| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দীর্ঘ ৫০ বছর…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দীর্ঘ ৫০ বছর পথে-ঘাটে সাপখেলা দেখিয়ে সংসার চালিয়েছে ঝড়ু সর্দার। আত্মীয়-পরিজন হারিয়ে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে সর্দারজি। পনেরো বছরের মেয়ে স্বর্ণময়ী এখন তার একমাত্র ভরসা। কয়েকদিন ধরে খাবারের ব্যবস্থা হয়নি বলে সাপ নিয়ে স্বর্ণময়ী রাস্তায় বেরিয়েছে। কিন্তু আজকাল লোকে সাপখেলা দেখে না। এমন অবস্থা দেখে প্রতিবেশী ব্রাহ্মণের ছেলে রাজন স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করে তাদের দায়িত্ব নেয়। এই ঘটনায় সমাজ রাজনের পরিবারকে একঘরে করে রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
'বিলাসী' গল্পের ন্যাড়া দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত।
"গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।"- এ কথা 'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া বলেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করার কারণে এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে।
'বিলাসী' গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী রাত জেগে সেবা করে মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে বিলাসীকে বিয়ে করলে তার খুড়া জাতভেদের কথা 'তুলে গ্রামটা রসাতলে গেল বলে তোলপাড় শুরু করেন। সমাজে তার আর মুখ দেখানোর জায়গা থাকল না, সবাইকে ডেকে ডেকে এ কথা বলেন। বিয়ের কথা বাদ দিলেও, বিলাসীর হাতে সে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। গ্রামে যদি এর শাসন-বিচার না থাকে তাহলে তো বনে-জঙ্গলে গিয়ে বাস করতে হবে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলের জন্যই এমন তোলপাড় কান্ড করেছেন।
সাপ খেলা দেখিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করার দিক থেকে উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ও 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজে নানান শ্রেণি ও নানান পেশার মানুষ থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা সাপুড়ে। এরা সাপ খেলা দেখিয়ে পয়সা রোজগার করে এবং ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। সামাজিক শ্রেণি অবস্থানে এরা নিচু জাতের। 'বিলাসী' গল্পের তেমনই এক চরিত্র বিলাসী। সে সাপুড়ের কন্যা। পিতার বয়স হয়ে যাওয়ায় সে সাপ খেলা দেখিয়ে পয়সা উপার্জনের চেষ্টা করে। অর্থাৎ সে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করে। উদ্দীপকের স্বর্ণময়ীর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। তার পিতা বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়ায় সে সাপ নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। অর্থাৎ স্বর্ণময়ীও সাপ খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে সংসারের হাল ধরতে চায়, যা বিলাসী চরিত্রের অন্য রূপ। এভাবে সাপ খেলা দেখিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করার দিক দিয়ে উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের ভাববস্তু ও 'বিলাসী' গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
হিন্দু সমাজব্যবস্থায় জাতভেদ প্রথা প্রবল। তারা জাতিভেদের নামে সমাজে এক নির্মম প্রথা চালু করে রেখেছে। উঁচু জাতের হিন্দুর সাথে নিচু জাতের হিন্দুর প্রণয় সমাজ কখনই মেনে নেয় না। আসলে সমাজের এই ব্যবস্থা মানবতাবিরোধী।
'বিলাসী' গল্পটি হিন্দু সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে এক শ্লেষাত্মক আখ্যান। গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়, যে কায়স্থের ছেলে। সে যখন একা ঘরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল তখন এক সাপুড়ের কন্যা বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। এরপর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করে, আর তখনই বিপত্তি বাধে। উঁচু জাতের ছেলে হয়ে নিচু জাতের এক সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করে বলে সমাজ তাকে হেয় করে। তখন সে বিলাসীর সঙ্গে অন্য জায়গায় চলে যায়। যখন তার সাহায্য প্রয়োজন ছিল তখন সমাজ ছিল নির্বিকার আর বিয়ের, বেলায় জাতপ্রথা। আসলে গল্পকার এই প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে সমাজের ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করেছেন।
উদ্দীপকেও এমনই এক ভাববস্তু প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দেখা যায় ব্রাহ্মণ রাজন নিচু জাতের স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করার দরুন সমাজ তার পরিবারকে একঘরে করে দেয়। উদ্দীপকেও সমাজে প্রচলিত ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাববস্তু ও 'বিলাসী' গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।