| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ Combined ২০২৬ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
যে প্রক্রিয়ায় ইউক্যারিওটিক কোষে সদ্য সৃষ্ট হতে নন-কোডিং অঞ্চল বা ইন্ট্রনসমূহ () কেটে বাদ দিয়ে কেবল কোডিং অঞ্চল বা এক্সনগুলোকে () একত্রে জোড়া লাগানো হয়, তাকে স্প্লাইসিং () বলে।
বাধ্যতামূলক অন্তঃপরজীবী বলতে এমন জীব বা সত্তাকে বোঝায়, যারা কেবল জীবন্ত পোষক কোষের ভেতরেই বংশবৃদ্ধি বা জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাস () একটি বাধ্যতামূলক অন্তঃপরজীবী। এদের নিজস্ব কোনো কোষীয় অঙ্গাণু বা বিপাকীয় এনজাইম নেই। তাই এরা পোষক কোষের বাইরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং জড় পদার্থের মতো আচরণ করে। শুধুমাত্র জীবন্ত কোষে প্রবেশ করলেই এরা ওই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত ডাবল স্ট্র্যান্ডেড অংশটি হলো (যেহেতু এতে ক্ষারক আছে)। এটি থেকে 'M' প্রক্রিয়ায় সিঙ্গেল স্ট্র্যান্ডেড একটি অণু তৈরি হচ্ছে যাতে ক্ষারক রয়েছে, অর্থাৎ এটি । সুতরাং, থেকে তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন ()।
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি প্রধানত ৩টি ধাপে সম্পন্ন হয়-
১. সূচনা : প্রথমে পলিমারেজ এনজাইম অণুর নির্দিষ্ট প্রমোটার () অংশে যুক্ত হয়। এর ফলে ঐ স্থানের প্যাঁচ খুলে যায় এবং দুটি সূত্রক আলাদা হয়ে যায়। এর মধ্যে ৩' ৫' অভিমুখের সূত্রকটি ছাঁচ বা টেমপ্লেট () হিসেবে কাজ করে।
২. সূত্রক বর্ধিতকরণ : পলিমারেজ এনজাইমটি ছাঁচ সূত্রক ধরে সামনের দিকে অগ্রসর হয় এবং এর পরিপূরক ক্ষারক (যেমন- এর বিপরীতে , এর বিপরীতে ) যুক্ত করে ৫' ৩' অভিমুখে নতুন একটি সূত্রক তৈরি করতে থাকে।
৩. সমাপ্তিকরণ : এনজাইমটি এর টার্মিনেটর () অংশে পৌঁছালে সংশ্লেষণ থেমে যায়। তখন পলিমারেজ এনজাইম এবং সদ্য তৈরি হওয়া সূত্রকটি থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং পুনরায় আগের মতো প্যাঁচিয়ে যায়।
উদ্দীপকের ‘’ ও ‘’ প্রক্রিয়া দ্বারা যথাক্রমে ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করা হলো-
বিষয় বস্তু : সংজ্ঞা বা প্রক্রিয়া
ট্রান্সক্রিপশন : টেমপ্লেটকে অনুসরণ করে সংশ্লেষ প্রক্রিয়া।
ট্রান্সলেশন : এর কোডন অনুসরণ করে পলিপেপটাইড শৃঙ্খল সংশ্লেষ প্রক্রিয়া।
বিষয় বস্তু : ব্যবহৃত উপকরণ
ট্রান্সক্রিপশন : এক্ষেত্রে ও ব্যবহৃত হয়।
ট্রান্সলেশন : এক্ষেত্রে সাধারণত ২০ ধরনের অ্যামিনো এসিড ব্যবহৃত হয়।
বিষয় বস্তু : সংঘটনের স্থান
ট্রান্সক্রিপশন : প্রোক্যারিওট কোষের সাইটোপ্লাজমে এবং ইউক্যারিওট কোষের নিউক্লিয়াসে এই প্রক্রিয়াটি ঘটে।
ট্রান্সলেশন : এটি সর্বক্ষেত্রেই সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে।
বিষয় বস্তু : প্রয়োজনীয় এনজাইম ও ফ্যাক্টর
ট্রান্সক্রিপশন : পলিমারেজ এনজাইম লাগে, তবে প্রারম্ভিক, দীর্ঘকরণ বা সমাপ্তিকরণ ধাপের জন্য আলাদা কোনো ফ্যাক্টর প্রয়োজন হয় না।
ট্রান্সলেশন : এই প্রক্রিয়ার প্রারম্ভিক, দীর্ঘকরণ এবং সমাপ্তিকরণ ধাপগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের প্রয়োজন হয়।
বিষয় বস্তু : রাইবোসোমের প্রয়োজনীয়তা
ট্রান্সক্রিপশন : এই প্রক্রিয়ায় রাইবোসোম প্রয়োজন হয় না।
ট্রান্সলেশন : ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াটি মূলত রাইবোসোমের উপর ভিত্তি করেই চলে।
বিষয় বস্তু : প্রমোটারের ভূমিকা ও অন্যান্য এনজাইম
ট্রান্সক্রিপশন : নন-টেমপ্লেট এর প্রমোটার সাইটে পলিমারেজ যুক্ত হয়।
ট্রান্সলেশন : এখানে কোনো প্রমোটার লাগে না। এর প্রধান এনজাইমগুলো হলো পেপটিডিল ট্রান্সফারেজ, ট্রান্সলোকেজ ইত্যাদি।