| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দেহ জীবাণু দ্বারা…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দেহ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে ত্বক সর্বপ্রথম তাকে প্রতিহত
করে। ত্বক পরাস্ত হলে একটি বিশেষ রক্তকণিকা জীবাণুকে
ভক্ষণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
যখন কোনো অনুজীব বা অনুজীবঘটিত পদার্থ শরীরে ঢুকে অনাক্রম্যতা জাগানো হয় তখন তাকে টিকা বা ভ্যাকসিন বলে।
নিম্নে এন্টিজেন ও এন্টিবডির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো -
উল্লেখিত কনিকাটি হলো শ্বেতরক্তকণিকা।
শ্বেতরক্তকণিকায় ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দেহে প্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের দুই ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কর১)ম্যাক্রোফেজ ও ২) নিউট্রোফিল।
এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহ অনুপ্রবেশকারী জীবাণুম ভক্ষণ বা ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা দান করে। ইমিউন তন্ত্রের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে সমন্বিত কার্যকর ফ্যাগোসাইটোসিস চালু রাখা। ফ্যাগোসাইটোসিস বিভিন্ন ধাপে রোগজীবাণু সমুহ গ্রাস করে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো -
মনোসাইট হচ্ছে বৃক্ষাকার ও দানাহীন সাইটোপ্লাজম বিশিষ্ট শ্বেত রক্তকণিকা। মনোসাইট পরিণত হলে তাকে ম্যাক্রোফেজ বলে। ম্যাক্রোফেজ ক্ষনপদীয় চলন এর সাহায্যে স্থানান্তরিত হয় এবং ইমিউন সারাদানে মূল ভূমিকা পালন করে। ইমিউনতন্ত্রের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ম্যাক্রোফেজ নিউট্রোফিলের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ফ্যাগোসাইট হিসেবে কাজ করে। তখন একটি ম্যাক্রোফেজ প্রায় ১০০ টির মতো ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে। এরপর আসে নিউট্রোফিল । নিউট্রোফিল হচ্ছে ১২-১৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসসম্পন্ন,২-৫ খন্ড বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসযুক্ত সূক্ষ্ম দানাময় সাইটোপ্লাজম বিশিষ্ট শ্বেতরক্তকণিকা। এসব কণিকা ক্ষণপদীয় চলন প্রদর্শন করে। নিউট্রোফিল হচ্ছে সক্রিয় ফ্যাগোসাইটিক শ্বেত রক্তকণিকা। এগুলো বহিরাগত ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা যেকোনো অণুবীক্ষণিক প্রোটিন কণা গ্রাস করে নেয়। একটি নিউট্রোফিল তিন থেকে বিশটি ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে।
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এ প্রক্রিয়ায় প্রথমে ম্যাক্রোসাইট সক্রিয় হয়।ম্যাক্রোসাইটগুলো যখন সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন রাসায়নিক ক্ষরণে উদ্দীপ্ত হয়ে ক্ষতস্থানে জড়ো হতে থাকে সে প্রক্রিয়াকে বলে কেমোট্যাক্সিস। এরপর অনুজীবের ভক্ষণ হয় । সক্রিয় হওয়ার পর ক্রমশ অনুজীবের দেহতলের সংস্পর্শে এলে ফ্যাগোসাইটে দ্রুত যে ভৌত রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে তার ফলে ফ্যাগোসাইট ক্ষণপদ সৃষ্টি করে অনুজীব ভক্ষণে উদ্যত হয় এবং মাত্র ০.০১ সেকেন্ডে একটি ব্যাকটেরিয়াম ভক্ষণ সম্পন্ন করতে পারে । এভাবে শ্বেত রক্তকণিকা জীবনু ভক্ষণ করে।
প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত ত্বক ছাড়া আরো উপায় রয়েছে।
মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রধানত দুই প্রকার -
১) সুনির্দিষ্ট ও
২) অনির্দিষ্ট।
এবং তিনটি প্রতিরক্ষা স্তর রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরটি নন স্পেসিফিক। প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে ত্বক। ত্বক ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ ১ম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ হিসেবে কাজ করে। নিম্নে এগুলো উল্লেখ করা হলো -
১)সিলিয়া : মিউকাস ঝিল্লিময় অনেক অংশ অণুবীক্ষণিক ও সদা বহির্মুখী আন্দোলনরত সিলিয়ায় আবৃত থাকে। বহিরাগত কণা ও অনুজীব এই ঝিল্লির আঠালো মিউকাসে আটকে দলা পাকিয়ে হাঁচি-কাশি, থুতু হিসেবে বহিরাগত হয় কিংবা পাকস্থলীতে এসে পৌঁছায়।
২)লোম : নাকের ভেতরকার লোম ধূলামলা আটকে দেহের অভ্যন্তরে ক্ষতিকর পদার্থের যাতায়াত বন্ধ করে রাখে।
৩)সেরুমেন : বইীকরণের কর্ণকুহ নামক অংশের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হলদে বাদামী রঙের মোমের মত পদার্থকে সেরোমেন বলে। কানের পর্দায় যেন ময়লা ও অনুজীবের সংক্রমণে শ্রবণে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য সেরুমেনে আটকে শক্ত দলায় অর্থাৎ কানের খইলে পরিণত হয়।
৪)অশ্রু ও লালা: অশ্রু ও লালার লাইসোজাইম এনজাইম ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে কাজ করে।
৫)পৌষ্টিক নালীর এসিড : খাদ্য ও পানির সঙ্গে অনেক ধরনের ক্ষতিকর অনুজীব পাকস্থলীতে এসে জমা হয় এবং পাকস্থলীর শক্তিশালী হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের ক্রিয়ায় বিনষ্ট হয়।
৬)রেচন জননতন্ত্রের এসিড : রেচন-জননতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত অঙ্গের ক্ষরণ প্রচন্ড অ্যাসিটিক ও আঠালো হয়ে থাকে.। অনুপ্রবেশিত অনুজীব সহজে আঠালো ক্ষরনে আটকে যায় এবং পরে ফ্যাগোসাইট এগুলোকে গ্রাস করে বা মূত্রত্যাগের সময় সবেগে নিষ্ক্রান্ত হয়। যোনিতে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া লাইটিক এসিড ক্ষরণ করে অন্য অনুজীবের বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
৭)মাইক্রোবায়োম : দেহের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী বন্ধু অনুজীব রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীবদের সাথে পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। এতে অনেক সময় রোগ সৃষ্টি করে অনুজীব ধ্বংসপ্রাপ্ত হয।
৮)মলত্যাগ ও বমি : মলত্যাগ ও বমির মাধ্যমে অসংখ্য ক্ষতিকর অনুজীব দেহ থেকে বহিষ্কৃত হয়।
ত্বক ছাড়াও এভাবে উপরে উল্লেখিত অঙ্গগুলো প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে।