| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
আদর্শ দৈহিক ওজনের ২০% বা তারও বেশি পরিমান মেদ দেহে সঞ্চিত হয়ে অস্বাভাবিকভাবে মুটিয়ে যাওয়াকে স্থূলতা বলে।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে দাতের সংখ্যা ও ধরন যে সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে দন্ত সংকেত বলে। মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাত থাকে। মানুষের দন্তসংকেত হল- I2C1P2M3/ I2C1P2M3
= 8x8/ 8x8
= 16+16
=32
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' হলো অগ্নাশয়। নিচে অগ্নাশয় এর গঠন বর্ণনা করা হলো:
অগ্নাশয় ১২-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং প্রায় ৫ সেন্টিমিটার চওড়া একটি মিশ্র গ্রন্থি (mixed gland)। অগ্নাশয় গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা একত্রিত হয় এবং উইর্সাং নালি (duct of Wirsung) গঠন করে। এ নালী গ্রন্থের দৈর্ঘ্য বরাবর এসে ডিউডেনামের কাছে অভিন্ন পিত্তনালী সাথে মিলিত হয়ে অ্যাম্পুলা অব ভ্যাটার-এর মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে।অগ্নাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি হওয়ায় এটি বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত “A” অঙ্গটি হলো যকৃত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি বিপাকীয় ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো:
যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক : যকৃত গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক : যকৃত ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃত অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ : যকৃত কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে ।
৬. হরমোন ভাঙ্গন: যকৃত বিভিন্ন হরমোনের কর্মকাণ্ডে স্থায়ী অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হরমোন ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া যকৃত লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন ও ভাঙ্গন, হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গন, কোলেস্টেরল উৎপাদন, পিত্ত উৎপাদন এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপাকীয় ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে।
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয় : গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
2. রক্তসঞ্চয় : যকৃত রক্তের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে। ১৫০০ সি.সি. রক্ত এতে জমা থাকে। প্রয়োজনে রক্তের অভাব পূরণ করে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয় : যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ( B ও C), নিকো টিনিক এসিড (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
৪. চর্বি ও অ্যামিনো এসিড সঞ্চয় : শর্করাকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অ্যামিনো এসিড ও চর্বি সঞ্চয় করে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. মিনারেল সঞ্চয় : যকৃত লৌহ ও পটাসিয়াম সঞ্চয় করে। লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনে হিমোগ্লোবিন যকৃতের কাপফার কোষের মাধ্যমে হিম ও গ্লোবিন-এ পরিণত হয়। হিমের লৌহ অংশ ফেরিটিন হিসেবে যকৃতে জমা থাকে। এছাড়াও কপার, জিঙ্ক,কোবাল্ট ইত্যাদি মিনারেল স্বল্পমাত্রায় যকৃতে সঞ্চিত থাকে।