| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দেহ জীবাণু দ্বারা…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দেহ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে ত্বক সর্বপ্রথম তাকে প্রতিহত করে। ত্বক পরাস্ত হলে একটি বিশেষ রক্তকণিকা জীবাণুকে ভক্ষণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
ভ্যাক্সিন হলো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন।
অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে এবং প্রভাবে যে প্রোটিন জাতীয় বস্তু গ্রহীতার দেহে তৈরি হয় এবং নির্দিষ্টভাবে অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে আন্তঃক্রিয়া করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। জার্মান বিজ্ঞানী Paul Ehrlich সর্বপ্রথম 1897 সালে Antibody শব্দটি ব্যবহার করেন। অ্যান্টিবডি হলো রক্তে B লিম্ফোসাইট নিঃসৃত গ্লাইকোপ্রোটিন জাতীয় বৃহদাকৃতির রাসায়নিক অণু। এদেরকে রাসায়নিকভাবে ইমিউনোগ্লোবিন বলে। এগুলো রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত রক্তকণিকা হলো শ্বেতকণিকা। এই শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণে অংশ নেয়। নিচে শ্বেত কণিকার ভক্ষণ কৌশল বর্ণনা করা হলো-
১. অণুজীবের সাথে ফ্যাগোসাইট যুক্ত হয়। অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়াকে চিহ্নিত করে কিছু কমপ্লিমেন্ট প্রোটিন এদের অপসোনিন্স বলে। ব্যাকটেরিয়ার দেহপ্রাচীরে অপসোনিন যুক্ত হওয়াকে অপসোনাইজেশন বলে। সিরামে বিদ্যমান অপসোনিন নামক নির্দিষ্ট পদার্থ জীবাণু এবং ফ্যাগোসাইটের দৃঢ় সংযুক্তিতে সাহায্য করে।
২. ফ্যাগোসাইট কর্তৃক জীবাণুর চারপাশে ক্ষণপদ সৃষ্টি হয়।
৩. ফ্যাগোসাইটের ক্ষণপদ জীবাণুকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে দেহাভ্যন্তরে ঢুকিয়ে নেয় এবং যে গহ্বরটির সৃষ্টি হয় তাকে ফ্যাগোসাইটিক গহ্বর বলে।
৪. ফ্যাগোসোমের সাথে লাইসোজোম যুক্ত হয়ে যে গহ্বর সৃষ্টি হয় তাকে ফ্যাগোলাইসোজোম গহ্বর বলে।
৫. লাইসোজোমে অবস্থিত পাচক এনজাইম দ্বারা ফ্যাগোসোমের অভ্যন্তরের জীবাণু পাচিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
৬. পাচিত বস্তু দেহ থেকে অপসারিত হয়। একে এক্রোসাইটোসিস বলে। পরিশেষে এপিডার্মাল কোষ, ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ ইত্যাদি কোষসমূহ ক্ষতস্থান পূরণে অংশগ্রহণ করে থাকে।
উদ্দীপকে প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষায় উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ত্বক। ত্বক ছাড়াও এ স্তরে অন্য যেসব ভৌত রাসায়নিক প্রতিবন্ধক রয়েছে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. লোম: নাকের ভেতরকার লোম ধূলা-ময়লা আটকে দেহের অভ্যন্তরে ক্ষতিকর পদার্থের যাতায়াত বন্ধ করে রাখে।
২. সিলিয়া: দেহের প্রবেশপথে মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত অবস্থান থাকে। মিউকাস ঝিল্লিময় অংশগুলো সিলিয়ায় আবৃত থেকে বহিরাগত কণা ও অণুজীব আটকে দলা পাকিয়ে হাঁচি-কাশি থুথু হিসেবে বাইরে অথবা পাকস্থলিতে নিয়ে যায়।
৩. অশ্রু ও লালা: অশ্রু ও লালায় বিদ্যমান লাইসোজাইম এনজাইম ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে কাজ করে। লালা মুখ গহ্বরকে শুধু সিক্ত ও পিচ্ছিল রাখে না গহ্বরের প্রাচীর যাতে শুকিয়ে ফেটে না যায় সে কাজও করে।
৪. সিরুমেন: বহিঃকর্ণের কর্ণকুহর নামক অংশের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হলুদ-বাদামী রংয়ের পদার্থ (মোমের ন্যায়) যা সিরুমেন নামে পরিচিত। কানের পর্দায় যেন ময়লা ও অণুজীবের সংক্রমণে শ্রবণে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য সিরুমেন আটকে শক্ত দলায় পরিণত করে।
৫. পৌষ্টিকনালির এসিড: খাদ্য ও পানির সঙ্গে অনেক ধরনের ক্ষতিকর অণুজীব পাকস্থলিতে এসে জমা হয় যার ক্ষতিকর প্রভাব হতে পাকস্থলির HCI ও প্রোটিওলাইটিক এনজাইম রক্ষা করে।
৬. রেচন জননতন্ত্রের এসিড: রেচন জননতন্ত্রের এসিড অণুজীব ধ্বংসে অংশ নেয়। যেমন- ফেনির ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণ করে অণুজীবের আক্রমণ প্রতিহত করে।
উপরোক্ত উপায়ে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের ভৌত রাসায়নিক প্রতিবন্ধকসমূহ প্রতিরক্ষায় ভূমিকা পালন করে।