| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ডাক্তার সাহেব রোগীদের…’ a – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ডাক্তার সাহেব রোগীদের বললেন যে, দেহে প্রবেশ করা জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে দুইভাবে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। যার একটি জন্মগত এবং অপরটি অর্জিত। এ দুই ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থাই হলো ইমিউনতন্ত্র। [ রাজশাহী বোর্ড ২০১৬ ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
চার্লস রবার্ট ডারউইন একজন ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী। যিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব ও জৈব বিবর্তনের প্রবক্তা।
মেমোরি কোষ হলো কতকগুলো বিশেষ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা যারা মানুষের অনাক্রম্যতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে। এরা মানবদেহে রোগ ও সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করে দেহের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করে। মানুষের অনাক্রম্যতন্ত্রে প্রধানত দুই ধরনের মেমোরি কোষ থাকে যথা: মেমোরি T কোষ এবং মেমোরি B কোষ।
উদ্দীপকের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুটি হলো জন্মগত বা সহজাত এবং অপরটি অর্জিত। নিচে সহজাত এবং অর্জিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুটির মধ্যে ভিন্নতা তুলে ধরা হলো-
১. জন্মের সময় মানুষের দেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে তাকে সহজাত প্রতিরক্ষা বলে। অন্যদিকে টিকার মাধ্যমে দেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয় তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা বলে।
২. সহজাত প্রতিরক্ষার অনাক্রম্যতা প্রদায়ী উপাদান জিনঘটিত বা শারীরবৃত্তীয়, অপরদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষার উপাদান অ্যান্টিজেন প্রণোদিত।
৩. সহজাত প্রতিরক্ষা জিনের বহিঃপ্রকাশ দ্বারা আবির্ভূত হয়, অন্যদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষা টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে আবির্ভূত হয়।
৪. সহজাত প্রতিরক্ষা জীবাণু প্রবেশের কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে সাড়া প্রদান করে, অন্যদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষা অ্যান্টিবডি পাওয়ার ৫-১৪ দিন পর সাড়া প্রদান করে।
৫. সহজাত প্রতিরক্ষার মেমোরি সাড়া প্রদান করে না, অন্যদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষার মেমোরি সাড়া প্রদান করে।
৬. সহজাত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে রক্ত বা কলারসের দ্রবীভূত উপাদান হলো অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড ও প্রোটিন, অন্যদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে রক্ত বা কলা রসের দ্রবীভূত উপাদান হলো অ্যান্টিবডি।
৭. সহজাত প্রতিরক্ষার প্রধান কোষীয় উপাদান হলো ফ্যাগোসাইটস, কিলারকোষ, ডেনড্রাইট কোষ, অন্যদিকে অর্জিত প্রতিরক্ষার প্রধান কোষীয় উপাদান হলো- B-লিম্ফসাইট ও T-লিম্ফসাইট।
উদ্দীপকের তন্ত্রটি হলো ইমিউনতন্ত্র। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য তন্ত্রটির ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক নাসিকা ছিদ্র, মুখ ছিদ্র, ত্বক, জনন ছিদ্র ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করে আবার আমাদের অজান্তেই অধিকাংশ জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। দেহের ভিতরে ও বাইরে রোগ জীবাণু ধ্বংসের এক জটিল ব্যবস্থাপনা রয়েছে যা ইমিউনতন্ত্র নামে পরিচিত। মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ৩টি স্তরে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরে ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, লোম, লাইসোজাইম এনজাইম, সিরুমেন, পৌষ্টিক নালির এসিড, রক্ত তঞ্চন, রেচন- জননতন্ত্রের এসিড ইত্যাদি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে দেহকে রোগজীবাণু মুক্ত রাখে।
২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: নিম্নলিখিত ৬ ধরনের নন-স্পিসিফিক ২ প্রতিরক্ষা পদ্ধতি নিয়ে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর গঠিত। যেমন- ফ্যাগোসাইট, সহজাত মারণকোষ, প্রদাহ, কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারফেরন ও জ্বর। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে দেহের ভিতরে বিদ্যমান জীবাণু ধ্বংস হয়ে থাকে যদিও ধ্বংস না হয় তবে তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর কাজ করে।
৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর বহিরাগত অণুজীব বা কণা কোনোভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে দেহে অনুপ্রবিষ্ট হলে প্রতিরক্ষা স্তরের সর্বোত্তম সক্রিয়, শক্তিশালী ও স্থায়ী অনাক্রম্য সাড়ার সম্মুখীন হয়। তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর সহজাত ও অর্জিত এ দুই ধরনের। সহজাত যা জন্মগতভাবে প্রাপ্ত আর অর্জিত যা ভ্যাক্সিন বা টিকার মাধ্যমে প্রাপ্ত।
সুতরাং বলা যায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ইমিউনতন্ত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।