| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দ্বিস্তরী প্রাণীরা গ্যামেট…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দ্বিস্তরী প্রাণীরা গ্যামেট ছাড়াই গ্রীষ্মকালে এক বিশেষ ধরনের জনন সম্পন্ন করে। এরা লম্বা ও অল্প দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে চলন সম্পন্ন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
Hydra নেমাটোসিস্টের ভিতরে অবস্থিত ফেনল ও প্রোটিন সহযোগে গঠিত এক ধরনের বিষাক্ত তরল পদার্থকে হিপনোটক্সিন বলা হয়।
ভূণীয় বিকাশের সময় প্রকৃত সিলোমের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ব্লাস্টোসিলের সাথে একাকার হয়ে যায় এবং পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে ঐ সংযুক্ত গহ্বর পেরিটোনিয়াম নামক পর্দায় আবৃত থাকে না। এরকম সিলোমকে হিমোসিল বলে। এটি রক্তপূর্ণ থাকে তাই রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে হিমোসিল বলে। ঘাসফড়িং এর হিমোসিল দুটি অণুপ্রস্থ পর্দা দিয়ে তিনটি প্রকোষ্ঠ বা সাইনাসে বিভক্ত। হিমোসিল দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, রক্ত ও লসিকা ধারণ করে। এর মাধ্যমে খাদ্যরস ও বর্জ্য বস্তু পরিবাহিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ জনন প্রক্রিয়াটি হলো Hydra-র মুকুলোদগম বা কুঁড়ি সৃষ্টি। নিচে Hydra-র মুকুলোদগম প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
এটি Hydra-র একটি সাধারণ প্রজনন পদ্ধতি। খাদ্যের প্রাচুর্যতার কারণে গ্রীষ্মকালে Hydra দেহে মুকুলোদগম ঘটায়। মুকুললোদগম প্রক্রিয়া নিম্নলিখিত ধাপে সংঘটিত হয়-
১. প্রক্রিয়ার শুরুতে দেহের মধ্যাংশ বা নিম্নাংশের কোনো স্থানের এপিডার্মাল ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে একটি ক্ষুদ্র স্ফীতি অংশের সৃষ্টি করে।
২. এটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ফাঁপা, নলাকার মুকুল বা কুঁড়িতে পরিণত হয়। এতে ক্রমশ এপিডার্মিস, মেসোগ্লিয়া ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস গঠিত হয়। মাতৃপ্রাণীর সিলেন্টেরন মুকুলের কেন্দ্রে প্রসারিত হয়।
৩. মুকুলটি মাতৃপ্রাণী হতে পুষ্টি গ্রহণ করে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবঙ শীর্ষপ্রান্তে মুখছিদ্র, হাইপোস্টোম ও কর্ষিকা গঠন করে।
৪. এসময় মাতৃপ্রাণী ও মুকুলের সংযোগস্থলে একটি বৃত্তাকার খাঁজের সৃষ্টি হয়; এ খাঁজটি ক্রমে গভীর হয়ে মুকুল তথা অপত্য হাইড্রাকে মাতৃপ্রাণী হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
৫. অপত্য হাইড্রার বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রান্তে পদচাকতি গঠিত হয় এবং এটি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন শুরু করে।
একই সময়ে একটি হাইড্রার দেহে একাধিক মুকুল সৃষ্টি হতে পারে। Hydra-র একটি মুকুলোদগম সম্পন্ন হতে সময় লাগে 2 হতে 3 দিন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো Cnidaria পর্বের দ্বিস্তরী প্রাণী Hydra। Hydra-র চলন প্রক্রিয়ায় লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য লুপিং (হামাগুড়ি) প্রক্রিয়া এবং দ্রুত চলার জন্য সমারসল্টিং (ডিগবাজী) প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। নিচে উক্ত চলন প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে তুলনা করা হলো-