| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২১ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
বর্ণান্ধতা একধরনের বংশজনিত রোগ যেখানে X ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের মিউটেশনের কারণে ব্যক্তির বিভিন্ন বর্ণের পার্থক্য বুঝতে পারে না।
যেসব প্রাণী সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করে আজও অঙ্গসংস্থানিক ও শরীর বৃত্তীয় কাজের অপরিবর্তিত রূপ নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ এদের সমসাময়িক ও সমগোষ্ঠীও সকলেই বহু পূর্বে বিলুপ্তি ঘটেছে এবং যারা পর্ব থেকে পর্বের বা শ্রেণী থেকে শ্রেণীর উদ্ভবের নিদর্শন বহন করে চলেছে তাদেরকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলে। প্লাটিপাস এ ধরনের একটি জীবন্ত জীবাশ্ম। এর কিছু বৈশিষ্ট্য হলো-(যেমন- ডিম পারে, রেচন -জননতন্ত্র) সরীসৃপ শ্রেণীর মত, আবার কিছু বৈশিষ্ট্য (যেমন -স্তনগ্রন্থি, লোম) স্তন্যপায়ীর মতো।
F1 জনুর সন্তানদের জিনোটাইপের অনুরূপ জিনোটাইপধারী পুরুষ ও মহিলার বিয়ে হলে (কারণ মানুষের ভাই বোনের বিয়ে হয় না) তাদের সৃষ্ট পরবর্তী বংশধরার স্বাভাবিক বা শ্রবণ ক্ষমা ও মুকবধির সন্তান ৯:৭ অনুপাতে প্রকাশ পাবে। উপরের ছকের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি হলো দৈত্য-প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস যা বংশগতির মৌলিক সূত্রের তথা মেন্ডেলের ২য়সূত্রের ব্যতিক্রম। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো -মেন্ডেলের ২য় সূত্র দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে প্রথম বংশ ধরে F1 কেবলমাত্র একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য গুলোই প্রকাশিত হবে, কিন্তু জনন কোষ সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙ্গে পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র বা স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন জনন কোষের প্রবেশ করবে। সূত্র অনুযায়ী F2 বংশধরের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১
দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস: দুটি ভিন্ন লোক আছে অবস্থিত দুটি প্রচ্ছন্ন অ্যালিল যখন পরস্পরের প্রকট অ্যালিল বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়। তখন তাকে দৈত্য-প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস বলে।
(গ) নং এর ছক অনুযায়ী দেখা যায়, যাদের জিনোটাইপের প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস জিন হোমোজাইগাস ( aa বা bb )অবস্থায় রয়েছে তারা হয়েছে মুকও বধির। কিন্তু যাদের প্রচ্ছন্ন অ্যাপিস্ট্যাসিস জিন a অথবা b একটি করে রয়েছে অথবা প্রকট জিন A এবং B রয়েছে তারা হচ্ছে স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী F2 বংশধরের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ না হয়ে ৯:৭ হয়েছে। অর্থাৎ ৯ জন স্বাভাবিক এবং ৭ মুক বধির সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে যা মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম প্রকাশ করেছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনা বংশগতির মৌলিক সূত্রের সমর্থন করে না।