| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ডাক্তার হাবিবের বাসায়…’ ২০১৩ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ডাক্তার হাবিবের বাসায় আরেক ডান্তার দম্পতি রোজি ও ইমরান বেড়াতে এসেছে। তিনজনে গল্পে মগ্ন। হাবিবের নির্দেশে স্ত্রী ডলি উঠে যায় চা-নাশতা আনার জন্য। একসময়ে নাশতা দিয়ে চলে যায় রান্নাঘরে। তখনও ওরা গল্প করছে। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে ডলির বেশি লেখাপড়া হয়নি। মেধাবী ডলি রান্নাঘরে কেমিস্ট্রি, সুতো গুণে সেলাই করার সময় অঙ্ক, বালিশের ওয়াড় সেলাই করার সময় জ্যামিতি এবং সংসারের অপরাপর কাজের মধ্যে বায়োলজি ও ফিজিক্সের দেখা পেলেও দুর্ভাগ্য তার ওদের মতো লেখাপড়া শিখে ডাস্তার হতে পারেনি দে। আজ তার নাম ‘হাউজ ওয়াইফ’। সারা দিন ধরে বাড়ির সব কাজ সামলাতে পারলেও স্বীকৃতিহীন জীবনে তার কোনো অনুভূতি নেই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
ক্রিস্টোফার কলম্বস প্রসিদ্ধ ইতালীয় নাবিক এবং আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কর্তা।
➤ কম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছে বেশি কিছু আশা করাকে সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলানোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
➤ যাকে কোনোকালে বীরত্বসূচক শিক্ষা দেওয়া হয়নি তার কাছে যদি বীরত্বপূর্ণ কাজ আশা করা হয় তাহলে তা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষকে ব্যায়ামের মাধ্যমে সুঠাম ও খৃষ্টপুষ্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে প্রথম থেকেই তা করতে হবে। শরীরকে ভালো রাখতে চাইলে নারী-পুরুষ উভয়েরই ব্যায়াম করা আবশ্যক। আমাদের দেশে অনেক অভিভাবক আছেন যারা পরিবারের সবাইকে ব্যায়াম না করিয়ে হঠাৎ কোনো ছেলেকে পালোয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাদের এই চাওয়াকেই প্রাবন্ধিক বাল করে সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠার ফলানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সারকথা: কোনো একটা বিষয়ে ভালো ফল পেতে হলে অভ্যাসের প্রয়োজন। হঠাৎ করে দু-একজনকে দিয়ে জোর করে ভালো ফল পেতে চাইলে তা সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলানোর মতো অবস্থায় পরিণত হয়।
➤ যথার্থ শিক্ষার অভাবে উদ্দীপকের ডলির মতো নারীদের মনমানসিকতার যে চিত্র দেখা যায় 'অর্ধালী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সেই দিকটিরই ইঙ্গিত করেছেন।
➤ প্রকৃত শিক্ষার অভাবে মানুষের মনমানসিকতা বিকশিত হয় না। পুরুষশাসিত সমাজ নারীকে যথার্থ মূল্যায়ন না করে শিক্ষা-দীক্ষা থেকে দূরে রেখে দাসীতে পরিণত করে। স্বামীর হুকুম পালন ও রান্নাবান্নার কাজ করাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
➤ উদ্দীপকে দেখা যায়, ডলি বেশিদূর পড়ালেখা করতে পারেনি। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও এখন তার সময় কাটে স্বামীর হুকুম পালন করে এবং রান্নাঘরে রান্নার কাজ করে। তার স্বামী ডাক্তার হলেও তার পরিচয় 'হাউজ ওয়াইফ'। স্বামীর কথাবার্তায় অংশগ্রহণ করার মতো বুদ্ধি বা ইচ্ছা কোনোটাই তার নেই। পুরুষশাসিত সমাজের অবহেলিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার এই মনমানসিকতার দীন অবস্থা। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীর যে পশ্চাৎপদ মানসিকতার কথা বলেছেন উদ্দীপকের ডলি তার যথার্থ প্রতিচ্ছবি।
সারকথা: 'অর্থালী' প্রবন্দে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীর যে হীন মনমানসিকতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন উদ্দীপকের চলি • মানসিকতায় তা স্পষ্ট। প্রভু স্বামীয় যুকুম পালন ও রান্নাবান্নার কাজেই তার জীবন সীমাবদ্ধ।
➤ উদ্দীপকের ডলির জীবন বিকাশের অন্তরায়। প্রচলিত সমাজব্যবস্থা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সমাজব্যবস্থা যখন নারীশিক্ষা তথা নারীর উন্নতির বিরুদ্ধে থাকে তখন নারীজাতি প্রকৃত মূল্যায়ন পায় না। গৃহবন্দি হয়ে পড়ে তারা, পায় না বিকশিত হওয়ার সুযোগ। পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা তাদের পদে পদে নিগৃহীত করে।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে নারীরা পদে পদে লাঞ্ছনা ও কঞ্চনার শিকার নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ না দিয়ে পুরুষসমাজ তাদের দাসীর মতো জীবনযাপনে বাধ্য করে। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, ডলি উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ঘরের কাজকর্ম এবং স্বামীর হুকুম পালনেই তার জীবন সীমাবদ্ধ। মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রচলিত সমাজব্যবস্থার কারণে সে আজ ভাগ্যবিড়ম্বিত, মর্যাদাহীন এক নারী।
➤ উদ্দীপকে দেখা যায় প্রচলিত সমাজব্যবস্থার কারণে ডলি গৃহকোণে আবদ্ধ হয়ে দিন কাটায়। সমাজ পুরুষকে মূল্যায়ন করায় তার উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। প্রচলিত সমাজব্যবস্থা অনুযায়ী স্বামীর হুকুম পালন ও সাংসারিক কাজকর্মেই সে আবন্ধ। 'অর্থালী' প্রবন্ধেও এ ধরনের সমাজব্যবস্থার কথাই বলা হয়েছে, যা নারীর জীবন বিকাশের অন্তরায়। তাই বলা যায়, 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উল্লিখিত সমাজব্যবস্থাই উদ্দীপকের ডলির জীবন বিকাশের অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে।
সারকথা: পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষ নিজের একচ্ছত্র প্রভুত্ব বজায় রাখতে নারীকে দমিয়ে রাখে। এ ধরনের সমাজে নারীর জীবন বিকগির হয় না। 'অর্থালী' প্রবন্ধে এ কথাই বলা হয়েছে যা উদ্দীপকের ডলির জীবন বিকাশের অন্তরায় হিসেবেও প্রকাশমান।