ডারউইনের মতে পৃথিবীতে দুইটি প্রাণী বা প্রাণীগোষ্ঠী সম্পূর্ণভাবে এক রকম নয়। বংশগতির তথ্য স্থানান্তরে DNA এর ভূমিকা থাকলেও একই প্রজাতির মধ্যে এমনকি পিতা-মাতার সন্তানদের মধ্যেও পার্থক্য দেখা যায়। অবিরাম সংগ্রামের ফলে নিজেকে রক্ষার জন্য নানারকম শারীরিক পরিবর্তন ঘটে।
পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো বংশগতি।
কোনো প্রজাতির তার নিজস্ব পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশলকে অভিযোজন বলে। অর্থাৎ অভিযোজন বলতে কোনো জীবের নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকা, উন্নতি করা 'এবং বংশবিস্তারের জন্য তার গঠন, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া বা আচরণে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনাকে বুঝায়। এটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জীবের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বংশগতীয় উপাদানটি হলো DNA যা ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান। DNA হলো দ্বিসূত্রক, প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো বা ডাবল হেলিক্স। DNA ডাবল হেলিক্স মডেলটির গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
DNA দ্বিসূত্রক, দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডান দিকে প্যাঁচানো থেকে একটি ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিঁড়ির হাতল তৈরি হয় পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট শর্করা (ডি-অক্সিরাইবোজ), নাইট্রোজেনঘটিত বেস ও অজৈব ফসফেট দ্বারা। DNA-এর নাইট্রোজেন বেসগুলো হলো অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন ও সাইটোসিন। একটি সূত্রের অ্যাডিনিন অন্য সূত্রের থায়ামিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা (A = T) যুক্ত থাকে। আবার একটি সূত্রের গুয়ানিন অন্য সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা যুক্ত থাকে। হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ ঘূর্ণন ৩৪৪ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। একটি পূর্ণ ঘূর্ণনের মধ্যে ১০টি নিউক্লিওটাইড থাকে। পার্শ্ববর্তী দুটি নিউক্লিওটাইডের দূরত্ব ৩.৪Å। DNA ডবল হেলিক্সের ব্যাস ২০৪।
ডারউইনের মতে পৃথিবীতে দুটি প্রাণী বা প্রাণীগোষ্ঠী সম্পূর্ণভাবে একরকম নয়। অবিরাম সংগ্রামের ফলে নিজেকে রক্ষার জন্য নানারকম শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। উদ্দীপকের আলোকে শেষোক্ত উক্তিটি মূল্যায়ন করা হলো-
জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন এ ধরনের সংগ্রামকে "অস্থিত্বের জন্য সংগ্রাম" বলে অভিহিত করেন। ডারউইন লক্ষ করেন যে, জীবনের তিনটি পর্যায়ে এই সংগ্রাম করতে হয়। সেগুলো
হলো-
১. আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম: পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী সংগ্রামে লিপ্ত। যেমন- ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়। আবার, ময়ূর সাপ এবং ব্যাঙ দুটোকেই খায়- এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একটি নিষ্ঠুর জীবনসংগ্রাম গড়ে ওঠে।
২. অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম: একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যদের খাদ্য এবং বাসস্থান একই রকমের হওয়ায় এদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এরা নিজেদের মধ্যেই বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু করে; উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, একটি দ্বীপে তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে গেল খাদ্য এবং বাসস্থান সীমিত থাকায় তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে সংগ্রাম শুরু করে। সবল প্রাণীগুলো দুর্বল প্রাণীদের প্রতিহত করে গ্রাসাচ্ছাদন করে। ফলে দুর্বল প্রাণীগুলো কিছুদিনের মধ্যেই অনাহারে মারা পড়ে।
৩. পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম: বন্যা, খরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বালিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত-এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। সুতরাং জীবকে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত এসব প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়। যে প্রাণীগুলো এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, তারা বেঁচে থাকে অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, উত্তর এবং মধ্য আমেরিকার কোয়েল পাখি প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারপাতের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
