শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য প্রক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে এমন শক্তিসমৃদ্ধ যৌগই হলো জৈবমুদ্রা।
বাতাসের অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাসের মতো মিথেন একটি বিষাক্ত গ্যাস। বাতাসে মিথেন গ্যাসের আধিক্য থাকলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। আমরা জানি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। যদি সালোকসংশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটে তখন গ্লুকোজ উৎপন্নেও ব্যাঘাত ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পাতায় সূর্যালোক, CO2, H2O ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় গ্লুকোজ জাতীয় খাদ্য ও O₂ তৈরি করে। এ O₂ পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরে বের হয়ে যায় এবং গ্লুকোজ পরিবহণ টিস্যু ফ্লোয়েমের মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। ফ্লোয়েম মূলত সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম ফাইবার নিয়ে গঠিত। সিভকোষ দীর্ঘ, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত ও জীবিত কোষ। এগুলো লম্বালম্বিভাবে একটির উপর একটি পরপর সজ্জিত হয়ে সিভনল গঠন করে। এই সিভনলের ভিতর দিয়ে পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে যায়। ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা হলো পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত কোষ এবং ফ্লোয়েম ফাইবার হলো স্ক্লেরেনকাইমা জাতীয় দীর্ঘ কোষ যাদের প্রান্তদেশ পরস্পর যুক্ত হয়ে নলের সৃষ্টি করে। এই উভয় ধরনের কোষও পাতায় তৈরি খাদ্য পরিবহণ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহণ করে। এভাবে পরিবহণ টিস্যু ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় তৈরি খাদ্য অর্থাৎ গ্লুকোজ উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়।
উদ্দীপকের ও প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে H₂O ও CO₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। অর্থাৎ শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো CO₂ ও H₂O। কাজেই CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত এ CO₂শ্বসনের ফলে তৈরি হয়। সকল সজীব কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও CO₂ উৎপন্ন হয়। শ্বসনে ব্যবহৃত এ শর্করা (গ্লুকোজ) ও O2 সালোকসংশ্লেষণই তৈরি হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সালোকসংশ্লেষণে শর্করা এবং O₂ তৈরি না হলে শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেত। আবার শ্বসন ক্রিয়ার ফলে CO₂ তৈরি না হলে সালোকসংশ্লেষণেও ব্যাঘাত ঘটতো। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতো।
সুতরাং, সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়াই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়াই একে অপরের পরিপূরক।
