| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’। পুত্র ঔরঙ্গজেবের হাতে দারা, সুজা আর মুরাদের মৃত্যু বৃদ্ধ সম্রাট সাজাহানকে যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত করে তোলে। তাঁর বন্দিদশা, পিতৃহৃদয়ের হাহাকার এই নাটকটিকে শ্রেষ্ঠ ট্রাজেডি নাটকে পরিণত করেছে। সম্রাট সাজাহানের নাম অনুসারে নাটকের নাম ‘সাজাহান।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলা মানিকচাঁদকে কলকাতার দেওয়ান নিযুক্ত করেন।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজরা পালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্ত্রব্যটি করা হয়েছে।
১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন। ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলার ফাকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যান। তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হতে থাকা নবাব সিরাজউদ্দৌলার যে মর্মবেদনা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উঠে এসেছে তা উদ্দীপকে সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। এই যুদ্ধে তাঁর ভরসা ছিল মোহনলাল, মিরমর্দানের মতো অমাত্যদের দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের জন্য তাঁদের প্রতি সিরাজউদ্দৌলার সন্তানবাৎসল্য দেখা দেয়। কিন্তু তাঁর দরবারে ছিল টিপু মিরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভদের মতো বিশ্বাসঘাতকেরা। এই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী পরাজিত হতে শুরু করে। ফলে যন্ত্রণায় দগ্ধ হন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
উদ্দীপকের সম্রাট সাজাহান যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। তাঁর এই মর্মবেদনার কারণ এক পুত্র ঔরঙ্গজেবের হাতে অন্যান্য পুত্র দারা, সুজা ও মুরাদের মৃত্যু। এক সন্তানের হাতে অন্য সন্তানদের মৃত্যু সম্রাট সাজাহানের পিতৃহৃদয়কে বেদনাসিক্ত করে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোহনলাল, মিরমর্দানদের মতো দেশপ্রেমিকের মৃত্যুতে সিরাজউদ্দৌলার ব্যক্তি হৃদয়ও হাহাকার করে ওঠে। অতএব বলা যায়, সন্তানবাৎসল্য ও বন্দিদশার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য রয়েছে।
সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে ট্রাজেডি নাটকের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
ট্রাজেডি নাটক একদিকে দর্শকের মনে করুণা ও ভয়ের সঞ্চার করে, অন্যদিকে এক ধরনের প্রশান্তিও জাগায়। এই বিষয়টি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব। তিনি দেশপ্রেমিক একজন শাসক। কিন্তু প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও কতিপয় অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। তাঁর এই পরাজয় নাটকের শেষ দিকে করুণরসের সঞ্চার করে।
উদ্দীপকে সম্রাট সাজাহানের পিতৃহৃদয়ের হাহাকারের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। নিজ পুত্রের হাতে অন্য তিন পুত্রের মৃত্যুতে তিনি যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন। এই ঘটনা ট্রাজেডি নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য করুণরসের সঞ্চার করে।
সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বলিষ্ঠ ও সংগ্রামী এক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই সংগামী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও কিছু অমাত্যের ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি করুণ পরিস্থিতির শিকার হন। উদ্দীপকেও ট্রাজেডি নাটকের এই দিক প্রতিফলিত হয়েছে। নিজ সন্তান ঔরঙ্গজেবের হাতে দারা, সুজা ও মুরাদের মৃত্যুতে বন্দি সাজাহান যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে ট্রাজেডি নাটকের যে আবহ তৈরি হয়েছে সে বিষয়টিই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটককে ট্রাজেডির সার্থক মাত্রায় উন্নীত করেছে।