| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দীপ শিখা গার্মেন্টসের…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – মাসি পিসি, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দীপ শিখা গার্মেন্টসের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত হয় গার্মেন্টস কর্মী দম্পতি জলিল ও রাবেয়া। তাদের একমাত্র মেয়ে জোবাইদা অনাথ হয়ে আশ্রয় নেয় বৃদ্ধ নানা-নানির সংসারে। গরিব নানা-নানি তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে তাকে বিয়ে দেয় পাশের গ্রামের আকিবের সাথে। কিন্তু সুখের মুখ দেখা হলো না জোবাইদার। আকিব তাকে মারধর করে এবং সারাদিন কিছু না খেতে দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। স্বামীর এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আবার ফিরে আসে নানানানির কাছে। নানা-নানি এতে ভীষণ কষ্ট পায়, তবু পরম যত্নে আগলে রাখে অসহায় জোবাইদাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
হাতে দুটো পয়সা এলে কৈলাশের স্বভাব বদলে যায় ।
আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখে জল আসে ।
আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোটো মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই মেয়েটা মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে।
উদ্দীপকের আকিব চরিত্রটি 'মাসি-পিসি' গল্পের জগু চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জগু আহ্লাদির স্বামী। সে মদ্যপ ও অত্যাচারী। সে আহ্লাদিকে নানাভাবে অত্যাচার করে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আহ্লাদি মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানেও সে আহ্লাদিকে শান্তিতে থাকতে দেয় না। নানাভাবে ভয় দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়।
উদ্দীপকের আকিব একজন অত্যাচারী স্বামী। সে তার স্ত্রী জোবাইদাকে সবসময় মারধর করে। খেতে না দিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখে। স্বামীর এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জোবাইদা তার নানা-নানির কাছে ফিরে যায়। তাই বলা যায়, স্ত্রী নির্যাতন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন অমানবিক চিন্তা-চেতনার দিক থেকে আকিব ও জগু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের নানা-নানির অবস্থা মাসি ও পিসির মতোই হৃদয়বিদারক। কারণ, আপনজনের নিদারুণ দুর্ভোগ তাদের মেনে নিতে হয় ।
'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসির জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। মাসি- পিসি দুজনই আহ্লাদির বাপের আশ্রয়ে থাকত। তাই আহ্লাদি পরিবারহারা হলে তারাই আহ্লাদির পাশে দাঁড়ায়। বাবা-মায়ের মতো আগলে রাখে। নিজেদের চেয়ে তারা আহ্লাদির প্রতি বেশি যত্নশীল। তাই স্বামীর দ্বারা পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদির বারবার নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং আহ্লাদির প্রতি লালসা-উন্নত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমায়েশদের আক্রমণ মাসি ও পিসির জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
উদ্দীপকের নানা-নানি তাদের নাতনি জোবাইদাকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর জোবাইদাকে তার নানা- নানিই বড়ো করে। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে পাশের গ্রামে বিয়ে দেয়। কিন্তু অত্যাচারী স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আবার নানা-নানির কাছে ফিরে আসে। জোবাইদার জীবনের এই দুঃখ- কষ্ট সত্যিই তার নানা-নানির জন্য কষ্টকর।
আহ্লাদির জীবনের করুণ পরিণতি মাসি-পিসির জন্য কষ্টের। তাইতো তারা আহ্লাদিকে কিছুতেই স্বামীর সংসারে পাঠাতে চায় না। স্বামীর অত্যাচার এবং বিরূপ পরিবেশ থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে। অন্যদিকে জোবাইদাকে তার নানা-নানি নিজের সন্তানের মতো আগলে বড়ো করেছেন। তার নিদারুণ দুর্ভোগ সত্যিই তাদের জন্য অনেক কষ্টের। তাইতো পরমযত্নে তারা অত্যাচারিত জোবাইদাকে নিজেদের কাছে রাখেন । আপনজনের জীবনের করুণ পরিণতি তাদের জীবনে সে অসহায়ত্ব নিয়ে আসে তা সত্যই হৃদয়বিদারক। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।