| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ড. সোহেল গবেষণাগারে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

ড. সোহেল গবেষণাগারে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে আলুর মুকুল থেকে অনেকগুলো চারা তৈরি করলেন। অন্যদিকে ড. মিজান B ক্যারোটিন এবং আয়রন উৎপন্নকারী জিনসমৃদ্ধ ভুট্টার জাত আবিষ্কার করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
ছত্রাকের যে দৈহিক অংশ শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট সূত্রাকার হাইফি দ্বারা গঠিত তাকে মাইসেলিয়াম বলে।
জীন প্রকৌশলের মাধ্যমে ফসলের জিনগত বিন্যাস পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রাপ্ত কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের ফসলকে জিএম ফসল বা জেনিটিক্যালি মডিফাইড ক্রপ বলে। যেমন- ফসলের জিনগত বিন্যাস বদলানো, ফসলের দিবা দৈর্ঘ্য সংবেদনশীলতার জন্য দায়ী জিন ছাঁটাই করা অথবা পরিবর্তন আনা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চারা তৈরি টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব।
উদ্ভিদের যেকোনো বিভাজনক্ষম অঙ্গ (যেমন-শীর্ষমুকুল, কক্ষমুকুল, কচি পাতা বা পাপড়ি ইত্যাদি)থেকে পূর্ণাঙ্গ চারা উদ্ভিদ সৃষ্টি করাকে টিস্যু কালচার বলে।
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ধাপসমূহ :
১। মাতৃউদ্ভিদ বা এক্সপ্লান্ট নির্বাচন : এক্সপ্লান্ট নির্বাচন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত কাণ্ডের শীর্ষমুকুল, পার্শ্বমুকুল এক্সপ্লান্ট হিসেবে অধিক ব্যবহৃত হয়। পাতার শীর্ষও ব্যবহৃত হয়। যে উদ্ভিদ থেকে এক্সপ্লান্ট নেয়া হয় বা হবে সেটি হলো মাতৃউদ্ভিদ। মাতৃউদ্ভিদটি অবশ্যই নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে হবে।
২। কালচার মিডিয়াম বা আবাদ মাধ্যম তৈরি: বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান , ভিটামিন, সুকরোজ , ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা প্রয়োজন। মাধ্যমকে ঘন করতে জমাট বাঁধার উপাদান, যেমন- অ্যাগার, সঠিক মাত্রায় মেশাতে হয়। মৌলিক উপাদান সমৃদ্ধ আবাদ মাধ্যমকে ব্যাসাল মিডিয়াম বলে। মিডিয়ামের pH ৫.৫-৫.৮ এর মধ্যে রাখা হয়।
৩। জীবাণুমুক্তকরণ বা নির্বীজকরণ : মিডিয়ামকে অটোক্লেভ যন্ত্রে ১২১° সে তাপ ,১৫ পাউন্ড চাপ ও ২০ মিনিট সময় রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪। মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট বা টিস্যু স্থাপন : এক্সপ্লান্টকে সম্পূর্ণ নির্বীজ অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করা হয়।
৫। ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি : মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট স্থাপনের পর পাত্রটিকে একটি বৈদ্যুতিক আলো , তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা হয়। এক্সপ্লান্ট মিডিয়ামে স্থাপন করার পর আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রিত করে রাখলে অবয়বহীন অবিন্যস্ত টিস্যুগুচ্ছ ক্যালাস সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।
৬। মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর ও চারা উৎপাদন : মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মিডিয়ামে রাখা হয় এবং সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারাগাছে পরিণত হয় ।
৭। চারা টবে স্থানান্তর : উপযুক্ত সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়।
এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে আলুর চারা তৈরি সম্ভব ।
উল্লেখিত পদ্ধতিটি দ্বারা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
রিকম্বিনেন্ট DNA বর্তমান বিশ্বের একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি।এটি কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার করা হয়।যেমন-
ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরিতে,ফসলের গুণগত মান উন্নয়নে,ভিটামিন A সমৃদ্ধ সুপার রাইস বা গোল্ডেন রাইস তৈরিতে,রোগ প্রতিরোধক্ষম জাত উদ্ভাবনে,নাইট্রোজেন সংবন্ধনে, দ্যুতিময় উদ্ভিদ সৃষ্টিতে, বীজহীন ফল সৃষ্টিতে, ভুট্টাকে খরা প্রতিরোধী করা, ‘পীনাট’ উদ্ভিদকে লবণাক্ততা সহিষ্ণু করা রিকম্বিনেন্ট DNA এর মাধ্যমেই করা হয়েছে।এছাড়াও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটির সম্ভাবনা অনেক।যেমন- এটির মাধ্যমে ইন্টারফেরনস,ইনসুলিন তৈরি করা হয়,
টিস্যু প্লাসমিনোজেন অ্যাকটিভেটর তৈরি করা হয়,
ইরিথ্রোপোইটিন তৈরি করা হয়। কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এর পাশাপাশি পরিবেশ ব্যবস্থাপনাও এটির ভূমিকা আছে।
এটি দ্বারা কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য অপসারণ, সমুদ্রে নির্গত তেল পরিশোধন
পয়ঃবর্জ্য বা সিউয়েজ আত্তীকরণ ইত্যাদি করা হয়।
সুতরাং বলা যায়,কৃষিক্ষেত্রে,চিকিৎসাক্ষেত্রে ও পরিবেশ ব্যাবস্থাপনায় রিকম্বিনেন্ট DNA অনবদ্য সাফল্যের পদচিহ্ন রেখেছে।