| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ডাক্তার অপূর্ব রংপুর…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ডাক্তার অপূর্ব রংপুর বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলেন একটি স্কুল বাসে একজন শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের ছড়া-গান শেখাতে শেখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষিকাকে তার চেনা চেনা মনে হলো। তার সঙ্গেই কি অপূর্বের বিয়ে হবার কথা ছিল? অপূর্বের কৌতূহল আর কোলাহলের মধ্যেই বাসটি চলে গেল। শিক্ষিকাকে দেখে মনে হলো স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী। ভাস্তার অপূর্বের মনে পড়ল সেই বিখ্যাত গানের কলি: আমার বলার কিছু ছিল না,………..।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
'অপরিচিতা' গল্পে ব্যাঙ্গার্থে অনুপমকে গজাননের ছোট ভাই বলা হয়েছে।
অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে দেওয়াটাকে অনুপমের মামা ঠাট্টা মনে করলে শম্ভুনাথ সেন একথা বলেছিলেন।
অনুপমের মামা বিয়ের আগেই সেকরা দিয়ে কনের গায়ের গয়না যাচাই করে দেখেতে চান তা আসল কি না। এ কারণে শম্ভুনাথ সেন অপমানিত বোধ করেন। গয়না যাচাইয়ের ব্যাপারে পাত্রের নির্লিপ্ততা দেখে তিনি এমন ব্যক্তিত্বহীন ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি পাত্রপক্ষকে যথাযথ আপ্যায়নের পর গাড়ি ডেকে বিদায় দিতে চাইলে অনুপমের মামা এ বিষয়টি ঠাট্টা মনে করেন। এর জবাবে তিনি বলেন 'ঠাট্টার সম্পর্ককে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।'
গল্পে কল্যাণীর প্রতি অনুপমের গভীর আকর্ষণ প্রকাশ পেয়েছে; যা তাকে ও উদ্দীপকের ডাক্তার অপূর্বকে সাদৃশ্য এনে দিয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হয়। কল্যাণীকে না দেখেই তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় অনুপমের মনে। অনুপমের মামা বিয়ের আসরে সেকরা দিয়ে কনের গয়না পরীক্ষা করে দেখেন। এ কারণে অপমানিত হয়ে কল্যাণীর বাবা অনুপমের সাথে মেয়ে বিয়ে না দিয়েই বরযাত্রী বিদায় করেন। বিয়ে ভেঙে গেলেও অনুপম কল্যাণীকে ভুলতে পারেনি। অন্যদিকে, কল্যাণী মেয়েদের উন্নয়নে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত হয়। মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে ট্রেনে কল্যাণীকে দেখে অনুপমের তাকে স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী বলে মনে হয়।
উদ্দীপকের ডাক্তার অপূর্ব বাসস্টপেজে একটি স্কুলবাস দেখেন। সেই বাসের একজন শিক্ষিকাকে তার চেনা মনে হলো। তিনি ভাবতে লাগলেন, এমন একজনের সাথেই তার বিয়ের কথা হয়েছিল। অপূর্বের কৌতূহলী মনকে বেশি কিছু ভাবার সুযোগ না দিয়েই বাসটি চলে যায়। কিন্তু বাসের ওই শিক্ষিকাকে তার স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী বলে মনে হয় যা গল্পের অনুপমের ভাবনার অনুরূপ। গল্পের কল্যাণীর প্রতি অনুপমের যে আকর্ষণ লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের ডাস্তার অপূর্বের মাঝেও তা লক্ষণীয়। আর এই অনুরূপ মনোভাব প্রকাশের দিকটিই তাদের দুইজনকে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চরিত্রে বেশ কিছু উন্নত মানবিক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে; যেগুলোর সমগ্রতা উদ্দীপকের শিক্ষিকার মাঝে দেখা যায় না।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী দৃঢ়চেতা মনোভাবাপন্ন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন নারী। বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে গেলেও সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েনি। নিজেকে সে দেশের কল্যাণে, নারীদের উন্নয়নে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত করে। তৎকালীন সমাজবাস্তবতার বিরূপ পরিবেশে কল্যাণী সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা ডাক্তার অপূর্বের স্কুলবাসে হঠাৎ দেখা এক শিক্ষিকার সাথে পরিচিত হই। তাকে ঘিরে অপূর্বের মনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। শিক্ষিকার প্রতি অপূর্বের আকর্ষণ সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্দীপকের সেই শিক্ষিকার স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীকে আমরা উদার, পরোপকারী, স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী নারী হিসেবে দেখতে পাই। সে তার বাবা ও নিজের সম্মান বজায় রাখতে অনুপমকে বিয়ে করেনি। অনুপম দ্বিতীয়বার পাণিপ্রার্থী হলে তার বাবা মেনে নেন কিন্তু নারীশিক্ষা বিকাশে দেশের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কল্যাণী তা প্রত্যাখ্যান করে।
উদ্দীপকে ডাক্তার অপূর্বের সাথে স্কুল শিক্ষিকার বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই। সেই শিক্ষিকার পরিচয়ও উদ্দীপকে আলোচনা করা হয়নি। অপরদিকে গল্পে কল্যাণী চরিত্রকে দেশসেবায় নিয়োজিত হওয়া এবং তাতেই সংকল্পবদ্ধ থাকার মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের শিক্ষিকার মধ্যে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চারিত্রিক প্রবণতাসমূহ আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।