| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ Combined ২০২৬ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
টিস্যু কালচার বা আবাদ করার উদ্দেশ্যে মাতৃ উদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যেকোনো সজীব টিস্যু বা অঙ্গকে (যেমন- শীর্ষ মুকুল, কচি পাতা বা পরাগধানী) এক্সপ্লান্ট () বলে।
বা অণুতে পর পর সজ্জিত তিনটি নাইট্রোজেনাস বেইস বা ক্ষারকের যে নির্দিষ্ট সজ্জাক্রম প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় একটি নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে, তাকে জেনেটিক কোড () বলে।
প্রতিটি জেনেটিক কোড তিনটি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত, তাই একে ট্রিপলেট কোডও () বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, হলো একটি জেনেটিক কোড যা মেথিওনিন () অ্যামাইনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে। মূলত এই কোডগুলোর মাধ্যমেই জীবের যাবতীয় বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রিত ও প্রকাশিত হয়।
উদ্দীপকের '' চিত্রটি একটি ক্যাকটাস () জাতীয় উদ্ভিদের, যা মূলত মরুজ উদ্ভিদ বা জেরোফাইট ()। চরম শুষ্ক ও উষ্ণ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এদের বিশেষ কিছু অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
নিচে এদের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্যগুলো দেওয়া হলো:
১. মূলতন্ত্র: পানির সন্ধানে এদের মূলতন্ত্র মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
২. কাণ্ড: এদের কাণ্ড রসালো, পুরু ও সবুজ হয় (যাকে ফাইলোক্ল্যাড বা বলে), যা পানি সঞ্চয় করে রাখে এবং পাতা না থাকায় সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়।
৩. পাতা: প্রস্বেদনের মাধ্যমে পানির অত্যধিক অপচয় রোধ করার জন্য এদের পাতাগুলো কাটায় () রূপান্তরিত হয়।
৪. কিউটিকল: ত্বক বা এপিডার্মিস () এর উপর কিউটিকল () এবং অনেক সময় মোমের পুরু প্রলেপ থাকে।
৫. পত্ররন্ধ্র: এদের পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা () পাতার বা কাণ্ডের ত্বকের গভীরে লুক্কায়িত থাকে (যাকে বলে), যা কেবল রাতেই খোলা থাকে।
উদ্দীপকের '' চিত্রটিতে উদ্ভিদের গোড়ার চারদিকে অসংখ্য খাড়া শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর দেখা যাচ্ছে, যা লবণাক্ত মাটির বা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের হ্যালোফাইট বা প্রধান বৈশিষ্ট্য। আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবন হলো এই ধরনের উদ্ভিদের বনাঞ্চল। সুন্দরবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলকে ঢালের মতো রক্ষা করে।
নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ: বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (যেমন- সিডর, আইলা, আম্পান) উপকূলে আঘাত হানার সময় সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ম্যানগ্রোভ বনের ঘন গাছপালা ও ডালপালা বাতাসের তীব্রতা শুষে নিয়ে জনবসতি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করে।
২. ভূমিরূপ রক্ষা ও ভূমিক্ষয় রোধ: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের ঠেসমূল ও শ্বাসমূল জালের মতো বিস্তৃত থেকে মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। এর ফলে সমুদ্রের প্রবল ঢেউ বা জোয়ার-ভাটার কারণে সৃষ্ট উপকূলীয় ভূমিক্ষয় বা ভাঙন রোধ হয়।
৩. সুনামির প্রভাব হ্রাস: সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির মতো ভয়ংকর ঢেউয়ের ধ্বংসাত্মক শক্তি প্রশমিত করতে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে ঢেউয়ের উচ্চতা ও গতি কমিয়ে দেয়।
৪. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: প্রবল জলোচ্ছ্বাসের পানি বনের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে লোকালয়ে হঠাৎ বন্যার প্রকোপ কমে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের '' উদ্ভিদের বনাঞ্চল অর্থাৎ ম্যানগ্রোভ বন বা সুন্দরবন কেবল জীববৈচিত্র্যই রক্ষা করে না, বরং এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটি দুর্ভেদ্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে প্রলয়ংকরী দুর্যোগ মোকাবেলায় অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে।