| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
কলেরা রোগের জীবাণুর নাম vibrio cholerae.
করোনাভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস। এ রোগ SARS-CoV-2 সংক্রমণে হয়ে থাকে।
এ রোগে প্রথমে জ্বর প্রকাশ পায়। এর পর শুকনো কাশি এবং কিছুদিন পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ ছাড়া সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলবোধ, পাতলা পায়খানা, মাংশপেশিতে ব্যথা এবং নিউমোনিয়ার হতে পারে। করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যেই এসব রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।এ ভাইরাস রোগীর হাঁচি, কাশি, থুথুর মাধ্যমে ছড়ায়। RT-PCR পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।
চিত্র-A হলো T2 ফায ব্যাকটেরিয়া। এটি একটি অতি পরিচিত ভাইরাস। নিচে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো :
T2 ভাইরাসের দেহকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা চলে, যথা:- মাথা এবং লেজ।
মাথা: মাথাটি স্ফীত ও ষড়ভুজাকৃতির প্রিজমের মতো। এটি প্রোটিন অণু দিয়ে তৈরি। থলি আকৃতির স্ফীত অংশের ভেতরে রিং আকৃতির দ্বি-সূত্রক একটি DNA অণু প্যাচানো অবস্থায় থাকে। DNA এর দৈর্ঘ্য ৫০ মাইক্রোমিটার। মাথার অধিকাংশ স্থানই ফাঁপা । T2 ফাযের DNA দ্বিসূত্রক এবং মোট ওজনের প্রায় ৫০%।
লেজ : মাথার পেছনে সরু অংশটির নাম লেজ। লেজের উপরিভাগে চাকতির মতো একটি কলার আছে এবং লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের মতো। এর অভ্যন্তরে কোনো DNA নেই। নিচের দিকে ১টি বেসপ্লেট, কাঁটার মতো কয়েকটি স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্তু আছে। এ সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এতে নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, কোষ প্রাচীর ও অন্য কোনো ক্ষুদ্রাঙ্গ, ইত্যাদি নেই।
চিত্র-B হলো ব্যাকটেরিয়া। কৃষিক্ষেত্রে এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া হলো একটি অতি সূক্ষ্ম অণুজীব। চিকিৎসাক্ষেত্রে, শিল্পক্ষেত্রে এবং কৃষিক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো :
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রধান ভূমিকা পালন করে। নানাবিধ আবর্জনা হতে পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব সার ও জৈব গ্যাস প্রস্তুত করে থাকে। এ জৈব সারের মাধ্যমে ম্যাটির উর্বরতা বাড়ে এবং ফসল ভালো হয়।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে মাটিতে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
নাইট্রিফিকেশন: অ্যামোনিয়া নাইট্রেট-এ পরিণত করাকে নাইট্রিফিকেশন বলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া নাইট্রিফিকেশন করে তাদের নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। যেমন- Nitrobacter.
পতঙ্গনাশক হিসেবে: কিছু ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন প্রকার পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়, যেমন- Bacillus thuringiensis.
পশু খাদ্য বা সিলেজ তৈরি: পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড় জাতীয় পদার্থকে খণ্ড খণ্ড করে কেটে পানি মিশ্রিত করে Lactobacillus sp এর কার্যকারিতায় পশুখাদ্য বা সিলেজ তৈরি হয়। Yeast মিশ্রিত খাদ্য খাওয়ালে গাভীর দুধের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধানের উৎপাদন এবং গমের উৎপাদন বেড়েছে।
সুতরাং বলা যায়, কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা অপরিসীম।