| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – অর্থনৈতিক রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
যেসব মূলকের উপস্থিতিতে কোনো যৌগের কেন্দ্রীয় বলয়ে ইলেকট্রন ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় ঐসব মূলককে সক্রিয়কারী মূলক বলে।
একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার যে অর্ধকোষে কেবল জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় তাকে জারণ অর্ধকোষ বিক্রিয়া বলে। যেমন- ডেনিয়েল কোষে Zn(s)/ZnSO4(aq) বা Zn(s)/Zn2+(aq) হলো একটি জারণ অর্ধকোষ।
(জারণ অর্ধকোষ বিক্রিয়া)
উদ্দীপকের A হলো নিউজপ্রিন্ট বা কাগজ। নিচে কাগজ প্রস্তুতির মূলনীতি বর্ণনা করা হলো-
কাগজ এর প্রধান কাঁচামাল হলো কাঠ ও বাঁশ। কাঠ ও বাঁশ থেকে কাগজ উৎপাদনের পদ্ধতি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১. কাঠ/বাঁশ থেকে পাল্প উৎপাদন।
২. পাল্প থেকে কাগজ শীট উৎপাদন।
১. পাল্প উৎপাদন: বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য Na2S, Na2CO3, NaOH, Ca(OH)2, Ca(HSO3)2 প্রভৃতি দ্বারা তৈরি কুকিং লিকার ব্যবহার করে কাঠ বা বাঁশ থেকে লিগনিন এবং অন্যান্য অসেলুলোজীয় পদার্থ দ্রবীভূত করে পৃথক করা হয় এবং সেলুলোজ সংগ্রহ করা হয়। এভাবে উৎপন্ন সেলুলোজের কাই-এর নামই পাল্প।
২. কাগজ উৎপাদন: প্রাপ্ত পাল্পকে বিভিন্ন ইউনিট প্রসেস ও ইউনিট অপারেশন দ্বারা অস্বচ্ছ, ছিদ্রহীন, তরল পদার্থরোধী ও মসৃণ পৃষ্ঠতল বিশিষ্ট পাতলা শীট-এ পরিণত করা হয়। এরই নাম কাগজ শীট। পাল্পকে কাগজে পরিণত করার জন্য তিনটি ধাপ অণুসরণ করা হয়। যথা-
i. বিটিং: একটি যান্ত্রিক বিটারে পাল্পকে বিটিং করে সুষম পাল্পে পরিণত করা হয়।
ii . রিফাইনিং: পাল্পের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যেমন ফিলার, সাইজিং দ্রব্য হিসেবে Na2CO3, Na2SO4 ও বিরঞ্জক হিসেবে Ca(OCl)2 যোগ করে রিফাইনার বা জর্ডান ইঞ্জিনে চালনা করলে ছিদ্রহীন, মসৃণ ও সাদা পাল্প পাওয়া যায়।
iii. পেপার শীট উৎপাদন: একে একটি ফোরড্রিনিয়ার মেশিনে ড্রাইং ও বারবার চাপ প্রদানের সাহায্যে মসৃণ শীট-এ পরিণত করা হয়। এ কাগজ শীট-ই বাজারজাত করা হয়।
উদ্দীপকের দ্রব্য অর্থাৎ কাগজের পুনঃচক্রায়ন যা রিসাইক্লিং অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। তাই এর রিসাইক্লিং এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
পেপার তৈরির মূল উপাদান কাঠ। এজন্য প্রচুর গাছ কাটতে হয়। গাছ থেকে পাল্প তৈরির সময় প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিক দ্রব্যের অব্যবহৃত অংশ বর্জ্য হিসেবে পানি ও মাটিতে প্রবেশ করে এবং পরিবেশ দূষিত করে। আবার পেপারের মধ্যে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য মাটি ও পানির সাথে মিশে তা দূষিত করে। কিন্তু পেপারকে পুনঃচক্রায়ন করা হলে পরিবেশের বন্ধু গাছ কাঁটার প্রয়োজন কমে যায়। পাল্প তৈরি বা পেপার থেকে উৎপন্ন রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ পরিবেশে ফেলার সম্ভাবনা থাকে না। কাগজ তৈরিতে যে পরিমাণ পানিতে দূষণ ঘটে কাগজ পুনঃচক্রায়নে ততটা ঘটে না। নতুন কাগজ উৎপাদনের তুলনায় কাগজ রিসাইক্লিং/পুনঃচক্রায়নে পানি দূষণ ৩৫% কম এবং বায়ু দূষণ ৭৪% কম ঘটে।
আবার, জ্বালানি থেকে সৃষ্ট CO₂ দ্বারা গ্রিন হাউজ প্রভাব মুক্ত পরিবেশ থাকে। তাই উন্নত দেশসমূহে পেপার পুনঃ প্রক্রিয়াজাতকরণ গুরুত্বসহকারে কার্যকর রাখে। যেমন- 2010 সালে আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রে 63.5% কাগজ সামগ্রীকে রিসাইকিলিং করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, কাগজ প্রস্তুতিতে রিসাইক্লিং তথা পুনঃচক্রায়ন যথেষ্ট পরিবেশ বান্ধব।