষ মুকুল, কক্ষমুকুল, কচি পাতা বা পরাগধানী) সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত অবস্থায় উপযুক্ত কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে আবাদ করে অসংখ্য নতুন চারা উৎপাদন করার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিকে টিস্যু কালচার বা বলে। এটি মূলত একটি ইন-ভিট্রো () কালচার পদ্ধতি, যা মাইক্রোপ্রোপাগেশন () নামেও পরিচিত। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে রোগমুক্ত ও উন্নত জাতের প্রচুর চারা তৈরি করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত '' চিত্রটি হলো নামক সুতাকার শৈবাল।
প্রধানত জুস্পোর () বা চলরেণু সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. জুস্পোর সৃষ্টি: অনুকূল পরিবেশে ফিলামেন্টের যেকোনো সাধারণ কোষ (নিচের হোল্ডফাস্ট বাদে) জুস্পোরাঞ্জিয়াম () হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ভেতরের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে ৪ থেকে ৩২টি (কখনো কখনো ৬৪টি) ফ্লাজেলাযুক্ত স্পোর বা রেণু তৈরি করে, যাদের জুস্পোর বলা হয়।
২. জুস্পোরের নির্গমন ও নতুন ফিলামেন্ট গঠন: জুস্পোরগুলো পরিণত হলে মাতৃকোষের প্রাচীর বিদীর্ণ করে একটি থলির মতো আবরণে বাইরে আসে। আবরণটি গলে গেলে এরা পানিতে সাঁতার কাটে। কিছুক্ষণ পর এরা কোনো কঠিন বস্তুর সাথে যুক্ত হয়, ফ্লাজেলা হারিয়ে ফেলে এবং বিভাজিত হয়ে নতুন ফিলামেন্ট বা উদ্ভিদ গঠন করে।
চিত্র: এর অজৌন জনন
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র '' এবং চিত্র '' জীব দুটি যথাক্রমে শৈবাল ও টেরিডোফাইটা বা ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের প্রতিনিধিত্ব করে। এদের মধ্যে টেরিডোফাইটা বা ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ শৈবাল থেকে অধিক উন্নত। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
টেরিডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদের আকার আকৃতি শৈবালের থেকে বড়। টেরিডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়, যা উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু শৈবালের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। টেরিডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদে ভাস্কুলার টিস্যু আছে, যা একটি উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু শৈবালে কোনো ভাস্কুলার টিস্যু নেই। টেরিডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদ স্পোরোফাইটিক অর্থাৎ ডিপ্লয়েড যা উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, কিন্তু শৈবালের দেহ গ্যামিটোফাইটিক অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড। টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের যৌন জনন উগ্যামাস প্রকৃতির অর্থাৎ স্ত্রীগ্যামিট নিশ্চল এবং পুংগ্যামিট সচল ফ্লাজেলাবিশিষ্ট। এদের জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান। এগুলো উন্নত জীবের বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে শৈবালের যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোেগ্যামাস ও উগ্যামাস প্রকৃতির এবং শৈবালের জনুক্রম অসম এবং সুস্পষ্ট নয় যা উন্নত জীবের বৈশিষ্ট্য নয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, শৈবাল এবং টেরিডোফাইটা বিভাগের জীবের মধ্যে টেরিডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদ অধিক উন্নত।