| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
প্রাকৃতিক পরিবেশে কোন জীবগোষ্ঠী যদি নিজেদের মধ্যে যৌন মিলন ঘটিয়ে জননক্ষম সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয় কিন্তু অন্য কোন গোষ্ঠীর সাথে প্রজননগতভাবে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা থাকে তখন ওই ধরনের জীব গোষ্ঠীকে প্রজাতি বলে। প্রজাতি হচ্ছে শ্রেণীবিন্যাস এর মূল ভিত্তি।
নিম্নে দ্বিস্তরী ও ত্রিস্তরী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো –
উদ্দীপকে ছকের P, Q, R-এর প্রাণীগুলো হলো যথাক্রমে ফিতাকৃমি, গোলকৃমি ও রুই মাছ। সিলোমের উপস্থিতি ও গঠনের ভিত্তিতে প্রাণী তিনটি বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ করা যায়। নিচে প্রাণী তিনটির মধ্যে সিলোম-এর ভিন্নতা রয়েছে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ফিতাকৃমি: এটি Platyhelminthes পর্বের প্রাণী। এরা ত্রিস্তরী প্রাণী। ত্রিস্তরী প্রাণীদের ভূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত যে ফাঁকা গহ্বরটি দেহ প্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মাঝখানে অবস্থান করে এবং পেরিটোনিয়াম নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে সিলোম বা পেরিভিসেরাল গহ্বর বলে। পেরিভিসেরাল গহ্বরের উপর ভিত্তি করে ফিতাকৃমি সিলোমবিহীন প্রাণী কেননা সিলোমের পরিবর্তে এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মধ্যবর্তী স্থান মেসেনকাইমা টিস্যু দ্বারা পূর্ণ থাকে।
২. গোলকৃমি: এটি Nematoda পর্বের প্রাণী এবং অপ্রকৃত সিলোমেট প্রাণী। অর্থাৎ এদের দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালি মধ্যবর্তী স্থানে গহ্বর থাকে, কিন্তু তা মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে না বরং বাইরের দিক পেশিস্তর দ্বারা বেষ্টিত থাকে।
৩. রুই মাছ (ইউসিলোমেট) : রুই মাছ Chordata পর্বের প্রাণী। এরা প্রকৃত সিলোমযুক্ত প্রাণী। কারণ এদের দেহগহ্বর মেসোডার্মাল এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত পেরিটোনিয়াম স্তরে সম্পূর্ণ বেষ্টিত থাকে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের ছকের প্রাণীদের মধ্যে সিলোমের ভিন্নতা রয়েছে।
উদ্দীপকের 'R' হলো রুই মাছ, যা Chordata পর্বের Vertebrata উপপর্বের Actinopterygii শ্রেণির মেরুদণ্ডী প্রাণী এবং 'Q' হলো গোলকৃমি, যা Nematoda পর্বের অমেরুদণ্ডী প্রাণী। রুই মাছ এবং গোলকৃমির মধ্যে কোনটি উন্নত নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
গোলকৃমির বৈশিষ্ট্য:
১. দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও দুদিক সুচালো।
২. দেহ নমনীয়, ইলাস্টিন নির্মিত অকোষীয় কিউটিকলে আবৃত।
৩. পৌষ্টিক নালী সোজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত প্রসারিত। এ কারণে এসব প্রাণীর দেহকে "নলের ভেতর নল" ধরনের গঠনের মতো দেখায়।
৪. মুখছিদ্র সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠে পরিবৃত।
৫. অধিকাংশ প্রাণী একলিঙ্গ, যৌনদ্বিরূপতা দেখা যায়।
রুই মাছের বৈশিষ্ট্য:
১. এদের অন্তঃকঙ্কাল অস্থিময়।
২. দেহ সাইক্লয়েড আঁইশে আবৃত।
৩. মাথার দু'পাশে একটি করে ফুলকারন্ধ্র অবস্থিত, যা কানকো দিয়ে আবৃত।
৪. পুচ্ছ পাখনা হোমোসার্কাল ধরনের।
৫. বায়ুথলি বা পটকা থাকে, যা দেহকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে ও অক্সিজেনের আধার হিসেবেও কাজ করে।
সুতরাং উপরে আলোচিত গোলকৃমি এবং রুই মাছ উভয়ের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বুই মাছে বিদ্যমান বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত শ্রেণির প্রাণীতে বিদ্যমান। কিন্তু গোলকৃমির বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত প্রাণীতে দেখা যায় না। তাই বলা যায়, গোলকৃমি এবং রুই মাছ উভয়ের মধ্যে রুই মাছ উন্নত।