| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দ্বিস্তরী প্রাণীদের দেহে…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দ্বিস্তরী প্রাণীদের দেহে বিশেষ এক ধরনের কোষ থাকে যার
অভ্যন্তরে প্যাঁচানো সুতাযুক্ত থলের ন্যায় একটি অঙ্গাণু থাকে
এবং প্রাণীদের অভ্যন্তরে ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত এক ধরনের সবুজ
জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তরের মাঝে আঠালো জেলির মত অকোষীয় স্তরটি হল মেসোগ্লিয়া।
হৃদপিন্ডের মধ্য দিয়ে কেবল কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে রুই মাছে হৃদপিণ্ড ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃদপিণ্ড বলা হয়।
সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে হৃদপিণ্ড রক্ত পরিবহন করে। কপাটিকা সমূহের নিয়ন্ত্রণের ফলে হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠ গুলোর মধ্যে রক্ত সংবহন এর একমুখীতা দেখা যায় এবং এ ধরণের হৃৎপিণ্ডকে একচক্রী হৃৎপিণ্ড বলে। হৃদপিণ্ড থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত একমুখী প্রবাহে অক্সিজেন সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ফুলকায় প্রেরিত হয় এবং ফুলকা থেকে সারা দেহ হয়ে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। এভাবে কেবল কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে রুই মাছের হৃদপিণ্ড কে ভেনাস হার্ট বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গানুটি হলো হাইড্রার নেমাটোসিস্ট।নিম্নে এর প্রকারভেদ বর্ণনা করা হলো -
নিক্ষিপ্ত সূত্রের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানী ভার্নার 1965 সালে নিডেরিয়া জাতীয় প্রাণীদের দেহ থেকে 23 ধরনের নেমাটোসিস্ট শনাক্ত করেছেন। এরমধ্যে নিম্নে চার ধরনের নেমাটোসিস্ট হাইড্রাইড পাওয়া যায়।
১) স্টিনোটিল বা পেনিট্রেন্ট : এরা বৃহত্তম, এদের সূত্র লম্বা, ফাঁপা, তিনটি বড় তীক্ষ্ণ বার্ব ও তিন সারি সর্পিল আকারে সজ্জিত অতিক্ষুদ্র বারবিউল যুক্ত । এর ভিতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত তরল থাকে। শিকারকে অজ্ঞান ও অবশ করার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
২)ভলভেন্ট বা ডেসমোনিম : এগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট নেমাটোসিস্ট । সূত্রটি খাটো মোটা কাটাবিহীন এবং বন্ধ শীর্ষ যুক্ত। এটি শিকার কিংবা কোন বস্তুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৩) ট্রেপটলিন গ্লুটিন্যান্ট বা হলোট্রিকাস আইসোরাজা: এর সূত্র লম্বা সর্পিল আকারে সজ্জিত কাটাযুক্ত কিন্তু সুগঠিত নয় এবং শীর্ষ দেশ উন্মুক্ত। এগুলো আঠালো রস ক্ষরণ করে চলনে এবং শিকার আটকাতে সহায়তা করে।
৪)স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট বা এট্রিকাস আইসোরাইজা : এগুলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট। এদের সূত্র লম্বা, কাটা বিহীন, কিন্তু সুগঠিত নয় এবং শীর্ষ দেশ উন্মুক্ত ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিস্তরী প্রাণীটি হলো হাইড্রা এবং এর ভেতরে অবস্থানকারী প্রাণীটি হলো Zoochlorella সবুজ শৈবাল। জীব দুটির এ ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক হল মিথোজীবিতা।
যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থানের ফলে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হয়, তখন এ ধরনের সহচার্যে মিথোজীবিতা বলা হয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একত্রে বাস করা।
Hydra viridissima (=Chlorohydra viridissima) নামক সবুজ হাইড্রা ও জুওক্লোরেলা নামক এককোষী সবুজ শৈবালের মধ্যে মিথোজীবিতা সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায় । এ শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসে বসবাস করে এবং হাইড্রাকে সবুজ বর্ণ ধারণ করে। এরা একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমে বেঁচে থাকে এবং কখনোই বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
এ সহাবস্থানে শৈবাল হাইড্রার দেহে পেশি আবরণী কোষে আশ্রয় পায় । হাইড্রার শ্বসনের সৃষ্ট কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে। হাইড্রার বিপাকীয় কাজে উদ্ভূত নাইট্রোজেন(N2) জাত পদার্থকে আমিষ তৈরীর কাজে ব্যবহার করে।
অপরদিকে হাইড্রা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে খাদ্য প্রস্তুত করে তার উদ্ধৃত অংশ গ্রহণ করে শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাব পূরণ করে। সালোকসংশ্লেষণকালে শৈবাল যে অক্সিজেন নির্গত করে তা শ্বসন কাজে ব্যবহার করে। হাইড্রো শ্বসনের সৃষ্ট কার্বন-ডাই-অক্সাইড শৈবাল গ্রহণ করে প্রাণীকে ঝামেলামুক্ত করে। হাইড্রার বিপাকে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য শৈবাল কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় হাইড্রা বর্জ্যপদার্থ মুক্ত হয়।
এভাবে জুওক্লোরেলা শৈবাল এবং হাইড্রা একে-অপরকে সহায়তা করে।তাই তাদের এ সহাবস্থান মিথোজীবিতা হিসেবে পরিচিত ।