| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ডঃ কবির তার…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

ডঃ কবির তার গবেষণাগারে একটি বিশেষ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে হুবহু অনেক ধানের চারা উৎপন্ন করলেন। ডঃ আহসান এইসব চারাগাছকে অন্য এক প্রযুক্তির মাধ্যমে লবণ সহিষ্ণু জাতে পরিবর্তন করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
জিন ক্লোনিং হলো কোনো জীবের DNA পৃথক করে তা থেকে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কাঙ্ক্ষিত জিন চিহ্নিত করে ঐ জিনকে হুবহু কপি করা অর্থাৎ কোনো জিনের 'অভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একাধিক প্রতিরূপ তৈরির পদ্ধতি হলো জিন ক্লোনিং।
অসংখ্য নিউক্লিওটাইড বিভিন্ন বিন্যাসে সজ্জিত হয়ে DNA অণু গঠন করে। DNA অণুর অনুদৈর্ঘ্যে ATGC বেসগুলো কোন অনুক্রমে সজ্জিত থাকে তাহলো জিনোম সিকোয়েন্স। আর এ সিকোয়েন্সটি (সাজানী পদ্ধতিটি) উদঘাটন করাই হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং। লম্বা DNA অণুটি একসাথে সিকোয়েন্সিং করা সম্ভব হয় না। তাই DNA অণুকে উপযুক্ত দূরত্বে কেটে নেওয়া হয় এবং খন্ডগুলোর সিকোয়েন্সিং করে একসাথে মিলিয়ে পর্ণ দৈর্ঘ্যের সিকোয়েন্সিং উপস্থাপন করা হয়।
উদ্দীপকের ড. কবির এর প্রযুক্তিটি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি।। নিচে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ধাপসমূহ ধারাবাহিকভাবে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হলো-
১. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: অবশ্যই নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ হতে এক্সপ্লান্ট নির্বাচন করতে হবে।
২. কালচার মিডিয়াম তৈরি: উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য কালচার মিডিয়াম প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান ভিটামিন, সুক্রোজ, ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা দরকার।
৩. জীবাণুমুক্তকরণ: কালচার মিডিয়াম জীবাণু মুক্ত রাখার জন্য পাত্রটিকে নির্জীবকরণ যন্ত্র দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪. মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট বা টিস্যু স্থাপন: এক্সপ্ল্যান্ট নির্জীব করে সম্পূর্ণ নির্জীব অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করতে হবে।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যা বৃদ্ধি: মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট তথা টিস্যু বৈদ্যুতিক আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বারবার বিভাজিত হয়ে একটি কোষীয় মণ্ডে পরিণত হয়। এই কোষীয় মণ্ডকে ক্যালাস বলে। ক্যালাস থেকে একসময়ে অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।
৬. চারা উৎপাদন: মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হলে সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারায় পরিণত হয়।
৭. চারা টবে স্থানান্তর: উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে সাম পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
৮. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: টবে রোপিত চারাগাছগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ড. আহসানের প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং রা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
হরমোন উৎপাদনে: মানবদেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমোন-ইনসুলিন জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপন্ন করা হয়। এছাড়াও ভাইরাস ও ক্যান্সার প্রতিরোধী ইন্টারফেরনও একইভাবে উৎপন্ন করা হয়।
টিকা উৎপাদনে: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন উৎপন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে অধিক পরিমাণে প্রতিষেধক তৈরি করা যায়।
বংশগতীয় রোগ নিরাময়: হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া, ইউরোকাইনেজ ইত্যাদি জিনঘটিত বংশগত রোগ নির্ণয় ও গর্ভাবস্থার শুরুতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেনিলকেটোনুরিয়া নিরাময় সম্ভব।
রোগ নির্ণয়ে: বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণের প্রচলিত পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে DNA প্রোব, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ও এন্টেনেটাল ডায়াগোনোসিস সরাসরি ও কার্যকরভাবে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জিন থেরাপিতে: জিনঘটিত রোগসমূহ জিনের প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। বর্তমানে বহু দুরারোগ্য রোগ জিন থেরাপির মাধ্যমে নিরাময়ের চেষ্টা চলছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।