সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ফটোলাইসিস।
ATP-কে জৈবমুদ্রা বা শক্তিমুদ্রা বলা হয়। ATP-এর রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে যে শক্তি বের হয় সেই শক্তি দিয়ে জীবদেহের প্রতিটি জৈবনিক কাজ সম্পন্ন হয়। জীব যে খাবার খায় তা জারিত হয়। সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়। শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙ্গে, তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে। এ কারণে ATP কে রিচার্জেবল ব্যাটারির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়া-২ হলো শ্বসন প্রক্রিয়া এবং 'A' হলো শর্করা (C6H12O6)। শ্বসন প্রক্রিয়ায় ৩ অণু গ্লুকোজ বা শর্করা থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় তার তালিকা নিচে প্রস্তুত করা হলো-সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় ১ অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে সর্বমোট ৬ অণু CO₂, ৬ অণু পানি এবং ৩৮টি ATP উৎপন্ন করে। নিচে এই শক্তির হিসাব ছকের মাধ্যমে দেওয়া হলো-
এক্ষেত্রে:
১ অণু NADH+H+ = ৩ অণু ATP
১ অণু FADH2 = ২ অণু ATP
১ অণু GTP = ১ অণু ATP
অর্থাৎ ১ অণু গ্লুকোজ হতে নির্গত হয় ৩৮ অণু ATP
∴ ৩ অণু গ্লুকোজ হতে নির্গত হয় (৩৮X৩) অণু ATP = ১১৪ অণু ATP
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-১ দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ এবং প্রক্রিয়া-২ দ্বারা শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দুটি পরস্পরের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে H₂O ও CO₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। অর্থাৎ শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো CO₂ ও H₂O। কাজেই CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত এ CO, শ্বসনের ফলে তৈরি হয়। সকল সজীব কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও CO₂ উৎপন্ন হয়। শ্বসনে ব্যবহৃত এ শর্করা (গ্লুকোজ) ও ০₂ সালোকসংশ্লেষণেই তৈরি হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সালোকসংশ্লেষণে শর্করা এবং ০₂ তৈরি না হলে শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতো। আবার শ্বসন ক্রিয়ার ফলে CO₂ তৈরি না হলে সালোকসংশ্লেষণেও ব্যাঘাত ঘটতো।
