দেখা হলে মিষ্ট অতি
মুখের ভাব শিষ্ট অতি
অলস দেহ ক্লিষ্ট গতি
গৃহের প্রতি টান-
মাথায় ছোট বহরে বড়ো বাঙালি সন্তান।
[দিনাজপুর বোর্ড ২০১৫]
কৃষিকাজে পারদর্শিতা অপেক্ষা M.R.A.C. পাশ করা সহজ।
'পাশ বিক্রয় করা' বলতে লেখিকা সশরীরে পরিশ্রম না করে বিয়ের মাধ্যমে শ্বশুরের সম্পদ হস্তগত করার বিষয়কে নির্দেশ করেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারী-পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্যরসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি 'পাশ বিক্রয় করা' কথাটি বলে বাঙালি পুরুষের অলস চরিত্রের অন্য একটি দিক তুলে ধরেছেন। এই পাশ বিক্রেতার নাম 'বর' এবং ক্রেতাকে 'শ্বশুর' বলে। পাশের মূল্য অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী। এমএ পাশ অমূল্যরত্ন। নিতান্ত সস্তা দরে বিক্রয় করা হলে এর মূল্য এক রাজকুমারী এবং সমুদয় রাজত্ব। এই, 'পাশ বিক্রয় করা' বিষয়টিকে লেখিকা বাঙালির অন্যতম ব্যাবসা বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির অলস-আরামপ্রিয় স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালির মেধা ও জ্ঞানের অভাব না থাকলেও সেই মেধা ও বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করার মানসিকতার অভাব আছে। তারা অলস, আরামপ্রিয় ও কর্মবিমুখ। যার ফলে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে পিছিয়ে আছে।
উদ্দীপকে বাঙালির কর্মবিমুখতার কথা বলা হয়েছে। বাঙালি আরামপ্রিয় ঘরকুনো স্বভাবের। কাজ না করে আরামে, অলস বসে থাকতে চাওয়ার মানসিকতা বাঙালিকে পেছনে ফেলে রেখেছে। এই বিষয় সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। মুখে মধুর বাণী আছে তাদের, শুধু অন্তরে কর্মের স্পৃহা নেই। বাঙালির এই স্বভাব-বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকার আলোচনায়ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেখানে বাঙালির অলস-কর্মবিমুখ স্বভাব-বৈশিষ্ট্য কটাক্ষ করে লেখিকা তাদের আত্মসচেতন করে তুলতে চেয়েছেন। বাঙালি একদিকে শ্রমবিমুখ, অন্যদিকে আড্ডাপ্রিয়। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে তারা সংগ্রামকে ভয় পায়। সমস্যা-সংকট এড়িয়ে চলতে গিয়ে আরও বিপদ ডেকে আনে। এভাবে উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির এই অলস-কর্মবিমুখ স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বাঙালির যে নেতিবাচক দিকগুলো প্রকাশ পেয়েছে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধ অনুসারে সেগুলো, পরিবর্তনে বাঙালিকে মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি জাতির কর্মবিমুখতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কর্মবিমুখতা জাতীয় উন্নতির অন্তরায়। নিজের অবস্থার পরিবর্তন করে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য বাঙালি জাতির কাছে আলস্য পরিহার করে পরিশ্রমী হওয়ার বিকল্প নেই।
উদ্দীপকে বাঙালি সন্তানদের নেতিবাচক স্বভাব-বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। যারা মিষ্টি ভাষায় কথা বলে, তাদের ভাব শিষ্ট, তবে কাজের বেলায় তারা খুবই অলস। কাজ না করে গৃহে ফিরে যাওয়ার টানই তাদের বেশি। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির এসব বৈশিষ্ট্য হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেছেন। এগুলোর মাধ্যমে মূলত লেখিকা বাঙালি জাতিকে সঠিক পথে চলার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে আত্মসচেতন করার জন্য তাদেরকে কঠোর পরিশ্রমী হতে বলেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির আলস্য-আরামপ্রিয় স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাঙালি কীভাবে ক্লান্ত দেহকে টেনে আরামের জন্য গৃহকোণে নিয়ে যায় তা প্রকাশ পেয়েছে। এই অলসদের দিয়ে যে জাতীয় উন্নতি সম্ভব নয় তা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা ব্যাখ্যা করেছেন। এসব দিক পরিবর্তনের জন্য বাঙালিকে আত্মসচেতন করে তুলতে হবে। তাদেরকে অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের সুপ্ত শক্তি জাগ্রত করতে হবে। তাদেরকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে জনকল্যাণ সাধনে আগ্রহী করে তুলতে হবে, 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে ব্যঙ্গাত্মক ভাষার মাধ্যমে লেখিকা বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন।
