| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
কোষ সৃষ্টি, বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজন-এ তিনটি কাজ যে চক্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাকে কোষ চক্র বলে।
যেসব জীব খালি চোখে দেখা যায় না এবং যাদের শনাক্তকরণের জন্য অণুবীক্ষণযন্ত্রের প্রয়োজন হয় তাদেরকে বলা হয় অণুজীব। এরা খুবই ক্ষুদ্রাকার। পৃথিবীতে বৈচিত্র্যময় অসংখ্য অণুজীব আছে যেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দৈনন্দিন জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি।
উদ্দীপকের A হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ ধাপ এবং এর পরবর্তী ধাপ B হলো অ্যানাফেজ। আবার C হলো মিয়োসিস-১ কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ এর জাইগোটিন উপধাপ এবং এর পরবর্তী উপধাপ হলো প্যাকাইটিন। নিচে অ্যানাফেজ ধাপ এবং প্যাকাইটিন উপধাপের চিহ্নিত চিত্র আঁকা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত C চিত্রে প্রদর্শিত কোষ বিভাজনটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন।এটি জীবদেহের বৈচিত্র্য আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।যে কোষ বিভাজনে ক্রোমোসোম একবার এবং নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজন হয় তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে । মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বিভিন্ন স্থানে ইংরেজি 'X' অক্ষরের ন্যায় যুক্ত থাকে। এখানে ক্রসিং ওভার ঘটে। মায়োসিস কোষে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে। বংশগতিতে বিশেষত প্রকরণ সৃষ্টিতে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মায়োসিস হলো জীবসমূহের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টির একটি প্রধান উপায়।
মায়োসিসের ফলে জননকোষ (গ্যামিট) উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটলে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব।প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা কেবলমাত্র এ প্রক্রিয়ার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা হতে সন্তান-সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন করেই ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতো।ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে এ বিভাজনের মাধ্যমে । পৃথিবীর প্রায় সাতশ কোটি মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হয়েও একজন অন্যজন থেকে ভিন্নতর।একই প্রজাতির দুটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যও জীববৈচিত্র্যের অন্তর্গত। যৌন প্রজননক্ষম দুটি জীব কখনও হুবহু একরকম হয় না । মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় জননকোষ সৃষ্টিকালে ক্রসিংওভারের কারণে মাতাপিতার ক্রোমোসোমের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে, ফলে জীবের মধ্যে আসে বৈচিত্র্য। কারণ ক্রসিংওভারের ফলে ক্রোমোসোমের খণ্ডাংশের বিনিময় ঘটে। ফলে ক্রোমোসোমে নতুন জিন সংযোজন হয় । আর জিনের সংযোজন ও অবস্থানের কারণে প্রত্যেক অপত্য জীবের বংশপরম্পরায় - ভিন্নতা আসে। ফলে নতুন প্রজন্মে বৈচিত্র্যতা আসে। অর্থাৎ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জীবদেহে সৃষ্ট বৈচিত্র্যতার মূল কারণ হচ্ছে ক্রসিংওভার যা মিয়োসিস কোষ বিভাজনে সংঘটিত হয়।
অতএব বলা যায় যে, জীবদেহের বৈচিত্র্য আনয়নে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ভূমিকা অপরিসীম।