| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ Combined ২০২৬ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর যে বাইরের স্তরটি বিভাজিত ও বিকশিত হয়ে উদ্ভিদের ত্বক বা এপিডার্মিস (মূলের ক্ষেত্রে এপিব্লেমা) গঠন করে, তাকে প্রোটোডার্ম (Protoderm) বলে।
একটি কোষ সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজিত হওয়ার যে চক্রাকার প্রক্রিয়া, তাকে কোষচক্র (Cell cycle) বলে। ১৯৫৩ সালে বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড এবং পেল্ক কোষচক্রের প্রস্তাব করেন। একটি সম্পূর্ণ কোষচক্র প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. ইন্টারফেজ: এটি কোষের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়, যা কোষচক্রের মোট সময়ের প্রায় ৯০৯৫ ব্যয় করে।
২. এম-ফেজ বা মাইটোটিক ফেজ: এটি কোষের প্রকৃত বিভাজন পর্যায়, যা সম্পন্ন হতে ৫১০ সময় লাগে।
উদ্দীপকের '' চিহ্নিত অংশটি হলো ক্রোমোজোম। ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
ক্রোমোজোম মূলত নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন নিয়ে গঠিত। রাসায়নিকভাবে এতে নিচের উপাদানগুলো থাকে:
নিউক্লিক এসিড: ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং (রাইবো নিউক্লিক এসিড)। একটি আদর্শ ক্রোমোজোমে প্রায় ৪৫ থাকে।
প্রোটিন: ক্রোমোজোমে প্রায় ৫৫ প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন দুই ধরনের— উচ্চ আণবিক ওজন সম্পন্ন অম্লীয় বা নন-হিস্টোন প্রোটিন এবং নিম্ন আণবিক ওজন সম্পন্ন ক্ষারীয় বা হিস্টোন প্রোটিন।
এনজাইম: ক্রোমোজোমে পলিমারেজ এবং পলিমারেজ নামক এনজাইম থাকে।
খনিজ পদার্থ: এছাড়াও ক্রোমোজোমে সামান্য পরিমাণে বিভিন্ন খনিজ আয়ন যেমন- ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , আয়রন ইত্যাদি লিপিড সহ বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকের বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। জীবজগতে এই বিভাজনের গুরুত্ব অপরিসীম:
জীবদেহে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো:
১. দেহ গঠন ও বৃদ্ধি: একটিমাত্র কোষ (জাইগোট) থেকে মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমেই বহুকোষী জীবের বিশাল দেহের সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের ভাজক টিস্যুর কোষগুলো এই প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বৃদ্ধি করে।
২. ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষা: মাইটোসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। ফলে জীবের প্রতিটি কোষে জিনের বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ অবিকৃত থাকে।
৩. ক্ষতস্থান পূরণ: জীবদেহের কোনো অংশ কেটে বা ছিঁড়ে গেলে সেই স্থানে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতস্থান পূরণ হয়।
৪. অঙ্গজ প্রজনন: উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গজ প্রজনন (যেমন- কলম করা, কাটিং) এবং টিস্যু কালচারের মূল ভিত্তি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন।
৫. ভারসাম্য রক্ষা: কোষের স্বাভাবিক আকার ও আয়তন এবং নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের পরিমাণের মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য রক্ষা করতে মাইটোসিস অপরিহার্য।