ড. রশিদ হারুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। তিনি নাট্যরূপ দেয়ার জন্য বিভিন্ন লোককবির পালা গান ও কাহিনি সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। একবার তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার দুইজন লোককবির লোকগাথা সংগ্রহ করেন। পরে তিনি ওই গাথাগুলোর নাট্যরূপ দিয়ে তাঁর বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা অভিনয় করান। পরে রেকর্ডিং করে সাবা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিলেন।
'ভূয়োদর্শন' মানে অনেক দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা।
উক্তিটির মাধ্যমে পল্লিসাহিত্যের ওপর পল্লির সব সন্তানের সর্বজনীন অধিকারের দিকটি বোঝানো হয়েছে।
পল্লিসাহিত্যের ওপর সবার অধিকার স্বীকৃত। কোনো দেশের আলো-বাতাসের ওপর যেমন সবার অধিকার রয়েছে, মায়ের ওপর যেমন সব সন্তানের রয়েছে সমান অধিকার, তেমনই পল্লিসাহিত্যের ওপরও সবার অধিকার সমান। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। শ্রেণি-ধর্ম নির্বিশেষে পল্লির সব সন্তানই পল্লিসাহিত্যের ওপর অধিকার রাখে। প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে লেখক এই বিষয়হি বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপকের অধ্যাপক সাহেবের কাজের মধ্যে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লোকগাথা ও উপকথার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
পল্লিসাহিত্যের মধ্যে উপকথা, রূপকথা বা পল্লিগাথা অন্যতম সম্পদ। এসব অমূল্য সম্পদের সঙ্গে শহরে সাহিত্যের কোনো তুলনা হয় না। উপকথা, রূপকথা বা পল্লিগাথা পল্লির প্রাচীন সম্পদ।
উদ্দীপকের অধ্যাপক ড. রশিদ হারুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের একজন অধ্যাপক। তিনি মানিকগঞ্জে থেকে দুজন কবির লোকগাথা সংগ্রহ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন লোককবির পালাগান ও কাহিনি সংগ্রহ করেন। নাট্যরূপ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা অভিনয় করান। 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধেও বিভিন্ন উপকথার কথা বলা হয়েছে, যা আমাদের লোকগাথার অন্তর্ভুক্ত। পল্লিসাহিত্যের এই উপকথা বা রূপকথাগুলি অমূল্য রত্নবিশেষ। এছাড়াও রয়েছে ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদার থলে, মৈমনসিংহ গীতিকা ইত্যাদি। এক অফুরন্ত ভান্ডার পল্লির ঘাটে-মাঠে ছড়ানো আছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের অধ্যাপক সাহেবের কাজের মধ্যে আলোচ্য প্রবন্ধের লোকগাথা ও উপকথার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
"অধ্যাপক ড. রশিদ হারুন-এর পদক্ষেপ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়াকেই তুলে ধরেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পল্লিসাহিত্য বাংলা সাহিত্যের প্রাণস্বরূপ। নানা কারণে পল্লিসাহিত্য আজ বিলুপ্তির পথে। আমাদের উন্নত সমাজভাবনা ও সাহিত্যের ব্যাপকতার জন্য পল্লিসাহিত্য একান্ত জরুরি।
উদ্দীপকের ড. রশিদ হারুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। তিনি নাট্যরূপ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন লোককবির পালাগান ও কাহিনি সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি এগুলোর নাট্যরূপ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা অভিনয় করান। 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধেও লেখক বলেছেন, বিভিন্ন রূপকথা, পল্লিগাথা, ছড়া প্রভৃতি দেশের আলো-বাতাসের মতো সবার সাধারণ সম্পত্তি। এজন্য সবারই উচিত এগুলো সংরক্ষণ করা। এগুলো সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য তিনি সবাইকে সচেতন করতে চেয়েছন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়োজন অনুভব করেছেন।
উদ্দীপকের অধ্যাপক ড. রশিদ হারুন লোকগাথা, কাহিনি, পালাগান সংগ্রহ করে সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন। নাট্যরূপ দিয়ে সেগুলোকে সময়োপযোগী করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক বাংলার লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ আহরণের কথা বলেছেন। এসব বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
