| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
অ্যানজাইনা হলো এক প্রকার হৃৎপিণ্ডজনিত বুক ব্যথা। হৃদপেশি যখন সমৃদ্ধ পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ পায় না তখন এ ব্যথা অনুভূত হয়।
অস্থিসন্ধির স্থানচ্যুতি প্রধানত-চার প্রকার। যথা-
i. জন্মগত চ্যুতি
ii. আঘাতজনিত চ্যুতি
iii. রোগজনিত চ্যুতি
iv. বাতজনিত চ্যুতি।
উদ্দীপকে C হলো মস্তিষ্ক এবং প্রক্রিয়াটি দ্বারা শ্বাস-প্রশ্বাস কার্যক্রমকে বুঝানো হয়েছে। এই কার্যক্রমকে মস্তিষ্ক স্নায়ুবিক ও রাসায়নিক এই দুই ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে তা উপস্থাপন করা হলো-
১. স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ: পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মেডুলা অবলাংগাটা আমাদের বক্ষ অঞ্চলের প্রশ্বাস নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিকে বলা হয় শ্বসন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। এই শ্বসন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের রয়েছে দুটি অংশ যথা নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। স্নায়ুবিক শ্বসন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের স্নায়ুগুলো করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে ডায়াফ্রাম ও বক্ষপিঞ্জরের সাথে যুক্ত থাকে। আমাদের প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের কর্ম উদ্দীপনা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিও বৃদ্ধি পায়। আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পেলে অক্সিজেন শোষণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বর্জনের হারও বাড়ে। আমরা যখন বিশ্রামে নেই তখন দেহে অক্সিজেনের চাহিদাও কমে যায়। অর্থাৎ চাহিদা ও যোগানের এই ভারসাম্য ছন্দবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় (প্রতিবর্ত ক্রিয়া) ফিডব্যাক মেকানিজমের মাধ্যমে।
২. রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ : মস্তিষ্কের মেডুলা রক্তের অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্বের প্রতি সংবেদনশীল। রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্ব বেড়ে গেলে মেডুলার সাথে সংশ্লিষ্ট স্নায়ু বক্ষ পিঞ্জর ও ডায়াফ্রামের পেশিতে সংকেত পাঠায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ে এবং রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমে ও অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে। এইভাবে রাসায়নিক উদ্দীপনার মাধ্যমেও আমাদের দেহের প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের B হলো ফুসফুস এবং C হলো মস্তিষ্ক। ফুসফুস ও মস্তিষ্কের মধ্যে ও পরিবহন কৌশল নিচে বর্ণনা করা হলো-
পরিবহন : ফুসফুস হতে রক্তে দু'ভাবে পরিবাহিত হয়, যথা-ভৌত দ্রবণরূপে ও রাসায়নিক যৌগরূপে।
i. ভৌত দ্রবণরূপে : প্রতি ১০০ মি.লি. রক্তে ০.৩ মি.লি. ভৌত দ্রবণরূপে পরিবাহিত হয়।
ii. রাসায়নিক যৌগরূপে: রক্তে প্রবেশের পর লোহিত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সি-হিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সি-হিমোগ্লোবিন যৌগ হিসেবে অক্সিজেন দেহকোষে পরিবাহিত হয়।
হিমোগ্লোবিন]
পরিবহন : দেহকোষে উৎপন্ন তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে রক্তে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়।
i. ভৌত দ্রবণরূপে: কিছু পরিমাণ (৫%) -এর সাথে রক্তের প্লাজমার পানির বিক্রিয়ায় কার্বনিক এসিড উৎপন্ন হয়ে রক্তে পরিবাহিত হয়।
ii. কার্বামিনো যৌগরূপে : লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে যুক্ত করে কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে, কার্বামিনো প্রোটিন গঠন করে। মোট -এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বামিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয়।
iii. বাইকার্বনেট যৌগরূপে: -এর বেশির ভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বনেটরূপে পরিবাহিত হয়। এটি রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।