| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
স্যাক্রাল কশেরুকাগুলো পরিণত বয়সে একীভূত হয়ে স্যাক্রাম গঠন করে।
লিভারে ফ্যালক্রাম, বল ও ভারের মাঝে থাকে। এই লিভারে বাহুর এক প্রান্তে বল প্রয়োগ করা হয়, ফলে ওজন অপরপ্রান্তে স্থানান্তরিত হয়। এখানে মানব দেহে ১ম শ্রেণির লিভার হিসেবে মাথার খুলি ও এটলাস কশেরুকা সন্ধিকে উল্লেখ করা যেতে পারে। এখানে আ্যাটলাস অক্সিপিটাল সঙ্গি ফালক্রাম হিসেবে কাজ করে যা বল ও ওজনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে। কশেরুকার পেশিসমূহ মস্তককে উত্তোলিত করে।
উদ্দীপকের X হলো নিরেট অস্থি। নিচে নিরেট অস্থির অভ্যন্তরীণ গঠন বর্ণনা করা হলো:
নিরেট বা দৃঢ় অস্থি: এ অস্থি অত্যন্ত কঠিন। এর গঠনমূলক একককে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বলে । অস্থির শক্ত অংশের রক্তনালি হ্যাভারসিয়ান নালি নামে অভিহিত । এ নালির মধ্যে এক বা একাধিক রক্ত নালি, লসিকা নালি, স্নায়ু এবং কয়েকটি মজ্জাকোষ থাকতে পারে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পর আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে, তাই নালিগুলোকে ভক্স ম্যানের নালি বলা হয়। এসব নালির মধ্যে রক্তনালি এবং য়ায়ুরজ্জ অবস্থান করে। হ্যাভারসিয়ান নালির চারপাশে শক্ত আন্তকোষীয় পদার্থ বৃত্তের ন্যায় স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে যা ল্যামেলা নামে পরিচিত, দুটি ল্যামেলা_ ভরের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফাপা স্থানকে ল্যাকুনা বলে। অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভেতরে অবস্থান করে। ল্যাকুনাগুলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালির দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। এদের ক্যানলিকুলি বলে। অস্থিকোষের প্রলম্বিত অংশগুলো ক্যানালিকুলির মধ্যে প্রসারিত থাকে৷ হ্যাভারসিয়ান ক্যানেল, ল্যামেলা, ল্যাকুনি এবং ক্যানালিকুলিকে একত্রে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিয়ন বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে X হলো অস্থি এবং Y হলো পেশি। অস্থির চলনে পেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা আলোচনা করা হলো:
চলন একটা জটিল কাজ । চলতে উক্ত তন্ত্রদ্বয় যে যুগপতভাবে কাজ করে মানবদেহের এঁচ্ছিক পেশিসমূহ কঙ্কালের গায়ে সংলগ্ন থাকে। তাছাড়া নির্দিষ্ট অস্থিসন্থির মাধ্যমে সন্নিহিত অস্থিগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। চলনের সময় সংশ্লিষ্ট অস্থিগুলো ভেতরের দিকে ও বাইরের দিকে সঞ্চালিত হয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অস্থির সাথে দু'ধরনের পেশি সংলগ্ন থাকে। অস্থি সংলগ্ন দু'ধরনের পেশি সংকুচিত বা প্রসারিত হয়ে অস্থিকে নির্দিষ্ট দিকে বাকায়। এ দু'ধরনের পেশির কাজ পরস্পরের বিপরীত অর্থাৎ কোনো এক সময় কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গে এক ধরনের পেশি এক্সটেনসর সংকুচিত হলে এ একই সময় অপর পেশিটি ফ্লেক্সর প্রসারিত হয় মানুষের মস্তিষ্কের সেরিবেলাম এ ঐছিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
তাই দেখা যায় যে, মস্তিষ্কের নির্দেশে পেশিতন্ত্রের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অস্থির চলন ঘটে যাকে প্রকৃতপক্ষে দেহের গতি তথা চলন বলা হয়।