| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ডাক্তারি পেশায় যশ…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ডাক্তারি পেশায় যশ কামিয়ে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েও নিজ গ্রামের মানুষকে ভুলে যাননি ডা. সামি। তিনি সেখানে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। গ্রামের প্রভাবশালী হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সামাদ মিয়ার আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সুবিধার কথা ভেবে ডা. সামিকে দাতব্য হাসপাতাল স্থাপনে সহযোগিতা করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
"তোমার জন্য আমার মায়া হয়”- মজিদ জমিলাকে এ কথাটি বলেছিল।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে অত্যাচারী মজিদের ভয়ে জমিলার সতর্ক হয়ে ওঠাকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মব্যবসায়ী মজিদের দ্বিতীয় বউ কিশোরী জমিলা। তার মাঝে কৈশোরের চাঞ্চল্য বিদ্যমান এবং তার কাছে মজিদ কর্তৃক ধর্মের কঠোরতা অত্যাচারতুল্য। মজিদ তাকে নানান বিষয়ে জোর করে, অনেক বিধি মানতে বাধ্য করে, তার দোষ ধরে। এ কারণে সে সব সময় মজিদের ভয়ে তটস্থ থাকে। তাই মজিদের হঠাৎ আগমনে তার চোখ হরিণের চোখের মতো সতর্ক হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের ডা. সামির উদ্যোগ 'লালসালু' উপন্যাসের প্রগতিশীল যুবক আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস গ্রামের ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য স্কুল স্থাপন করতে চাইলে মজিদ, গ্রামের মোড়ল খালেক ব্যাপারীসহ সবাই তাকে বাধা দেয়। ফলে শেষপর্যন্ত তাঁর স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেস্তে যায়।
উদ্দীপকের ডা. সামি একজন সুচিকিৎসক। প্রচুর অর্থ-বিত্ত উপার্জন করলেও তিনি নিজের গ্রামকে ভুলে যাননি। তাই গ্রামের মানুষের সুচিকিৎসার জন্য তিনি সেখানে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একইভাবে 'লালসালু' উপন্যাসের আত্মসচেতন ও প্রগতিশীল এক যুবক আক্কাস। গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। মূলত উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উদ্দীপকের ডা. সামির উদ্যোগ আলোচ্য উপন্যাসের আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার ঘটনাকেই মনে করিয়ে দেয়।
মনোভাবের দিক বিবেচনায় "উদ্দীপকের সামাদ মিয়া আর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ভিন্ন চেতনার মানুষ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে আধুনিকমনস্ক ও যুক্তিবাদী তরুণ আক্কাস। সে মহব্বতনগর গ্রামের ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে একটি স্কুল স্থাপন করতে চায়। কিন্তু মজিদের নেতৃত্বে গ্রামের মোড়ল খালেক ব্যাপারীসহ মুরব্বিরা তাকে এ কাজে বাধা দেয়। এ কারণে তার স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যায়।
উদ্দীপকে ডা. সামি নামের এক স্বনামধন্য চিকিৎসকের কথা বলা হয়েছে। তিনি চিকিৎসা করে খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি প্রচুর অর্থবিত্তেরও মালিক হন। আর সেই অর্থকে কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রামে তিনি একটি দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এতে হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক সামাদ মিয়ার আয় কমে যাওয়ার 'সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে উদার মনের সামাদ মিয়া জনকল্যাণের কথা ভেবে ডা. সামিকে এ কাজে সাহায্য করেন। এদিকে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মধ্যে ভিন্নরূপ পরিলক্ষিত হয়। সে সব সময় নিজের স্বার্থের কথাই ভেবেছে।
'লালসালু' উপন্যাসের এক কূটকৌশলী চরিত্র মজিদ। মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও ভাবভক্তিকে পুঁজি করে নিজের আখের গুছিয়েছে সে।
এমতাবস্থায় গ্রামের মানুষ শিক্ষিত হয়ে উঠলে তার ধর্মব্যাবসার পথ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ধর্মের দোহাই দিয়ে কৌশলে সে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের সামাদ মিয়া উদার চিত্তের একজন মানুষ। এ কারণে ডা. সামাদ গ্রামে দাতব্য চিকিৎসালয় গড়তে চাইলে নিজের আয় কমে যাবে জেনেও তাকে সাহায্য করেন। মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই তিনি এমনটি করেন, যা আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের ভাবনার বিপরীত। সেই বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।